অল্প টাকায় কিনতে পারলেই বেশি মুনাফা করা যায়

মার্কেটের বর্তমান যে সমস্যা সেটার মূল কারণ হচ্ছে ব্যাংক-লিজিংয়ের আর্নিং সিজন চলছে। আর প্রথম প্রান্তিকে বেশিরভাগ কোম্পানির আর্নিং ভয়ঙ্কর খারাপ হয়েছে। যদিও সারাজীবন ব্যাংক-লিজিংয়ের প্রথম প্রান্তিক খারাপ হয়ে থাকে। কারণ একটি ব্যাংক যখন ব্যবসা করবে তখন প্রথমেই সে পরিকল্পনা করে বছরজুড়ে কিভাবে ব্যবসা করবে। এগুলো করতে করতেই সময় চলে যায়। এ কারণে প্রথম প্রান্তিকে বেশি ব্যবসা হয় না। তবে দ্বিতীয় প্রান্তিকে ব্যবসা বেড়ে যায়, ‍তৃতীয় প্রান্তিকে তা আরো বাড়ে এবং ফাইনালে গিয়ে ভালো মুনাফা করে থাকে। বর্তমানে ব্যাংক-লিজিংয়ের প্রথম প্রান্তিক নিয়ে বেশিরভাগ বিনিয়োগকারী যতটা টেনসনে রয়েছে আসলে এতোটা নেগেটিভ চিন্তা করা ঠিক নয়। কারণ প্রতিবছরই প্রথম প্রান্তিক খারাপ থাকে।

আরেকটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে- এবারের প্রথম প্রান্তিকে দেশে মোটামুটি একটি ভয়ঙ্কর লিক্যুইডিটি ক্রাইসিস গেছে। বেশিরভাগ ব্যাংকই টাকা দিতে পারেনি। আর টাকা যদি নাই দেয় তাহলে ব্যবসা বাড়বে কিভাবে। আর ব্যাংক-লিজিংয়ের শেয়ার দর নেমে যাওয়ার কারণে ইনভেষ্টররা আস্থা সংকটে ভুগছে।

এদিকে গেল কিছুদিন আগে অধিকাংশ ব্যাংকের ডিভিডেন্ড ঘোষণা করা হয়েছে। ব্যাংকগুলো থেকে এবারই সবচেয়ে বেশি বোনাস শেয়ার ঘোষণা করা হয়েছে। সেই বোনাস শেয়ার রেকর্ড ডেটের পরের দিন থিউরিটিক্যাল অ্যাডজাষ্টমেন্ট হয়েছে। যে কারণে অনেক ব্যাংকের শেয়ার দর ৫ শতাংশ বা তার বেশি পর্যন্ত পড়ে গেছে। আর এবার এবি ব্যাংক নো ডিভিডেন্ড ঘোষণা করায় একদিনেই ব্যাংকটির শেয়ার দর মারাত্মক পতন হয়েছে।

যদিও বর্তমান মার্কেটে অনেক শেয়ারে গেম হচ্ছে। কিন্তু উল্লেখিত কারণে সামগ্রিক মার্কেট নেগেটিভ ট্রেন্ডে যাচ্ছে। তবে আগামী ১৫ মে’র মধ্যে ব্যাংক ও লিজিং কোম্পানিগুলোর প্রথম প্রান্তিক আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশের শেষ দিন। এসময়ের মধ্যে সবগুলো ব্যাংক ও লিজিং কোম্পানির প্রথম প্রান্তিক প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। অনেক পোর্টফোলিও ম্যানেজার, বিনিয়োগকারীরা আগামী ১৫ তারিখের পর প্রথম প্রান্তিক প্রতিবেদনগুলো তুলনামূলক বিশ্লেষণ করে বিনিয়োগে আসবে।

আর একটি কথা না বললেই নয়, সারা পৃথিবীতে ব্যাংকের শেয়ারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে শুধু তাদের আর্নিংকে বিবেচনা করা হয় না। ব্যাংকের শেয়ারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে তাদের নেট অ্যাসেট ভ্যালু (এনএভি) বিবেচনা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ ব্যাংকের নেট অ্যাসেট ভ্যালু বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে সংরক্ষিত থাকে। এটা অনেক সিকিউরড। যেমন এবি ব্যাংকের নেট অ্যাসেট ভ্যালু ৩১.৬৫ টাকা। এর বর্তমান শেয়ার দর ১৩.১০ টাকা। ওয়ার্ল্ড প্রাকটিসে দেখা যায়, ব্যাংক ও লিজিং কোম্পানির শেয়ার দর নেট অ্যাসেট ভ্যালুর কাছাকাছি থাকে। কিন্তু আমাদের পুঁজিবাজারের বেশিরভাগ ব্যাংক-লিজিং কোম্পানির শেয়ার দর বর্তমানে আন্ডার ভ্যালুড অবস্থায় রয়েছে। অর্থাৎ শেয়ার দর নেট অ্যাসেট ভ্যালুর অনেক নিচে অবস্থান করছে। সময়মতো এগুলো আবার ভ্যালুড হবে।

বিশেষজ্ঞরা সবসময় আন্ডারভ্যালুতেই শেয়ার কেনার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। অর্থাৎ এখনই শেয়ার কেনার জন্য নতুন করে পজিশন নেয়ার উৎকৃষ্ট সময় যাচ্ছে। গত দেড় মাস আগে যারা বেক্সিমকোর শেয়ার দর ২২ টাকায় কিনেছিল তারা সবাই বিপুল পরিমাণ মুনাফা করেছেন। ঠিক সেরকমভাবে এখন লো প্রাইসে শেয়ার কেনার একটি সুযোগ যাচ্ছে। কারণ অল্প টাকায় কিনতে পারলেই বেশি মুনাফা করা যায়। আর স্মার্ট বিনিয়োগকারীরা কিন্তু একটি কোয়ার্টারের রিপোর্ট দেখে শেয়ার কেনেন না। তারা শেয়ার কিনে প্রত্যাশিত কোয়ার্টারের আশায়।

 

শেয়ারবাজারনিউজ/ম.সা

আপনার মন্তব্য

*

*

Top