বাজার পতনের নেপথ্যে কি বাজেট দায়ী নাকি অন্যকিছু

“ক্যাপিটাল মার্কেটের মানুষ বাজেটকে সমর্থন করেন নাই। বাজেটে করপোরেট কর ছাড়া কিছুই নাই তাও সবার নয় । কতোকিছু দেয়ার ছিলো!কতো প্রণোদনা! করমুক্ত ডিভিডেন্ড আয়ের সীমা বাড়ানো দরকার ছিলো” ইত্যাদি ইত্যাদি বলে প্রস্তাবিত বাজেটকে মনে হয় ডাস্টবিনে ফেলে দিলো।

আসলেই কি আজকের বাজার পতনের নেপথ্যে বাজেট দায়ী নাকি অন্যকিছু এর ভেতর কাজ করছে? ব্যাংক, বীমা, নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের আড়াই শতাংশ কর কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। আড়াই শতাংশ মানে বিপুল পরিমাণ অর্থ কোম্পানিগুলোর বাঁচবে। যার ফল বিনিয়োগকারীরাই ভোগ করবেন। এছাড়া অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান তৈরিতে পোশাক খাতের গুরুত্ব বিবেচনা করে এ খাতকে বিশেষ কর সুবিধা প্রদান করা হয়েছে। তৈরি পোশাক উৎপাদন ও রপ্তানিতে নিয়োজিত করদাতার করহার ১৫ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। স্টক এক্সচেঞ্জের কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রে এই কর হার ১২.৫ শতাংশ এবং গ্রীণ বিল্ডিং সার্টিফিকেশন রয়েছে এরুপ সবুজ কারখানার ক্ষেত্রে ১২ শতাংশ কর নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

দেখা গেছে, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংকের সংখ্যা ৩০টি, বীমার সংখ্যা ৪৭টি, নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে ২৩টি এবং টেক্সটাইল খাতের কোম্পানি রয়েছে ৫০টি। অর্থাৎ তালিকাভুক্ত ৩০৫টি কোম্পানির মধ্যে ১৫০টি কোম্পানি এবছর সরাসরি বাজেটের সুবিধা ভোগ করবে। আড়াই শতাংশ কর মওকুফ পাওয়া মানে বিপুল পরিমাণ অর্থ এসব কোম্পানির মুনাফায় যোগ হবে। আর এসব অর্থ বিনিয়োগকারীরাই ডিভিডেন্ড আকারে ভোগ করবে। অর্থাৎ দীর্ঘমেয়াদিতে বাজেট পুঁজিবাজার বান্ধব হয়েছে এটা স্বীকার না করার কিছু নাই।

অবশ্য এগুলো লংটার্মের বিষয়। কিন্তু বিনিয়োগকারীরা শর্টটাইমের হিসেবে করে চলে। বাজারে এখন বড়রা নাই। এখানে রেটেইলারদের ছড়াছড়ি চলছে। ইন্সটিটিউশনের অ্যাকটিভি প্রায় শুণ্যের কোটায়। তাদের সক্রিয়তা থাকলে জিপি, স্কয়ার কিংবা ব্যাংকের শেয়ার দর এভাবে পড়তো না। কারণ এগুলোর শেয়ার দর পড়লেই সামগ্রিক সূচক পড়ে যায়। আজকে ব্যাংকের পুরো খাত লাল হয়ে রয়েছে। ব্যাংকের করপোরেট কর কমানোর পরও এ খাতের দর কমেছে।

বাজারে এখন জাঙ্ক শেয়ারের ছড়াছড়ি। আর মার্কেট কখনোই রিটেইলরা ধরে রাখতে পারেন না। প্রয়োজন প্রাতিষ্ঠানিক ঝোঁক। আসলে জুন মাসে অনেক বড় বিনিয়োগকারীর সঙ্গে ব্যাংকের লোন সংক্রান্ত সম্পর্ক থাকে। তারা ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে মার্কেটে ইনভেষ্ট করে। জুন মাসে এই লোন পরিশোধ করার জন্য একটি চাপ থাকে। তবে ১৫ তারিখের মধ্যে টাকা জমা দিয়ে আবার ২০ তারিখ থেকে টাকা নেয়া যায়।  দেখা যায় জুনের ২৫ তারিখের পর থেকে ৩০ তারিখ পর্যন্ত আবারো লোন নিয়ে মার্কেটে টাকা ঢোকানো হয়। কারণ এই সময়ে শেয়ার মার্কেটে ইনভেষ্ট থাকলে আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় ট্যাক্স রিবেট বা কর মওকুফ পাওয়া যায়।

তবে আশা করা শিগগিরই মার্কেটে গতিশীলতা চলে আসবে। কারণ জুন মাসের ২০ তারিখ পর্যন্ত প্রায় সব প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী বিভিন্ন খাতে খরচ থাকে। আশা করা যায় ২০ তারিখের পর থেকে সবাই সক্রিয় হবে। তবে স্টক এক্সচেঞ্জের পক্ষ থেকে যে প্রস্তাব বাজেটে দেয়া হয়েছে তার কিছুই বাস্তবায়ন করা হয় নাই। আর সব প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা হবে বিষয়টা তেমন নয়। যেহেতু চূড়ান্ত বাজেটে সংস্কার করার সুযোগ রয়েছে, তাই এ নিয়ে স্টেকহোল্ডাররা সরকারের কাছে পুনরায় বিভিন্ন দাবী জোর দিয়ে পেশ করতে পারে। কিন্তু তাই বলে রিটেইলার নির্ভর পুঁজিবাজার চলতে পারে না। এখন প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ ফিরিয়ে আনার বিকল্প নেই। আর মার্কেটে অদৃশ্য চক্র আগেও ছিলো, এখনো আছে, ভবিষ্যত বলতে পারি না। তবে গেম্বলার ছাড়া পৃথিবীর কোনো স্টক মার্কেট নেই।

 

 

শেয়ারবাজারনিউজ/ম.সা

আপনার মন্তব্য

*

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Top