শেয়ারবাজারে ‘পুঁজি এবং আস্থা’ দুটোরই সংকট রয়েছে

শেয়ারবাজার রিপোর্ট: দেশের শেয়ারবাজারে ‘পুঁজি এবং আস্থা’ দুটোরই সংকট রয়েছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণ হওয়ার জন্য ভালো কোম্পানিকে শেয়ারবাজারে অন্তর্ভূক্তকরণ, তালিকাভুক্ত কোম্পানি ক্ষেত্রে কর্পোরেট কর কমানো, রাইট শেয়ার ইস্যুর ক্ষেত্রে নিয়মনীতি মেনে চলা, আইসিবিকে ১০ হাজার কোটি টাকার থোক বরাদ্দ এবং পুঁজিবাজার তদারকির জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা খুবই প্রয়োজন।

আজ বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে ‘পুঁজিবাজার উন্নয়নে করণীয়’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এসব কথা বলেন। পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী জাতীয় ঐক্য ফাউন্ডেশন এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরেন সংগঠনের সভাপতি মো. রুহুল আমিন আকন্দ।

তিনি বলেন, দেশের পুঁজিবাজারে বর্তমানে আস্থা ও পুঁজির দুই সংকটই বিরাজ করছে। পুঁজিবাজারে আসা আইপিওগুলোর অব্যবস্থাপনা, ডিভিডেন্ড না দিয়ে বোনাস শেয়ার ইস্যু করা, রাইট শেয়ার ইস্যুর ক্ষেত্রে নিয়মনীতি মেনে না চলার কারণে বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পুঁজির সংকট দূর করতে আইসিবিকে ১০ হাজার কোটি টাকা থোক বরাদ্দ প্রদান, অপ্রদর্শিত অর্থ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের সুবিধা অব্যাহত রাখার দাবি জানান তিনি।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) চেয়ারম্যান ড.এ. কে. আব্দুল মোমেন বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের উন্নয়নের গতিধারা খুব ভালো। জিডিপি ৭ শতাংশের উপরে। তবে প্রবৃদ্ধির তুলনায় দেশের পুঁজিবাজার খুবই দুর্বল। এটা আমাদের স্বীকার করতে হবে এবং এ থেকে উত্তরণের পথ খুঁজে বের করতে হবে। এখানে তালিকাভুক্ত কোম্পানির পরিমাণ কম।

তিনি বলেন, আমাদের রিজার্ভ পর্যাপ্ত। কিন্তু রিজার্ভ যদি কাজে লাগানো না যায়, অলস পড়ে থাকে তা দেশের জন্য মঙ্গলজনক নয়। তাই রিজার্ভকে কাজে লাগাতে বন্ড মার্কেটে বন্ড ছাড়া যেতে পারে।

পুঁজিবাজার বিশেষজ্ঞ ও আইসিবির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফায়েকুজ্জামান বলেন, অর্থনীতির বিকাশে পুঁজিবাজারের যে ভূমিকা থাকার কথা ছিল, দেশে তা দৃশ্যমান নয়। প্রবৃদ্ধির সঙ্গে পুঁজিবাজারের যে সম্পর্ক বাংলাদেশ সেখানে ব্যর্থ। পুঁজির সংকট দূর করতে আইসিবিকে ১০ হাজার কোটি টাকা থোক বরাদ্দ দেয়া যেতে পারে। আর ব্যাংকগুলোকে নিজেদের সমস্যা নিজেকেই দূর করতে পারে। তাছাড়া শেয়ারবাজারে মিউচ্যুয়াল ফান্ডকে আবারো চাঙ্গা করতে হবে। মিউচ্যুয়াল ফান্ড চাঙ্গা হলে দেশের শেয়ারবাজার অনেকটাই আস্থার বহি:প্রকাশ পাবে।

পুঁজিবাজার বিশেষজ্ঞ ড. আবু আহমেদ বলেন, দেশের শেয়ারাবাজারে বর্তমানে যেসব কোম্পানি প্রবেশ করেছে তাদের বেশিরভাগই ব্যাংক লোন নেওয়ার জন্য উঠে পরে লেগেছে। কারণ তারা জানে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হলেই ব্যাংক লোন নিতে অনেক সহজ হয়ে যায়। পরে দেখা যায় অনেক কোম্পানি ঋণ খেলাপি হয়ে পড়ে। বাজারে কোম্পানি তালিকাভুক্ত করার জন্য অবশ্যই কোম্পানির প্রকৃত অবস্থা যাচাই-বাচাই করে তাদের তালিভুক্ত করতে হবে। কারণ বাজারে কতোগুলো কোম্পানি আছে তা মূখ্য বিষয় নয়, কিন্তু কয়টি কোম্পানিতে আমি ৫ থেকে ৬ বছরের জন্য বিনিয়োগ করতে পারবো তাই মূখ্য।

তিনি আরো বলেন, তালিকাভুক্ত কোম্পানির ক্ষেত্রে কর্পোরেট কর কমানো দরকার। সারা পৃথিবীর পুঁজিবাজারই জুয়ার আসর। কৃত্রিম উপায়ে অন্যান্য দেশে ১০ শতাংশ দাম বাড়ানো সম্ভব হলেও বাংলাদেশে তা অনেক বেশি। মার্কেট যদি স্থিতিশীল করা না যায় তাহলে ৮ শতাংশের প্রবৃদ্ধির স্বপ্ন, স্বপ্নই থেকে যাবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক ড. মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, দীর্ঘমেয়াদে পুঁজিবাজার তখনই স্থিতিশীল হবে যখন বাজারে ভালো কোম্পানি আসবে। ব্যাংক থেকে টাকা এনে বাজার স্থিতিশীল করা যাবেনা। বাজারের প্রতি যে আস্থা নেই তা বুঝা যাচ্ছে, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী যখন ডেইলি ট্রেডার হয়ে যাচ্ছে। এবং অনেক ক্ষেত্রেই নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো দেশের পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ।

শেয়ারবাজারনিউজ/এম.আর

আপনার মন্তব্য

*

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Top