পুঁজিবাজারের উন্নয়নে দাবী পূরণের আশ্বাস দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী

শেয়ারবাজার রিপোর্ট: আসন্ন ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে পুঁজিবাজারসংক্রান্ত প্রস্তাবগুলো বিবেচনা করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। প্রয়োজনবোধে এ বিষয়ে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সঙ্গে আলোচনা করবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি। গতকাল অর্থ মন্ত্রণালয়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পর্ষদ ও ডিএসই ব্রোকারস অ্যাসোসিয়েশনের (ডিবিএ) নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাত্কালে অর্থমন্ত্রী এ কথা বলেন।

গতকালের বৈঠকে ডিবিএর প্রেসিডেন্ট মোস্তাক আহমেদ সাদেক, সাবেক প্রেসিডেন্ট আহমেদ রশীদ লালী, ডিএসইর শেয়ারহোল্ডার পরিচালক শরীফ আতাউর রহমান, মো. হানিফ ভূইয়া ও মিনহাজ মান্নান ইমন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক কেএএম মাজেদুর রহমান এবং প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) আব্দুল মতিন পাটোয়ারী উপস্থিত ছিলেন।

অর্থমন্ত্রীর কাছে পুঁজিবাজারের সর্বশেষ পরিস্থিতি তুলে ধরে ডিএসই ও ডিবিএর প্রতিনিধিরা বলেন, বাজারের পরিধি ও লেনদেন বাড়াতে বেশকিছু উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি ট্রেজারি বন্ডের লেনদেন চালু, ইটিএফ, ডেরিভেটিভস, স্বল্প মূলধনি কোম্পানির জন্য স্বতন্ত্র বোর্ড গঠন, ক্লিয়ারিং ও সেটেলমেন্ট কোম্পানি গঠন এবং ওটিসি মার্কেটের আধুনিকায়ন অন্যতম। অন্যদিকে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য ডিএসইর পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে আয় কমে যাবে।

ডিএসই ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৩৭৯ কোটি ও চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের এপ্রিল পর্যন্ত ৩৩৯ কোটি টাকা সরকারকে রাজস্ব দিয়েছে উল্লেখ করে ডিবিএ ও ডিএসইর প্রতিনিধিরা অর্থমন্ত্রীকে বলেন, বর্তমানে পুঁজিবাজারে হাজার কোটি টাকার নিচে লেনদেন হচ্ছে। তবে বাজারের উন্নয়নে যেসব উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়িত হলে দৈনিক লেনদেন আড়াই হাজার কোটি টাকায় উন্নীত হবে। এতে সরকারের রাজস্বের পরিমাণ ১ হাজার ১২৫ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে।

দেশের প্রায় এক কোটি মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে পুঁজিবাজারের ওপর নির্ভরশীল উল্লেখ করে প্রতিনিধিরা অর্থমন্ত্রীর কাছে একটি স্বচ্ছ ও স্থিতিশীল পুঁজিবাজার গঠনে বেশকিছু প্রস্তাব তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে— ডিএসইর বর্তমান ক্রমহ্রাসমান হারে কর অব্যাহতির পরিবর্তে তিন বছরের জন্য পূর্ণ কর অব্যাহতি, স্টক এক্সচেঞ্জের মেম্বারদের কাছ থেকে লেনদেনের ওপর আদায়কৃত করের হার শূন্য দশমিক শূন্য ৫ থেকে কমিয়ে শূন্য দশমিক শূন্য ১৫ শতাংশ নির্ধারণ, ডিমিউচুয়ালাইজেশন আইন অনুসারে এক্সচেঞ্জের বর্তমান শেয়ারহোল্ডারদের ৬০ শতাংশ শেয়ার বিক্রির বিপরীতে প্রাপ্ত মূলধনি মুনাফার ওপর কর অব্যাহতি, লভ্যাংশ আয়ের করমুক্ত সীমা ২৫ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ টাকায় উন্নীত করা, লভ্যাংশের ওপর উেস কর্তনকৃত করকে চূড়ান্ত করদায় পরিশোধ হিসেবে বিবেচনা, ডিমেটিরিয়্যালাইজড শেয়ার ও ডিবেঞ্চার হস্তান্তরের ওপর স্ট্যাম্প ডিউটি প্রত্যাহার, তালিকাভুক্ত কোম্পানির আয়কর ২৫ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ নির্ধারণ ও প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) কোম্পানির তালিকাভুক্তির পরবর্তী তিন বছর শতভাগ কর অব্যাহতি প্রদান করা।

ডিএসইর প্রস্তাবের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করে আসন্ন ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে এগুলো বিবেচনা করা হবে বলে আশ্বাস দেন। এজন্য তিনি বিএসইসি ও এনবিআরের সঙ্গে আলোচনা করবেন বলেও প্রতিনিধি দলকে জানান।

বৈঠক শেষে ডিবিএর প্রেসিডেন্ট মোস্তাক আহমেদ সাদেক বলেন, আমাদের বাজেট প্রস্তাবনাগুলো নিয়ে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। পুঁজিবাজার ও স্টেকহোল্ডারের স্বার্থ সংরক্ষণে প্রস্তাবিত দাবিগুলোর গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। তিনি আমাদের প্রস্তাবগুলো বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছেন। এবারের বাজেট পুঁজিবাজারবান্ধব হবে বলে আশা করছি।

উল্লেখ্য, ডিএসইর পক্ষ থেকে উল্লিখিত প্রস্তাবনাগুলো এরই মধ্যে এনবিআর চেয়ারম্যান, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিএসইসির কাছে জমা দেয়া হয়েছে। সর্বশেষ বাজেটের আগে এ বিষয়গুলো অর্থমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরা হয়েছে।

 

শেয়ারবাজারনিউজ/আ

আপনার মন্তব্য

Top