বাজেট নিয়ে ডিএসইর প্রতিক্রিয়া

শেয়ারবাজার রিপোর্ট: ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে ঘিরে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে দেশের প্রদান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। অর্থমন্ত্রী তার বাজেট বক্তৃতায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, জেলা ভিত্তিক শিল্প পার্ক স্থাপন, বিদ্যুৎ, জ্বালানি, যোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি খাতসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের উপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন৷ দীর্ঘমেয়াদি মূলধন সংগ্রহের অন্যতম মাধ্যম হলো দেশের শেয়ারবাজার৷ তাই আগামীতে “সমৃদ্ধ আগামীর পথযাত্রায় বাংলাদেশ’’- এর অংশীদার হিসেবে দেশের পুঁজিবাজার সরকারের কাঙ্খিত লক্ষ্যে এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে ডিএসই দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে৷

বৃহস্পতিবার বাজেট প্রস্তাবনা শেষ হলে শুক্রবার ডিএসই‘র পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “সমৃদ্ধ আগামীর পথযাত্রায় বাংলাদেশ’’ শিরোনামে টেকসই ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য যে সু-পরিকল্পিত কর্মপন্থা ও ব্যবস্থাপনা কৌশল প্রস্তাব করা হয়েছে, সে জন্য ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ জানাচ্ছে অভিনন্দন৷

অর্থমন্ত্রী তার বাজেট বক্তৃতায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, জেলা ভিত্তিক শিল্প পার্ক স্থাপন, বিদ্যুৎ, জ্বালানি, যোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি খাতসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের উপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন৷ সরকারের এই উদ্যোগ দেশের শিল্প উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করবে৷ প্রবৃদ্ধির চালিকা শক্তি হচ্ছে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে শ্রম শক্তির অধিকতর অংশগ্রহণ ও মূলধন বৃদ্ধি৷

দীর্ঘমেয়াদি মূলধন সংগ্রহের অন্যতম মাধ্যম হলো দেশের শেয়ারবাজার৷ তাই আগামীতে সমৃদ্ধ আগামীর পথযাত্রায় বাংলাদেশ’- এর অংশীদার হিসেবে দেশের শেয়ারবাজার সরকারের কাঙ্খিত লক্ষ্যে এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে ডিএসই দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে৷

উল্লেখ্য, ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জন্য ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকার বাজেট পেশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, যা বর্তমান সরকারের দুই মেয়াদে টানা দশমতম বাজেট৷

এবারের বাজেটে শেয়ারাবাজার নিয়ে অর্থমন্ত্রী লিখিত বক্তব্যে বলেন, বিভিন্ন ধরনের সিকিউরিটিজ ব্যবহারের মাধ্যমে বন্ড মার্কেটের উন্নয়ন ঘটানো সম্ভভ হয়। এ দিকে লক্ষ্য রেখে আমরা ফ্লোটিং রেট ট্রেজারি বন্ড (এফআরটিবি) চালু করতে যাচ্ছি। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে গাইডলাইন ও নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। লক্ষ্য করার বিষয় হলো ব্যাংকিং শিল্পে ইসলামী ব্যাংকিং এর হিস্যা প্রায় ২০ শতাংশ হলেও এখনও শরীয়াভিত্তিক কোন সিকিউরিটিজ এর প্রচলন করা হয়নি। বর্তমানে আমরা শরীয়াভিত্তিক সিকিউরিটিজ প্রচলনের বিষয়ে চিন্তাভাবনা করছি। সঞ্চয়পত্র ক্রেতাদের তথ্যভান্ডার প্রণয়ন ও জাতীয় পরিচয়পত্রের সাথে এর সংযোগ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ কার্যক্রম সম্পন্ন হলে সঞ্চয়পত্র ব্যবস্থাপনায় অধিকতর শৃঙ্খলা আনয়ন সম্ভব হবে।

এছাড়াও ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে ব্যাংক, বীমা ও নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের করপোরেট কর ২.৫০ শতাংশ হ্রাস করার জন্যও প্রস্তাব দিয়েছে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

জানা যায়, শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংক, বীমা ও নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং সরকার কর্তৃক ২০১৩ সারে অনুমোদিত ব্যাংক, বীমা ও নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের করপোরেট করহার বর্তমানে ৪০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩৭.৫০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। অপরদিকে পুঁজিবাজারে তালিকাবহির্ভুত ব্যাংকের করহার ৪২.৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৪০ শতাংশ করা হয়েছে।

এছাড়া তৈরি পোশাক খাতের প্রতিষ্ঠানকে ১৫ শতাংশ কর হার নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্য পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি হলে ১২.৫০ শতাংশ এবং সবুজ কারাখানার ক্ষেত্রে ১২ শতাংশ কর হার নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

বাজেটে উপরোক্ত পদক্ষেপ ছাড়াও শেয়ারবাজার উন্নয়নে নানামুখী পদক্ষেপ নেয়ার কথা বলা হয়েছে। আর এসব পদক্ষেপের ফলে সামনের দিকে শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

 

শেয়ারাবাজারনিউজ/এম.আর

আপনার মন্তব্য

Top