আইপিও কোটা সংস্কার করা হোক

পাবলিক ইস্যুু রুলস সংশোধন ও পাইলট প্রজেক্ট বাস্তবায়নের ফলে লাভের চেয়ে বরং বিনিয়োগকারীদের অনেক লোকসান হয়েছে। আগে জেনারেল ইনভেস্টরের কোটা ছিলো ৮০ শতাংশ। এখন ফিক্সড প্রাইসে ৩২ শতাংশ এবং বুক বিল্ডিংয়ে মাত্র ২৪ শতাংশ কোটা সাধারণ পাবলিকদের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের জন্য ২০ শতাংশ কোটা বলা হলেও মূলত তাদের জন্য মাত্র ৮ শতাংশ কোটার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। লাখ লাখ বিনিয়োগকারীরা এই পরিমাণ কোটা পেলে আইপিও’র আবেদন অনেক গুণ বেড়ে যায়। ফলে লটারির মাধ্যমে শেয়ার মেলে খুবই ভাগ্যের জোরে। অন্যদিকে অল্প কিছু প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ৪০ শতাংশ কোটা নিয়ে প্রতিটি আইপিওতেই বিপুল পরিমাণ মুনাফা নিয়ে যাচ্ছে। এতে  আইপিও নিয়ে একটি বিশেষ গোষ্ঠিকে বিশেষ সুবিধা দিয়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে।

এদিকে পাইলট প্রজেক্টের মাধ্যমে সিকিউরিটিজ হাউজে আইপিও জমার নিয়ম করার ফলে বিনিয়োগকারীদের লাভের চেয়ে ক্ষতির পরিমাণ বেশি হয়েছে। আজ দীর্ঘ এক বছর ধরে আমি ব্যক্তিগতভাবে কোন আইপিও শেয়ার লটারীতে পাই না। ব্যাংকে যখন দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে শেয়ার জমা দিতাম অনেক কষ্ট হলেও সার্থক হতো। কারণ শেয়ার দু’একটা পাওয়া যেতো। বর্তমানে সেকেন্ডারি ব্যবসায় ব্যাপক লোকসানে থাকা, কোনো আইপিও না পাওয়া, এর সঙ্গে মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়ায় বিও নবায়ন ফি। কারণ এমনিতেই বিও ফি প্রতিবছর দিতে হয়। তারওপর লেনদেন না করার কারণে একাউন্টও ডরমেন্ট করে রাখে। এতে দেখা যায় বছরঘুরে দু’ দিকেই লস হয়। আইপিওতে শেয়ার পেলে লোকসান কিছুটা সমন্বয় করা যায়। খরচটা অন্তত পরিশোধ করা যায়। আর শেয়ার না্ পেলে খরচ আর কষ্টের কথা বলে শেষ করা যায় না।

যাদের টাকা আছে তারাতো এমনিতেই অনেক টাকার মালিক। তাহলে প্রাতিষ্ঠানিক কোটা কেন ৫০% করা হলো। আইপিও’র কোটা সংস্কার লাখো বিনিয়োগকারীর প্রাণের দাবি হয়ে উঠেছে। কোটা সংস্কার করা হলে তাতে দেশ এবং দশের উপকার হবে। তা নাহলে একদিন সাধারণ জনগন মুখ ফিরিয়ে নেবে। অনেক হাউজে বিও একাউন্ট ভূয়া, তাদের ব্যাংক একাউন্টই নাই। প্রভাবশালীরা এগুলো করে থাকে। অনেক হাউজের মধ্যে আমি নিজে স্বচক্ষে দেখেছি, দু’চার জন মিলে ১৫০০ আইপিও জমা দিচ্ছে। তারা এতোগুলো আইপিও কিভাবে করে তা বুঝে আসে না। অনেক একাউন্ট হাউজ মালিকদের সাথে কন্ট্রাক করে আইপিও ব্যবসা করে বলে জানা যায়।

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কাছে আমাদের বিনীত অনুরোধ যে, সাধারণ বিনিয়োগকারীদের দিকে একটু তাকান। সাধারণ বিনিয়োগকারীরা খুব অসহায়। তারা বড় বড় বিনিয়োগকারীদের কাছে পোনা মাছের মতো। আইপিও’র কোটা জেনারেল ৬০ শতাংশ, ইন্সটিটিউশন ২০ শতাংশ, এনআরবি ১০ শতাংশ এবং মিউচ্যুয়াল ফান্ড ১০ শতাংশ করা হলে বিনিয়োগকারীদের উপকার হবে। তারা সেকেন্ডারি মার্কেটের লোকসান কিছুটা হলেও পুষিয়ে নিতে পারবে।

 

লেখক: মো: সোহেল

ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী

এডমিন, IPO SUCCESS GROUP.

 

শেয়ারবাজারনিউজ/ম.সা

আপনার মন্তব্য

One Comment;

  1. N said:

    Your comment… sharebazar legend a noton kono post nei onek din holo,noton legend k niye post chai

*

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Top