বিনিয়োগকারীরা আর কতো নি:স্ব হবে

২০১১ সালে পুঁজি হারিয়ে এক শ্রেণীর বিনিয়োগকারী মার্কেট থেকে হারিয়ে গেছে। ভালো মুনাফা করার আশায় যারাই মার্জিন ঋণ নিয়েছিলেন সেটিই তাদের জন্য গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফোর্সসেলে নি:স্ব হয়ে গেছেন অনেক বিনিয়োগকারী। যারা মার্জিন ঋণ না নিয়ে শেয়ার ধরে রেখেছিলেন তাদেরও পোর্টফোলিও’র অবস্থা খুবই করুণ পর্যায়ে ছিলো। তার ঠিক দু’বছর পর ২০১২-১৩ সালে আবারো পুঁজিবাজারে দৈন্যদশা শুরু হয়। এসময়ও এক শ্রেণীর বিনিয়োগকারীর হারিয়ে যেতে হয়। তারপর থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত পুঁজিবাজারে সুসময় বিরাজ করে। বিনিয়োগকারীদের আহাজারি কমে আসে। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) ফিন্যান্সিয়াল লিটারেসি প্রোগ্রাম থেকে শুরু করে বিভিন্ন পুঁজিবাজার মেলা অনুষ্ঠিত হয়। আবারো সরগরম হয়ে ওঠে সিকিউরিটিজ হাউজগুলো। কিন্তু ২০১৮ সালের শুরু থেকে পুঁজিবাজারে নানা আতঙ্ক শুরু হয়। চলতি বছরের দিন যত যাচ্ছে ততই মার্কেট আগের মতো তলানিতে চলে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে ১ হাজার পয়েন্ট সূচকের পতন হয়ে গেছে।

প্রতিদিন মার্কেট সম্পর্কে জানার জন্য আমাদের কাছে বিভিন্ন জনের মোবাইল কল আসে। ই-মেইল থেকে ফেসবুক পেজে বিভিন্ন মেসেজ আসে। সবারই অভিযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা তথা সরকারের বিপক্ষে। অভিমান আর ক্ষোভ নিয়ে বিনিয়োগকারীদের বলতে শোনা যায়, বিনিয়োগকারীরা আর কতো নি:স্ব হবে। পুঁজিবাজারে প্রায় ২৮ লাখ বিনিয়োগকারী রয়েছে। এর মধ্যে তাদের ওপর নির্ভরশীল প্রায় ১ কোটি ভোটার রয়েছে। এই ১ কোটি ভোটার কি সরকারের দরকার নেই?

এদিকে যেহেতু রমজান মাস তাই টার্নওভারের দিক দিয়ে বর্তমান বাজার স্বাভাবিক অবস্থায় রয়েছে। কিন্তু অধিকাংশ কোম্পানি যাদের গ্রোথ ভালো, ভালো ডিভিডেন্ড দিয়েছে তাদের শেয়ার দর তেমনটা মুভমেন্ট করছে না। স্বল্প পরিশোধিত মূলধনী ও দুর্বল কিছু কোম্পানির শেয়ার প্রায়ই মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে।

সুনির্দিষ্ট আইনের অভাবে দেশে এতো বিদেশি কোম্পানি চুটিয়ে ব্যবসা করে গেলেও তাদের স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্তির জন্য জোর দেয়া যাচ্ছে না। কিছুদিন পরপরই নিয়ন্ত্রক সংস্থা টেক্সটাইল খাতের কোম্পানি আইপিওতে ছাড়ছে। পুঁজিবাজার শুধু টেক্সটাইল খাতের কোম্পানি দিয়ে চলতে পারে না। এখানে আরো ভালো মৌলভিত্তির কোম্পানির প্রয়োজন।

অনেকে আশা করছেন চীন স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার হওয়ার পর মার্কেট ভালো হবে। চীন স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার হয়েছে ডিএসই’র শেয়ার কেনার মাধ্যমে। স্টক এক্সচেঞ্জে যেসব কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয় সেগুলো কিন্তু চীন কিনেনি। তবে ডিএসই’র শেয়ার কেনার মাধ্যমে সিকিউরিটিজ হাউজগুলো ৪ কোটি টাকা করে পাবে। এই টাকা তারা শেয়ার মার্কেটে ইনভেষ্ট করতে পারে। তাদের টাকাটা বাজারে আসলে এর সঙ্গে আরো অনেক টাকা যোগ হবে। তখন বাজারে তারল্য সংকট কেটে যাবে।

তবে ব্যাংকের ইন্টারেষ্ট রেটের সঙ্গে পুঁজিবাজারের ওঠানামার যোগসূত্র রয়েছে। ইন্টারেষ্ট রেট বাড়লে পুঁজিবাজারে দরপতন হয়। আর ইন্টারেষ্ট রেট কমলে পুঁজিবাজার গতিশীল হয়। আর এফডিআরের রেট তখনই বাড়তি থাকে যখন ব্যাংকের অবস্থা খারাপ থাকে। কারণ ব্যাংকের যখন টাকার প্রয়োজন তখনই এফডিআরের রেট বাড়িয়ে দিয়ে টাকা কালেকশন করে থাকে। আর যেহেতু প্রধানমন্ত্রী নিজে বলেছেন ইন্টারেষ্ট রেট সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনবেন তাই আশা করা যায় সামনে পুঁজিবাজার আলোর মুখ দেখবে।

 

শেয়ারবাজারনিউজ/ম.সা

আপনার মন্তব্য

*

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Top