দৃষ্টি এখন বাংলাদেশ ব্যাংকের দিকে

যদিও বাজার যেখানে নেমেছে এখান থেকে এমনিতেই বাড়ার কথা। ঈদের আগে ৪০০ পয়েন্টের বেশি কমানো হয়েছে। তলানিতে নেমে এসেছে বেশিরভাগ মৌলভিত্তি কোম্পানির শেয়ার দর। সে হিসেবে বর্তমান বাজার ঊর্ধ্বমুখী হবে সেটাই স্বাভাবিক। তবে বাজারকে পুরোপুরি চাঙ্গা করার জন্য সব মহলের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এ মুহূর্তে বাংলাদেশ ব্যাংকের একটু স্বদিচ্ছায় পুরো শেয়ারবাজারের চিত্রটাই বদলে দেবে। সরকার নিজেও শেয়ারবাজারকে চাঙ্গা করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে। একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে খোদ অর্থমন্ত্রী বাংলাদেশ ব্যাংককে চিঠির পর চিঠি দিয়ে যাচ্ছে।

কিন্তু চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো পদক্ষেপ না নেয়া বাজার সংশ্লিষ্ট সকলকেই ভোগাচ্ছে। যদি বিষয়টা এমন হয়ে থাকে যে অর্থমন্ত্রী জনসম্মুখে চিঠি পাঠালো আর গোপনে বলে দিলো “চিঠি দিলাম কিন্তু ধরবা না” তাহলেতো আর বলার কিছু নাই। কারণ খোদ সরকার যেখানে পুঁজিবাজারে ব্যাংকগুলোর এক্সপোজারের সংজ্ঞা পরিবর্তন এবং আইসিবিকে একক গ্রাহক ঋণসীমার আওতার বাইরে রাখতে চাচ্ছে সেখানে বাংলাদেশ ব্যাংকের বার বার পিছিয়ে যাওয়া নানা রহস্যের জন্ম দিচ্ছে।

এখন ভেতরগত কারণ যাই হোক না কেন সবাই চায় শেয়ারবাজার গতিশীল থাকুক। আর এ গতিশীলতা ধরে রাখতে  বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) মূখ্য ভূমিকা পালন করবে সেটা সবারই কামনা। বাজারের সমস্যা কি সেটা চিহ্নিত করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কর্মকর্তাদের ওপর থেকে বিনিয়োগকারীদের আস্থা হারাবে সেটাই স্বাভাবিক। সম্প্রতি পুঁজিবাজারের ওপর দিয়ে এতো ধকল গেলো কিন্তু নিয়ন্ত্রক সংস্থার দৃশ্যত কোনো পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যায়নি। বেশকিছু দুর্বল কোম্পানির শেয়ার মাত্রাতিরিক্ত মাথা চাড়া দিলেও বিএসইসি নিরব থেকেছে। তবে মার্কেটের জন্য যেসব আইন প্রণয়ন করা হয়েছে সেগুলো পুঁজিবাজারকে ভেতর থেকে অনেক শক্তিশালী করেছে এতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু একজন বিনিয়োগকারী যখন সকালে মার্কেটের দিকে তাকিয়ে নেতিবাচক চিত্র দেখে তখন তার আর আইন-কানুনের জটিল বিষয় মাথায় ধরে না। একজন শিক্ষিত বিনিয়োগকারী রাতের পর রাত জেগে সঠিক অ্যানালাইসিস করেও যখন লাভের মুখ দেখতে পারে না তখন হতাশ হয়ে এক পর্যায়ে মামুদের চামচামিতে নিজেকে সপে দেয়। এ অবস্থার পরিবর্তন না করলে যতই আইন-কানুনের বুলি আওড়ানো হোক না কেন মূলের ঘরে শুধু শূণ্যতাই থেকে যাবে।

এখন মার্কেটকে টেনে তুলতে যেহেতু বাংলাদেশ ব্যাংকের কিছু নীতিগত সিদ্ধান্তের পরিবর্তন হওয়া জরুরি বলে সরকারসহ বাজার সংশ্লিষ্ট সবাই মনে করছে তাই কেন্দ্রীয় ব্যাংককেও এ বিষয়ে এগিয়ে আসতে হবে। পুঁজিবাজারকে শত্রু নয় বরং বন্ধু হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংককে সবাই কামনা করে। যে কোম্পানি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত নয় সেগুলোতে ব্যাংকের বিনিয়োগকে পুঁজিবাজার এক্সপোজার হিসেবে গণনা করাটা অযৌক্তিক। এবিষয়টি পরিবর্তনের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের একটু স্বদিচ্ছাই যথেষ্ট। এরজন্য কোনো আইন পরিবর্তনেরও ঝামেলা নেই। আর যেহেতু একক গ্রাহক ঋণসীমার আওতার বাইরে আইসিবিকে রাখলে গোটা শেয়ারবাজারেই অন্যরকম একটি আমেজ চলে আসবে তাই এ বিষয়টি বিশেষ বিবেচনা করা সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে।

 

শেয়ারবাজারনিউজ/ম.সা

আপনার মন্তব্য

Top