শেয়ারহোল্ডারদের সুরক্ষায় যা আছে নতুন করপোরেট গভর্ন্যান্স গাইডলাইনে

শেয়ারবাজার রিপোর্ট: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির পরিচালক ও শীর্ষ নির্বাহীদের মনোনয়নের ক্ষেত্রে তাদের যোগ্যতা ও সম্মানী একটি কমিটির মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে। আর এজন্য সব তালিকাভুক্ত কোম্পানিকেই তাদের পর্ষদের উপকমিটি হিসেবে একটি নমিনেশন অ্যান্ড রিমিউনারেশন কমিটি (এনআরসি) গঠন করতে হবে।

এনআরসি পরিচালক ও শীর্ষ নির্বাহীদের যোগ্যতা, ইতিবাচক বৈশিষ্ট্য, অভিজ্ঞতা নির্ধারণসংক্রান্ত নীতি প্রণয়নে কোম্পানির পর্ষদকে সহযোগিতা করবে। এ বিষয়ে সম্প্রতি বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ‘করপোরেট গভর্ন্যান্স কোড’ শীর্ষক একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

বিএসইসির প্রজ্ঞাপনে কোম্পানির পর্ষদের গঠন ও আকার, পরিচালক, স্বতন্ত্র পরিচালক ও ব্যবস্থাপনা পর্যায়ের শীর্ষ নির্বাহীদের যোগ্যতা ও দায়দায়িত্ব, বিভিন্ন উপকমিটির গঠন ও ভূমিকা, সাবসিডিয়ারি কোম্পানির পর্ষদের সুশাসন, বহিঃনিরীক্ষকের ভূমিকা ও করপোরেট গভর্ন্যান্স পরিপালনসংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিলের বিষয়ে বিশদ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। নতুন এ প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে এর আগে ২০১২ সালের ৭ আগস্ট জারি করা প্রজ্ঞাপনটি বাতিল করা হয়েছে।

নতুন প্রজ্ঞাপনে কোম্পানির পর্ষদের আকার আগের মতোই ন্যূনতম পাঁচজন থেকে সর্বোচ্চ ২০ জন নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে আগের মতোই মোট পর্ষদ সদস্যদের এক-পঞ্চমাংশ স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগের বিধান রাখা হয়েছে। স্বতন্ত্র পরিচালকদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কোম্পানি কিংবা এর কোনো সাবসিডিয়ারি বা সহযোগী কোম্পানির মোট পরিশোধিত মূলধনের ১ শতাংশের বেশি শেয়ার ধারণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এমনকি স্বতন্ত্র পরিচালকদের পরিবারের সদস্যরা ১ শতাংশের বেশি শেয়ার ধারণ করতে পারবে না। কোম্পানির সাবেক নির্বাহীদের ক্ষেত্রে দুই বছর অতিবাহিত হওয়ার আগে স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ করা যাবে না। তাছাড়া কোম্পানির সাবেক স্বতন্ত্র পরিচালকদের পুনরায় নিয়োগের সুযোগ রাখা হয়েছে; তবে এক্ষেত্রে তিন বছর করে পরপর দুই মেয়াদ শেষ হওয়ার তিন বছর পর পুনর্নিয়োগের জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। এছাড়া একজন স্বতন্ত্র পরিচালক তালিকাভুক্ত সর্বোচ্চ ৫টি কোম্পানির দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। আগে তিনটির বেশি পারতেন না।

স্বতন্ত্র পরিচালকের যোগ্যতার বিষয়ে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ন্যূনতম ১০ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধন রয়েছে— এমন তালিকাবহির্ভূত কোম্পানি বা তালিকাভুক্ত কোম্পানির বর্তমান কিংবা সাবেক উদ্যোক্তা ও পরিচালক বা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ব্যবসা সংগঠনের সদস্যরা স্বতন্ত্র পরিচালক হতে পারবেন। তাছাড়া করপোরেট খাতের শীর্ষ নির্বাহী যেমন— এমডি, সিইও ডিএমডি, সিএফও, হেড অব ফিন্যান্স অর অ্যাকাউন্টস, হেড অব ইন্টারনাল অডিট অ্যান্ড কমপ্লায়েন্স, হেড অব লিগ্যাল সার্ভিস ও কোম্পানি সচিবরাও স্বতন্ত্র পরিচালক হতে পারবেন। সাবেক সরকারি কর্মকর্তারাও স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে নিয়োগের জন্য যোগ্য হবেন; তবে এক্ষেত্রে অবশ্যই পঞ্চম গ্রেড কিংবা তার উপরের গ্রেডভুক্ত কর্মকর্তা হতে হবে। অর্থনীতি, বাণিজ্য কিংবা ব্যবসাসংক্রান্ত বিষয়ের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও স্বতন্ত্র পরিচালক হতে পারবেন। তাছাড়া উচ্চ আদালতের আইনজীবী, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট, কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্ট, চার্টার্ড ফিন্যান্সিয়াল অ্যানালিস্ট, চার্টার্ড সার্টিফাইড অ্যাকাউন্ট্যান্ট, চার্টার্ড পাবলিক অ্যাকাউন্ট্যান্ট, চার্টার্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্ট, চার্টার্ড সেক্রেটারিরা স্বতন্ত্র পরিচালক হতে পারবেন। স্বতন্ত্র পরিচালকের জন্য সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে ন্যূনতম ১০ বছরের অভিজ্ঞতা থাকবে হবে; যেটি এর আগের প্রজ্ঞাপনে ১২ বছর নির্ধারিত ছিল।

কোম্পানির পর্ষদ চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক কিংবা সিইওকে স্বতন্ত্র ব্যক্তি হতে হবে। শেয়ারহোল্ডারদের কাছে কোম্পানির পরিচালকদের প্রতিবেদনে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষার বিষয়টি তুলে ধরতে হবে। কোম্পানির পর্ষদের আওতায় অডিট কমিটি ও নমিনেশন অ্যান্ড রিমিউনারেশন কমিটি (এনআরসি) গঠন করতে হবে। এর মধ্যে এনআরসি গঠনের বিষয়টি এবারের প্রজ্ঞাপনে প্রথমবারের মতো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এনআরসি পর্ষদ চেয়ারম্যান, সদস্য ও শীর্ষ নির্বাহী কর্মকর্তার (সিইও) জন্য একটি কোড অব কন্ডাক্ট সুপারিশ করবে। এনআরসির সুপারিশের ভিত্তিতেই কোম্পানির পর্ষদ কোড অব কন্ডাক্ট প্রণয়ন করবে। তাছাড়া কোম্পানির পর্ষদ ও স্বতন্ত্র পরিচালকদের পারফরম্যান্স মূল্যায়নের মানদণ্ড নির্ধারণ করাসহ কোম্পানির বিভিন্ন পর্যায়ে চাহিদামাফিক জনবল নিয়োগ ও পদায়ন এবং কোম্পানির সার্বিক মানবসম্পদ উন্নয়নে কাজ করবে এনআরসি। একজন স্বতন্ত্র পরিচালকসহ ন্যূনতম তিনজন সদস্য নিয়ে এনআরসি গঠিত হবে। স্বতন্ত্র পরিচালকের অনুপস্থিতিতে এনআরসির কোরাম পূর্ণ হবে না। কোম্পানি সচিব কমিটিকে সাচিবিক সহায়তা দেবে। বছরে কমপক্ষে একবার এনআরসির বৈঠক করতে হবে। কমিটির চেয়ারম্যান প্রয়োজনে জরুরি বৈঠক আহ্বান করতে পারবেন। এনআরসি স্বাধীনভাবে কাজ করবে এবং শুধু কোম্পানির পর্ষদ ও শেয়ারহোল্ডারদের কাছে তাদের জবাবদিহিতা থাকবে।

কোম্পানির বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) এনআরসি চেয়ারম্যান, অডিট কমিটির চেয়ারম্যান এবং বহি:নিরীক্ষক উপস্থিত থেকে শেয়ারহোল্ডারদের বিভিন্ন প্রশ্নে জবাব দিবেন।

 

শেয়ারবাজারনিউজ/আ

আপনার মন্তব্য

*

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Top