বাজেটে যেসব পরিবর্তন হতে পারে

শেয়ারবাজার রিপোর্ট: নির্বাচনের বছর হওয়ায় করের জন্য চাপাচাপি করা হবে না আগামী বাজেটে। আয়কর, ভ্যাট ও শুল্ক—সব ক্ষেত্রেই ছাড় বেশি থাকবে। কর ছাড়ে বড় পরিবর্তন আসবে করপোরেট করে। ব্যাংকের করপোরেট কর আড়াই শতাংশ কমিয়ে ৩৭ দশমিক ৫ শতাংশ হতে পারে। তবে সিগারেট ও মোবাইল ফোন কোম্পানির করহার অপরিবর্তিতই থাকবে।

ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের কিছুটা স্বস্তি দেওয়া হবে। তাদের জন্য আরেকটা নতুন করহার থাকবে। এখন সর্বনিম্ন করহার ১০ শতাংশ। নতুন বাজেটে সাড়ে ৭ শতাংশ হারে আরেকটি করহারের স্তর তৈরি হতে পারে। অন্য হারগুলো অপরিবর্তিত থাকবে। এলাকাভিত্তিক ন্যূনতম করের পরিমাণও অপরিবর্তিত থাকছে। করমুক্ত আয়ের আগের সীমাই বহাল থাকতে পারে।

ভ্যাট হারেও বড় পরিবর্তন আসছে। নয়টি হারের পরিবর্তে পাঁচ হারের ভ্যাট হবে। অর্থমন্ত্রীর প্রস্তাব অনুযায়ী এই হার হতে পারে ২, ৪, ৬, ১০ ও ১৫ শতাংশ। বর্তমানে দেড়, আড়াই, ৩, ৪, সাড়ে ৪, ৫, ৬, ১০ ও ১৫—এই ৯টি হারে ভ্যাট আদায় করা হয়। ২০১৯ সালের ১ জুলাই থেকে নতুন আইন চালু হবে। তখন ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট আরোপ হওয়ার কথা। অন্যদিকে বাজেটে অগ্রিম ব্যবসায় ভ্যাট (এটিভি) ১ শতাংশ বাড়িয়ে ৫ শতাংশ করা হতে পারে। অ্যাপসভিত্তিক সেবায় ভ্যাট বসতে পারে। অনলাইন বেচাকেনায় বসতে পারে ৫ শতাংশ ভ্যাট। আবার ছাড়ও থাকবে। ইন্টারনেট সেবামূল্যের ওপর ভ্যাট প্রত্যাহার করা হতে পারে।

এ ছাড়া কেজিপ্রতি দাম ১৫০ টাকা পর্যন্ত রুটি, বিস্কুট ও কেকের ভ্যাট অব্যাহতি থাকবে। ১৫০ টাকার কম দামি চপ্পল বা স্যান্ডেলে ভ্যাট থাকছে না। দেশে উৎপাদিত মোটরসাইকেল ও রেফ্রিজারেটর উৎপাদনে ভ্যাট অব্যাহতির মেয়াদ আরও এক বছর বাড়তে পারে। বিমার এজেন্ট কমিশনের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহার করা হতে পারে।

স্থানীয় পর্যায়ে মোবাইল ফোন উৎপাদকেরা এবার কিছুটা সুবিধা পাবে। তবে মোবাইল ফোন আমদানি করলে সারচার্জ হবে ১ শতাংশ থেকে ২ শতাংশ। আর দেশে উৎপাদিত মোবাইল ফোনে উৎপাদন পর্যায়ে দুই বছর আগে যে সারচার্জ আরোপ করা হয়েছিল, সেটা এবার প্রত্যাহার করা হচ্ছে।

হেলিকপ্টারে চড়লে খরচ বৃদ্ধি পাবে। হেলিকপ্টার সেবার ওপর ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক বসানো হচ্ছে। এ ছাড়া মদ ও মদজাতীয় পণ্যের ওপর সম্পূরক শুল্কের হার বৃদ্ধি করা হতে পারে।

রিকন্ডিশন্ড গাড়ির অবচয়ন সুবিধা কমতে পারে। এতে দাম বাড়তে পারে। চালের ওপর আবার আমদানি শুল্ক বসছে। এখন শুল্ক কর সব মিলিয়ে ২ শতাংশ দিতে হয়। তা আগের মতো ২৮ শতাংশে উন্নীত করা হতে পারে।

এ ছাড়া ট্যারিফ মূল্যে ব্যাপক পরিবর্তন হতে পারে। বর্তমানে চিনি, চা, বিস্কুট, চিপস, শ্যাম্পু, সাবান, মিনারেল ওয়াটার, কোমল পানীয়, জুসসহ ৪২২ ধরনের পণ্যে ট্যারিফ মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ট্যারিফ মূল্যের এই সংখ্যা কমিয়ে ৩০০-এর মতো করা হতে পারে।

গুগল, ফেসবুক, ইউটিউবসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যম কর্তৃপক্ষের আয়কর কীভাবে নেওয়া হবে, তা নিয়ে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা ছিল না। এদিকে এসব সামাজিক মাধ্যমে বিজ্ঞাপনের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ থাকলেও তা আদায় করা যাচ্ছে না। এ বিষয়ে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা থাকবে বাজেটে।

শেয়ারবাজারনিউজ/আ

আপনার মন্তব্য

*

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Top