ভরসা রাখুন, এগিয়ে যাবে সুহৃদ: চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান

শেয়ারবাজার রিপোর্ট: সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ারহোল্ডারদের ভাল ডিভিডেন্ড দেওয়া আমাদের প্রধান উদ্দেশ্য। পুরাতন পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কোম্পানি ও শেয়ারহোল্ডারদের অনেক ক্ষতি করেছে। আমরা সে ক্ষতি পুষিয়ে আরো বড় লক্ষ্যে এগিয়ে যাবো।

বর্তমান চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান কোম্পানির ভবিষ্যত নিয়ে আলাপচারিতায় শেয়ারবাজারনিউজ ডটকমের কাছে এমন মন্তব্য করেছেন।

তিনি বলেন, আগের পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনার অনেক অনিয়মের কারণে কোম্পানি আজ প্রায় ৩৩ কোটি টাকা পুঞ্জিভূত লোকসানে। নিরীক্ষা করে এ লোকসানের পরিমাণ নিশ্চিত করা হবে। এমনকি তারা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে কিস্তিও শোধ করেনি। যা কোম্পানিকে খেলাপি প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছে। এতে আমাদের শেয়ারহোল্ডাররাও ব্যাপক ক্ষতিগ্রহস্ত হয়েছেন।

বর্তমানে কোম্পানিটির ব্যাংক ঋণের পরিমাণ প্রায় সাড়ে ১০ কোটি টাকা। যা নিয়মিত করা হয়েছে।

এর থেকে পরিত্রাণ পেতে আমরা প্রথমেই পুঞ্জিভূত লোকসান ও অন্যান্য দায় কমিয়ে আনবো। এর জন্য কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন কমানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।

তিনি বলেন, আগের ম্যানেজমেন্ট এমন সব জায়গায় পণ্য বিক্রি করেছে আমরা খোঁজ নিয়ে দেখেছি যাদের কোন অস্তিত্ব নেই। তাই এসব জায়গায় আমাদের পাওনা টাকা আদায় সম্ভব নয়। এছাড়া কারখানায় প্রচুর ইনভেন্টরি পড়ে পড়ে নষ্ট হয়েছে। এসবের মূল্য ব্যালেন্স শিটে উল্লেখ থাকছে। অথচ এগুলো আর কখনোই কাজে আসবে না। তাই এসব দায় শূণ্যে নামিয়ে আনার জন্য পরিশোধিত মূলধন ৩১ কোটি টাকা কমানো হবে।

বর্তমানে কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন ৫২ কোটি ১৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা। এবং শেয়ার সংখ্যা ৫ কোটি ২১ লাখ ৫২ হাজার ৫০০। মূলধন হ্রাসের পর কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন হবে ২০ কোটি ৮৬ লাখ ১২ হাজার টাকা। আর শেয়ার সংখ্যা হবে ২ কোটি ৮ লাখ ৬১ হাজার। শেয়ার কমানো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শেয়ার কমানো হলেও বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না। কোম্পানি আইন ১৯৯৪ এর ধারা ৫৯ ও ৬০ অনুযায়ী ৫: ৩  হারে অর্থাৎ ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের প্রতি ৫ শেয়ারের বিপরীতে ৩টি শেয়ার কমানো হবে। শেয়ার দর সমন্বয়ের ক্ষেত্রে তিনি বলেন, ধরুন সুহৃদের প্রতিটি শেয়ারের দর ২০ টাকা। ৫টি শেয়ারের মূল্য হবে ১০০ টাকা। এখানে ৫: ৩ হারে অ্যাডজাস্ট করা হলে তখন ২টি শেয়ার দাম হবে ১০০ টাকা। এর অর্থ কারোর কাছে ৫টি শেয়ার থাকলে মূলধন হ্রাসের পর ৫ শেয়ারের সমান দরে তার কাছে ২টি শেয়ার থাকবে। সেক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের কোনো ক্ষতি হবে না।

আর শেয়ার কমানোর ফলে শেয়ার প্রতি আয় বেড়ে যাবে। কোম্পানির ডিভিডেন্ড দেওয়ার সক্ষমতাও বাড়বে। আর সক্ষমতা বাড়লে শেয়ার দর অবমুল্যায়িত থাকবে না।

আগামী ২৪ মে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া কোম্পানির বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) শেয়ার মূলধন কমানোর সিদ্ধান্তটি বিশেষ এজেন্ডা হিসেবে উপস্থাপন করা হবে। এজিএমে শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদন পেলে এটা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও উচ্চ আদালত আবেদন করা হবে। উচ্চ আদালত থেকে অনুমোদন লাভ করলে পরে এ সংক্রান্ত রেকর্ড ডেট জানানো হবে।

কোম্পানিটির বর্তমান ব্যবসায়িক অবস্থা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা মূলত পিভিসি ফিল্ম এবং ডিসপসেবল পণ্য। বাজারে এ দুটি পণ্যের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বরং চাহিদার তুলনায় আমাদের উৎপাদন অনেক কম। আমাদের উৎপাদন বাড়াতে হবে। তাই শেয়ারহোল্ডারদের বলবো আগামী দিনগুলোতে সুহৃদের অনেক ভাল ভাল খবর আসবে। তাই শেয়ারহোল্ডারদের ভরসা রাখতে আহবান জানান তিনি।

 

শেয়ারবাজারনিউজ/আ

 

আপনার মন্তব্য

Top