কালো টাকা সাদা করার সুযোগ থাকছে: পুঁজিবাজারে আসতে পারে বিপুল পরিমাণ অর্থ

শেয়ারবাজার রিপোর্ট: আসন্ন ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে কালো টাকা সাদা করার (অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ) সুযোগ থাকছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া। দেশের বাইরে টাকা পাচার রোধ করতে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ বহাল থাকবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় রাজস্ব ভবনের সভাকক্ষে প্রাক-বাজেট আলোচনায় এনবিআর চেয়ারম্যান এই অভিমত ব্যক্ত করেন। সভায় আবাসনখাতের সংগঠন রিহ্যাব, ওষুধ শিল্প সমিতি, সিমেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স এসোসিয়েশন, অটো রি-রোলিং মিলস এসোসিয়েশন, ইট-পাথর ব্যবসায়ী সমিতিসহ বিভিন্ন লিংকেজ শিল্পের প্রতিনিধিরা নিজ নিজ সংগঠনের প্রস্তাবনা তুলে ধরেন।

প্রসঙ্গত, বর্তমান আয়কর অধ্যাদেশের ১৯ই ধারায় বলা হয়েছে, নির্ধারিত করের অতিরিক্ত ১০ শতাংশ জরিমানা দিয়ে যেকোন খাতেই কালো টাকা বিনিয়োগ করা যায়। আর যেহেতু দেশের অন্যান্য খাতের তুলনায় পুঁজিবাজার লাভজনক বেশি তাই এ খাতে বিপুল পরিমাণ অপ্রদর্শিত অর্থ আসবে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে পুঁজিবাজারের পাশাপাশি দেশের আবাসন খাতেও প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগ হয়ে আসছে। কারণ এলাকাভিত্তিক নির্ধারিত হারে কর পরিশোধের মাধ্যমে কালো টাকা বা অপ্রদর্শিত অর্থ দিয়ে ফ্ল্যাট কেনা যায়। এক্ষেত্রে এনবিআর অর্থের উৎস সম্পর্কে প্রশ্ন করবে না বলে আয়কর অধ্যাদেশে রয়েছে।

জানা গেছে, গত অর্থবছরে যেসব শর্তে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেয়া হয়েছিল সেগুলো হলো: পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি ব্যতীত অন্য সব শ্রেণীর করদাতা ১০ শতাংশ হারে কর প্রদান সাপেক্ষে নির্ধারিত তারিখের মধ্যে সংশ্লিষ্ট উপ-কর কমিশনারের নিকট নির্ধারিত ছকে কর অনারোপিত আয়ের ঘোষণা প্রদান করতে হবে। ঘোষিত কর ও অনারোপিত আয়ের উৎস সম্পর্কে কোনো প্রশ্ন উত্থাপন করা হবে না। ঘোষণাপত্রের সঙ্গে ১০ শতাংশ হারে কর পরিশোধের সমর্থনে পে-অর্ডার এর কপি, বিনিয়োগের সমর্থনে পোর্টফোলিও স্টেটমেন্ট ও বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিও) অ্যাকাউন্টের লেজারের কপি সংযোজন করতে হবে। বিনিয়োগকৃত অর্থ নির্দিষ্ট তারিখ পর্যন্ত উত্তোলন বা অন্যত্র স্থানান্তর করা যাবে না। এছাড়া কেবল বৈধ আয় যার ওপর প্রযোজ্য কর প্রদান করা হয়নি, তা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের মাধ্যমে সাদা করা যাবে। তবে অপরাধমূলক কর্মকান্ড বা দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত আয় সাদা করার সুযোগ পাবে না।

উল্লেখ্য, স্বাধীনতার পর থেকে এখন পর্যন্ত কালো টাকা সাদা করার সুযোগ মোট ১৫ বার দেয়া হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি কালো টাকা সাদা করা হয় ২০০৭-০৮ অর্থবছরে। ঐ বছরে মোট ৮ হাজার ৮৯৫ কোটি টাকা সাদা করা হয়।

 

শেয়ারবাজারনিউজ/ম.সা

আপনার মন্তব্য

*

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Top