ফারমার্স ব্যাংকের অভিভাবক থাকলেও পুঁজিবাজারের নেই

ফারমার্স ব্যাংক যখন লুটপাটের স্বর্গরাজ্য তখন কেউ গভীরভাবে খেয়াল করেনি আসলে ব্যাংকে কি ঘটেছে। কিন্তু দিন যত গেলো ব্যাংকের কোষাগার ততো খালি হতে লাগলো। ধীরে ধীরে সকলের চোখ পড়লো আর লুটেরাও ধরা খেলো। ব্যাংকটিকে বাঁচাতে সরকার যে প্রচেষ্টা চালিয়েছে তা সত্যিই প্রশংসার যোগ্য। ব্যাংকটিকে স্বরূপে ফেরাতে সরকারের পক্ষ থেকে ১৩০০ কোটি টাকার যোগান দেয়া হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মাধ্যমে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে। দেশের এতোগুলো ব্যাংকের মধ্যে একটি ব্যাংককে বাঁচাতে সরকারের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক অভিভাবক হিসেবে যে দায়িত্ব পালন করেছে তা আমানতকারীদের ব্যাংকের প্রতি আস্থা ফেরাতে সক্ষম হয়েছে। কিন্তু এর ঠিক বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে দেশের পুঁজিবাজারে।

১৩ কার্যদিবস ধরে টানা দরপতনে বিনিয়োগকারীরা অতিষ্ঠ হয়ে পড়লেও নিয়ন্ত্রক সংস্থা, ডিএসই কিংবা সিএসই কারো কোনোই পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। সূচক ৫ হাজার ৪০০ এর নিচে নেমে এসেছে। এক বছর আগে যেখানে সূচক ছিলো সেখানে ফিরে গেছে। এই মন্দাবাজারে কারা কৃত্রিম সেল প্রেসার সৃষ্টি করছে সেই তথ্য বোধহয় বিএসইসির সার্ভিল্যান্স সফটওয়্যার বের করতে পারে না। এখন সফটওয়্যার বের করতে পারে না নাকি সফটওয়্যারের চালকের আসনে যিনি বসে রয়েছেন তিনি চান না সেটাও দেখার বিষয়। এই মার্কেটের সঙ্গে জড়িত ৩০ লাখ বিনিয়োগকারী, তার সঙ্গে জড়িত ২ কোটি মানুষের ভাগ্য নিয়ে খেলা করার কোনো মানে হয় না। আসলে নীতি নির্ধারণী চালকের আসনে যারা রয়েছেন তাদের যদি শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ থাকতো তাহলে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হয়তো এতো কষ্ট করতে হতো না।

অবশ্য এখন আইসিবি কিছুটা ফিল্ডে নেমেছে। তারা শেয়ার ক্রয় করছে। কিন্তু তা খুব হাল্কাভাবে। আইসিবিকে’তো আটকিয়ে রাখা হয়েছে সিঙ্গেল পার্টি এক্সপোজারের আইন দিয়ে। এ আইনটি থেকে আইসিবিকে অব্যাহতি দিলেই তারা আগের মতো অ্যাকটিভ হয়ে যেতো। আইসিবি সোনালী, জনতা ব্যাংকের কাছ থেকে টাকা নিয়ে সাধারণত শেয়ার কিনে থাকে। আইন অনুযায়ী, সোনালী চাইলেও একটি পার্টিকে তার পরিশোধিত মূলধনের ১৫ শতাংশের বেশি লোন দিতে পারবে না। একসময় এ আইনটি আইসিবির জন্য স্থগিত ছিলো। কিন্তু আইনটি পুনরায় চালু করায় আইসিবি’র মতো মার্কেট প্লেয়ার অতো টাকা পায় না। আইসিবিকে এ আইন থেকে অব্যাহতি দিলেই মার্কেটের একটা গতিশীলতা চলে আসতো। তারওপর পুঁজিবাজারে ব্যাংকগুলোর এক্সপোজার ইস্যুতে বাংলাদেশ ব্যাংক এখনো কোনো সিদ্ধান্তে এসে পৌছায়নি।

বর্তমান অস্থিতিশীল বাজারকে টেনে তুলতে অর্থমন্ত্রী মার্কেটের বড় প্লেয়ারদের নিয়ে বসবেন। কিন্তু তাও বাজেটের পরে। যদিও বাজেট আসতে আর বেশিদিন দেরি নয়। কিন্তু এই অল্প দিনেই যদি মার্কেটে আরো পড়ে যায় তাহলে বিনিয়োগকারীদের অস্তিত্ব হারিয়ে যাবে। ইতিমধ্যে সিকিউরিটিজ হাউজ ও মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর পক্ষ থেকে বিনিয়োগকারীদের কাছে লোন অ্যাডজাস্টমেন্টের চিঠি আসছে। নইলে ফোর্সসেল করে হাউজ তার পাওনা বুঝে নেবে বলে বলা হয়েছে। ব্যাংকের আমানতকারী যেমন দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি। তেমনি শেয়ারবাজার বিনিয়োগকারীরাও অর্থনীতির চালিকাশক্তি। তাই শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীদের বাঁচাতে এগিয়ে আসুন। নইলে নীতি নির্ধারণী আসন থেকে সরে গিয়ে অন্যকে সুুযোগ দিন।

 

শেয়ারবাজারনিউজ/ম.সা

আপনার মন্তব্য

*

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Top