বাজেটে মুদ্রা ও পুঁজিবাজার নিয়ে যা বললেন অর্থমন্ত্রী

শেয়ারবাজার রিপোর্ট: সাম্প্রতিক সময়ে মুদ্রাবাজারে তারল্যের ভারসাম্যহীনতা এবং দু’একটি ব্যাংকের ব্যবস্থপনাগত ত্রুটি সাময়িক উদ্বেগ তৈরি করলেও আমাদের সময়োপযোগী পদক্ষেপের ফলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে। তাছাড়া, আমানত ও ঋণের সুদের হার বৃদ্ধির সাম্প্রতিক প্রবণতাও শীঘ্রই হ্রাস পাবে বলে আশা করছি। সার্বিকভাবে, এপ্রিল ২০১৮ শেষে ব্যাপক মুদ্রা সরবরাহ ও অভ্যন্তরীণ ঋণের প্রবৃদ্ধি হয়েছে যথাক্রমে ৯.১ ও ১৪.৪ শতাংশ, যা বাংলাদেশ ব্যাংকের মুদ্রানীতি বিবৃতির লক্ষ্যমাত্রার মধ্যেই রয়েছে। এসময় বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি ছিল ১৭.৭ শতাংশ, যা লক্ষ্যমাত্রার (১৬.৮ শতাংশ) চেয়ে কিছুটা বেশি। তবে, বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর সম্ভাবনা নির্দেশ করে।

আর্থিক খাতের সংস্কার নিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, মুদ্রা ও দক্ষ ঋণ ব্যবস্থাপনা এবং সুনিয়ন্ত্রিত মূলধন বাজার অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের অনুঘটক হিসেবে কাজ করে। প্রাক-বাজেট আলোচনাসহ বিভিন্ন ফোরামে আর্থিক খাত নিয়ে বেশ আলোচনা হয়েছে। দু’একটি ব্যতিক্রম ছাড়া দেশে আর্থিক খাতে বরাবরই প্রশংসনীয় স্থিতিশীলতা বজায় ছিল, যা আর্থ-সামাজিক অগ্রযাত্রায় সহায়ক ভূমিকা রেখেছে। সম্প্রতি ব্যাংকিং খাতে তারল্যের ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টির পরিপ্রেক্ষিতে নগদ জমা রেশিও (সিআরআর) পুন:নির্ধারণসহ কতিপয় পদক্ষেপ গ্রহণ করায় অচলাবস্থার নিরসন হয়েছে। এছাড়াও ফার্মার্স ব্যাংক পুনর্গঠনের মাধ্যমে ব্যাংকিং খাতে সিস্টেমেটিক ফেইলার বন্ধ করা সম্ভব হয়েছে এবং এর ফলে গ্রাহকের আস্থা ফিরে এসেছে।

আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা রক্ষায় বিদ্যমান বিধিবিধান প্রয়োগের পাশাপাশি কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা জারি ও কার্যক্রম গ্রহণ করা হচ্ছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

ব্যাংকসূহে আমানত ও ঋণের সুদ/মুনাফা হার মাসে শুধুমাত্র একবার পরিবর্তন এবং পরিবর্তিত সুদ হার তাৎক্ষণিকভাবে তাদের স্ব স্ব ওয়েবসাইটে প্রকাশের বাধ্যবাধকতা আরোপ;

ঋণ এবং আমানতের গড় ভারিত সুদ হারের ব্যবধান ৫ শতাংশের মধ্যে সীমিত রাখা;

কটেজ, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য ঋণ আবেদন ফি ২০০ টাকায় সীমিত রাখা এবং মেয়াদ পূর্তিতে সমন্বয়ের ক্ষেত্রে কোন চার্জ আদায় না করা;

পুঁজিবাজারে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের জন্য সহায়তা তহবিল পরিচালনা;

বৃহৎ ঋণ খেলাপি মনিটরিং এর জন্য বিশেষায়িত সফটওয়্যার চালুকরণ;

সুষ্ঠূ এজেন্ট ব্যাংকিং এর নির্দেশনা সম্বলিত গাইডলাইন জারি;

মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস এর ক্ষেত্রে একক ব্যক্তি মোবাইল হিসাবের স্থিতি সর্বোচ্চ ৩ লাখ টাকা নির্ধারণ;

বীমা কোম্পানি/কর্পোরেশনসমূহে ইউনিফর্ম কেওয়াইসি প্রোফাইল জারির নির্দেশনা;

স্বল্প সুদে ও সহজশর্তে বিভিন্ন পুন:অর্থায়ন স্কিমের আওতায় বিভিন্ন ধরণের ঋণ সুবিধা প্রদান;

ব্যাংকিং সেবা বিষয়ক অভিযোগ নিষ্পত্তিতে বাংলাদেশ ব্যাংক গ্রাহক সেবা সংরক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন;

ব্যাংকের মাধ্যমে সন্ত্রাস অর্থায়ন প্রতিরোধ বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের জন্য নির্দেশ প্রদান;

বৃহৎ ঋণগুলোকে আরো নিবিড়ভাবে পরিবীক্ষণ এবং ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণ মিনটরিং ব্যবস্থাকে জোরদার করার লক্ষ্যে সেন্ট্রাল ডাটাবেজ ফর লার্জ ক্রেডিট (সিডিএলসি) গঠন;

অনেক ক্ষেত্রে একই সম্পদ বা জমি জামানত দেখিয়ে ব্যাংক ঋণ অনিয়মিতভাবে নেওয়া হয়। এই জালিয়াতি রোধের জন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে সব ঋণের বিপরীতে যে জামানত দেখানো হয় সে সম্বন্ধে একটি তথ্যভান্ডার সংরক্ষণ করা হবে। যে কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এই তথ্য যাতে যাচাই করতে পারেন সে ব্যবস্থা আগামী বছরেই কার্যকর হবে।

পুঁজিবাজার নিয়ে বলেন, বিভিন্ন ধরনের সিকিউরিটিজ ব্যবহারের মাধ্যমে বন্ড মার্কেটের উন্নয়ন ঘটানো সম্ভভ হয়। এ দিকে লক্ষ্য রেখে আমরা ফ্লোটিং রেট ট্রেজারি বন্ড (এফআরটিবি) চালু করতে যাচ্ছি। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে গাইডলাইন ও নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। লক্ষ্য করার বিষয় হলো ব্যাংকিং শিল্পে ইসলামী ব্যাংকিং এর হিস্যা প্রায় ২০ শতাংশ হলেও এখনও শরীয়াভিত্তিক কোন সিকিউরিটিজ এর প্রচলন করা হয়নি। বর্তমানে আমরা শরীয়াভিত্তিক সিকিউরিটিজ প্রচলনের বিষয়ে চিন্তাভাবনা করছি। এছাড়া, সঞ্চয়পত্র ক্রেতাদের তথ্যভান্ডার প্রণয়ন ও জাতীয় পরিচয়পত্রের সাথে এর সংযোগ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ কার্যক্রম সম্পন্ন হলে সঞ্চয়পত্র ব্যবস্থাপনায় অধিকতর শৃঙ্খলা আনয়ন সম্ভব হবে।

 

শেয়ারবাজারনিউজ/আ

 

আপনার মন্তব্য

*

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Top