দেখে নিন কোন ৯০ কোম্পানির শেয়ারে সোনালি ব্যাংকের বিনিয়োগ ৪৮৪ কোটি টাকা

শেয়ারবাজার রিপোর্ট: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ৯০ কোম্পানির শেয়ারে ক্রয় মূল্যের ভিত্তিতে মোট ৪৮৪ কোটি ৩০ লাখ ৩৪ হাজার টাকা বিনিয়োগ করেছে দেশের সবচেয়ে বড় রাষ্ট্রায়ত্ত্ব সোনালি ব্যাংক। ৩১ ডিসেম্বর ২০১৭ সমাপ্ত বছরের নিরীক্ষা প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

আলোচিত বছরে ব্যাংকটির হিসাব নিরীক্ষা করেছে এস এফ আহমেদ এন্ড কো এবং হাওলাদার ইউনূস এন্ড কো।

নিরীক্ষা প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, তালিকাভুক্ত ৯০ কোম্পানির শেয়ারে সোনালি ব্যাংকের বিনিয়োগ ৪৮৪ কোটি ৩০ লাখ ৩৪ হাজার টাকা। ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত শেয়ারগুলোর বাজার মূল্য ছিল ৪১৫ কোটি ৪০ লাখ ৩৩ হাজার টাকা। শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করে ব্যাংকটির লোকসান ৬৮ কোটি ৯০ লাখ টাকা।

এই ৯০ কোম্পানির মধ্যে ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতের ৪০ কোম্পানির শেয়ারে ৩১ ডিসেম্বর ২০১৭ সমাপ্ত সময়ের হিসাবে বাজার মূল্যে বিনিয়োগ ২৩৭ কোটি ২ লাখ ১২ হাজার টাকা। যার ক্রয় মূল্য ২৪৯ কোটি ১২ লাখ ১৮ হাজার টাকা। বিনিয়োগে লোকসান ১২ কোটি ১০ লাখ ৬ হাজার টাকা।

বীমা খাতের তিন কোম্পানির শেয়ারে ৩১ ডিসেম্বর ২০১৭ সমাপ্ত সময়ের হিসাবে বাজার মূল্যে বিনিয়োগ এক কোটি ৬৮ লাখ ৯ হাজার টাকা। যার ক্রয় মূল্য ৬ কোটি ৫১ লাখ ৩ হাজার টাকা। বিনিয়োগে লোকসান ৪ কোটি ৮২ লাখ ৯৪ হাজার টাকা।

জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের ১২ কোম্পানির শেয়ারে ৩১ ডিসেম্বর ২০১৭ সমাপ্ত সময়ের হিসাবে বাজার মূল্যে বিনিয়োগ ৪৩ কোটি ৩৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা। যার ক্রয় মূল্য ৬২ কোটি ৫৭ লাখ ৯০ হাজার টাকা। বিনিয়োগে লোকসান ১৯ কোটি ২১ লাখ ২০ হাজার টাকা।

 

উৎপাদন ও অন্যান্য খাতের ৩৫ কোম্পানির শেয়ারে ৩১ ডিসেম্বর ২০১৭ সমাপ্ত সময়ের হিসাবে বাজার মূল্যে বিনিয়োগ ১৩৩ কোটি ৩৩ লাখ ৪১ হাজার টাকা। যার ক্রয় মূল্য ১৬৬ কোটি ৯ লাখ ৬২ হাজার টাকা। বিনিয়োগে লোকসান ৩২ কোটি ৭৬ লাখ ২১ হাজার টাকা।

আলোচিত বছরে ব্যাংকটির কর ও সকল ধরণের সঞ্চিতি পরিশোধের পর সমন্বিত মুনাফা হয়েছে ৫২৪ কোটি ৩২ লাখ ২৫ হাজার টাকা এবং শেয়ার প্রতি সমন্বিত আয় (ইপিএস) হয়েছে ১৮.৬৮ টাকা। এর আগের বছর একই সময়ে সমন্বিত মুনাফা ছিল ৭৮ কোটি ২৩ লাখ ৯১ হাজার টাকা এবং সমন্বিত ইপিএস ছিল ৩.৯০ টাকা। ইপিএস বেড়েছে ৩৭৯ শতাংশ।

৩১ ডিসেম্বর ২০১৭ শেষে ব্যাংকটির শেয়ার প্রতি সমন্বিত প্রকৃত সম্পদ মূল্য (এনএভি) হয়েছে ১৫৯.৫৭ টাকা। যা এর আগের বছর একই সময়ে ছিল ১৭৫.২৫ টাকা। দেখা যাচ্ছে প্রকৃত সম্পদ কমেছে। ব্যাংকটির বর্তমান পরিশোধিত মূলধন ৪ হাজার ১৩০ কোটি টাকা। ২০১৬ সালে পরিশোধিত মূলধন ছিল ৩ হাজার ৮৩০ কোটি টাকা।

এদিকে সোনালী ব্যাংকের বড় ঋণগ্রহীতার মধ্যে রয়েছে পঝুজিবাজারে তালিকাভুক্ত বেক্সিমকো লি:। ব্যাংকটির কাছে তাদের মোট ঋণ এক হাজার ২৩৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে মন্দঋণ এক হাজার ২৩০ কোটি টাকা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দেয়া বিশেষ সুবিধা নিয়ে কোম্পানিটি ১ হাজার ৭৫ কোটি ৪১ লাখ টাকার ঋণ পুনর্গঠন করেছে। এর মধ্যে ডিমান্ড লোন ৩৭২ কোটি ৯২ লাখ টাকা ৬ বছরের জন্য এবং টার্ম লোন ৭০২ কোটি ৪৯ লাখ টাকা ১২ বছরের জন্য পুনর্গঠন করা হয়েছে।

এছাড়া বেক্সিমকো সিনথেটিকসের মোট ঋণ ৮৫ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে সন্দেহজনক ঋণ ২ কোটি ৪৫ লাখ ৪৮ হাজার টাকা এবং মন্দ ঋণ ৮২ কোটি ৯১ লাখ ৬০ হাজার টাকা।

ব্যাংকটির কাছে ঋণ পুনর্গঠন করেছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে ইচ্ছুক মডার্ন স্টীল মিলস লি:। কোম্পানিটি মোট ২৭৫ কোটি ২৭ লাখ টাকার ঋণ পুনরগঠন করেছে। এর মধ্যে ডিমান্ড লোন ২৩১ কোটি ৪৯ লাখ টাকা ৬ বছরের জন্য এবং টার্ম লোন ৪৩ কোটি ৭৮ লাখ টাকা ১২ বছরের জন্য পুনর্গঠন করা হয়েছে।

 

শেয়ারবাজারনিউজ/আ

আপনার মন্তব্য

*

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Top