ফিন্যান্সিয়াল লিটারেসি- পর্ব ১৫: শেয়ার ট্রান্সফার

শেয়ারবাজার রিপোর্ট: ফিন্যান্সিয়াল লিটারেসির এই পর্বে স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে শেয়ার ট্রান্সফার প্রক্রিয়া তুলে ধরা হয়েছে। সর্বমোট ৯টি স্টেপের মাধ্যমে শেয়ার হস্তান্তরকারী তার শেয়ার অন্য কারো নিকট হস্তান্তর করতে পারে। নিম্নের শেয়ার ট্রান্সফারের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া বর্ননা করা হলো:

০১। শেয়ার ট্রান্সফারের ফর্ম ডাউনলোড করা:

** শেয়ার ট্রান্সফারের মোট তিনটি ফর্ম রয়েছে। বাবা, মা, ভাই-বোন, স্ত্রী, পুত্র বা কন্যাকে শেয়ার গিফট করার জন্য এক ধরণের ফর্ম রয়েছে। এছাড়া গিফট ছাড়া অন্যকোনো কারণে শেয়ার ট্রান্সফার যেমন: কোর্টের অর্ডার, বাজেয়াপ্ত বা ঋণ খেলাপিতে কিংবা নগদ টাকায় শেয়ার ট্রান্সফারের জন্য আলাদা ফর্ম রয়েছে। স্পন্সর, পরিচালক বা প্লেসমেন্টহোল্ডারদের ট্যাক্সের জন্য এক্যুইজেশন কষ্ট ডিকলারেশন ফরম্যাট দেয়া রয়েছে। শেয়ার ট্রান্সফারের ফর্ম এই লিঙ্কে শেয়ার ট্রান্সফরের সব ধরণের ফর্ম রয়েছে।

০২। ডাউনলোডকৃত ফর্মটি যথাযথভাবে পূরণ করা।

০৩। ভেরিফাই সিগনেচার:

ইস্যুয়ার/অ্যাসেট ম্যানেজার/ ডিপোজেটরি পার্টিসিপেমেন্টর অথোরাইজড অফিসার শেয়ার হস্তান্তরকারীর স্বাক্ষর যাচাই করবেন।

০৪। ফর্মের সঙ্গে প্রয়োজনীয় দলিলাদি সংযুক্তকরণ:

* শেয়ার গিফটের ক্ষেত্রে যেসব ডকুমেন্টস জমা দিতে হবে : ক) যিনি সিগনেচার ভেরাফাই করবেন তিনি শেয়ার হস্তান্তরকারী এবং শেয়ার গ্রহীতা উভয়ের জাতীয় পরিচয় পত্র বা পাসপোর্টের কপি জমা দেবেন।

খ) শেয়ার হস্তান্তরকারী এবং শেয়ার গ্রহীতা উভয়ের বিও-আইএসআইন হোল্ডিং রিপোর্ট (ডিপিএ৬) আপডেট করতে হবে।

গ) স্পন্সর/পরিচালকের ক্ষেত্রে শেয়ার হস্তান্তরকারী এবং শেয়ার গ্রহীতা উভয়ের বর্তমান শেয়ার হোল্ডিং পজিশন জানাতে হবে।

ঘ) ট্যাক্স সংক্রান্ত বিষয়ের জন্য স্পন্সর/পরিচালকের এক্যুইজেশন কষ্ট ডিকলারেশন ফরম্যাট জমা দিতে হবে।

ঙ) যদি স্পন্সর/পরিচালকের হাতে থাকা সম্পূর্ণ শেয়ার হস্তান্তর করার প্রয়োজন হয় তাহলে বোর্ড রেজুলেশন লাগবে।

চ) স্টক এক্সচেঞ্জের চাহিদা মোতাবেক অন্যান্য দলিলাদি জমা দিতে হবে।

* শেয়ার গিফট ছাড়া অন্য কোনো কারণে হস্তান্তরের ক্ষেত্রে যেসব ডকুমেন্টস জমা দিতে হবে: ক) যদি শেয়ার হস্তান্তরকারী বা গ্রহীতা কোনো প্রতিষ্ঠান হয় তাহলে বোর্ড রেজুলেশন লাগবে।

খ) ) শেয়ার হস্তান্তরকারী এবং শেয়ার গ্রহীতা উভয়ের বিও-আইএসআইন হোল্ডিং রিপোর্ট (ডিপিএ৬) আপডেট করতে হবে।

গ) শেয়ার বা ইউনিট হস্তান্তরকারী এবং গ্রহীতা উভয়ের বর্তমান শেয়ার হোল্ডিং পজিশন জানাতে হবে।

ঘ) যদি ঋণ খেলাপির কারণে শেয়ার বাজেয়াপ্ত করা হয় তাহলে ঋণ দাতা এবং গ্রহীতার লোন এগ্রিমেন্ট দেখাতে হবে।

ঙ) প্লেজড শেয়ারের ক্ষেত্রে যেমনি প্রয়োজনীয় দলিলাদি উপস্থাপন করতে হবে। তেমনি ঋণ খেলাপি সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় দলিলাদি জমা দিতে হবে।

চ) ব্যক্তির জন্য জাতীয় পরিচয় পত্রের কপি জমা দিতে হবে।

ছ) স্টক এক্সচেঞ্জের চাহিদা মোতাবেক অন্যান্য দলিলাদি জমা দিতে হবে।

০৫। অনুমোদনের জন্য উল্লেখিত দলিলপত্র সহকারে শেয়ার হস্তান্তরের পূরণকৃত ফর্মটি জমা দিতে হবে।

০৬। সার্ভিস চার্জ এবং অগ্রীম আয়কর জমা দেয়া:

* ০.০৫% অথবা ৫০ টাকা যেটি বেশি সে পরিমাণ সার্ভিস চার্জ দেয়া লাগবে। সার্ভিস চার্জ হিসাব করার নিয়ম ( যে পরিমাণ শেয়ার হস্তান্তর হবে এর সঙ্গে ক্লোজিং প্রাইস গুণ করতে হবে। ধরা যাক, কেউ একজন কোনো কোম্পানির  ১০০০০ শেয়ার হস্তান্তর করতে চান। উক্ত কোম্পানির শেয়ারের ক্লোজিং প্রাইস হচ্ছে ৩০ টাকা। তাহলে সার্ভিস চার্জ হবে (১০০০০*৩০)= ৩০০০০০*০.০৫%= ১৫০ টাকা।

* অগ্রীম আয়কর: ক্যাপিটাল গেইনের ৫ শতাংশ। ধরা যাক, কেউ একজন কোনো কোম্পানির ১০০০০ শেয়ার হস্তান্তর করতে চান। উক্তর কোম্পানির শেয়ারের ক্লোজং প্রাইস হচ্ছে ৩০ টাকা। তার প্রতি শেয়ারে ওয়েটেড এভারেজ কষ্ট পড়েছে ১৪ টাকা। তাহলে অগ্রীম আয়কর হচ্ছে :

শেয়ারের বাজার মূল্য: ১০০০০*৩০= ৩০০০০০ টাকা

এক্যুইজেশন কষ্ট:        ১০০০০০*১৪= ১৪০০০০ টাকা

ক্যাপিটাল গেইন ( ৩০০০০০-১৪০০০০)= ১৬০০০০ টাকা। আর এই টাকার ৫ শতাংশ (১৬০০০০*৫%)= ৮০০০ টাকা অগ্রীম আয়কর দিতে হবে।

০৭। ঘোষণা দেয়া: 

শেয়ার হস্তান্তরের আগে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন এবং উভয় স্টক এক্সচেঞ্জে শেয়ার ডিক্লারেশন ফর্ম জমা দিতে হবে। শেয়ার ডিক্লারেশন ফর্ম এই লিঙ্কে ফর্মটি পাওয়া যাবে।

০৮। শেয়ার হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা:

ডিপি’র মাধ্যমে শেয়ার হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। এ সংক্রান্ত যাবতীয় কাজ করার জন্য এজন্য ৩০ কার্যদিবস নির্ধারণ করা রয়েছে।

০৯। হস্তান্তর প্রক্রিয়ার রিপোর্ট জমা দেয়া:

শেয়ার হস্তান্তরের ৭ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় দলিলাদিসহ হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করণের রিপোর্ট জমা দিতে হবে।

 

 

শেয়ারবাজারনিউজ/ম.সা

আপনার মন্তব্য

Top