মার্ক বাংলাদেশ শেয়ার কেলেঙ্কারি: ৪ আসামীকে ২ কোটি টাকা জরিমানা ও ৫ বছরের কারাদন্ড

শেয়ারবাজার রিপোর্ট: মার্ক বাংলাদেশ শিল্প অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানিটির শেয়ার কেলেঙ্কারী মামলায় অভিযুক্ত কোম্পানিসহ ৪ আসামীকে ৫০ লাখ টাকা করে মোট ২ কোটি টাকা জরিমানা করেছেন শেয়ারবাজার বিষয়ক বিশেষ ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে ৩ আসামীকে ৫ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন। আজ ট্রাইব্যুনালের বিচারক আকবর আলী শেখ এই রায় ঘোষণা করেছেন।

এ মামলার আসামিরা হলেন-মার্ক বাংলাদেশ শিল্প অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, কোম্পানির চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইমাম মুলকুতুর রহমান, ভাইস-চেয়ারম্যান আব্দুল হাই ও পরিচালক সালমা আক্তার। এরমধ্যে ইমাম মুলকুতুর রহমান মৃত ও অন্য আসামীরা শুরু থেকেই পলাতক রয়েছেন। যাদের বিরুদ্ধে ২০১৭ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি গ্রেফতারের আদেশ দেন বিচারক আকবর আলী শেখ। তবে এখনো তাদের গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।

অভিযুক্ত ইমাম মুলকুতুর রহমান মারা গেলেও ট্রাইব্যুনাল তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানে না। যে কারনে ইমাম মুলকুতুর রহমানকেও জেল এবং জরিমানার রায় দেওয়া হয়েছে।

আসামিদের গ্রেফতার বা তাদের আত্মসমর্পণের দিন থেকে কারাদণ্ডের হিসাব শুরু হবে। এছাড়া আর্থিক জরিমানা দিতে ব্যর্থ হলে আসামিদের আরও অতিরিক্ত ৬ মাস কারাভোগ করতে হবে বলে মামলার রায়ে বলা হয়েছে।

রিচারক বলেন, অভিযুক্তরা যোগসাজশে লাভবান হয়েছেন। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। অভিযুক্তরা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন অর্ডিন্যান্স ১৯৬৯-এর ১৭ ধারার (ই) (২) উপ-ধারা লঙ্ঘন করেছেন। যা একই অধ্যাদেশের ২৪ ধারায় শাস্তিযোগ্য।

রবিবার রায় ঘোষণার সময় ট্রাইব্যুনালে বিএসইসি’র আইনজীবী মাসুদ রানা খান উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে কোম্পানিটির শেয়ার কেলেঙ্কারী মামলায় ১২ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হয়। আর গত ৬ জুন বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক ড. এম.এ রশীদ সরকার সাক্ষ্য দিয়েছেন। এছাড়া ৭ মে বুয়েটের অধ্যাপক ড. মাহমুদ হেলালী ও অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জহুরুল হক ও ১২ এপ্রিল বিএসইসির নির্বাহি পরিচালন এটিএম তারিকুজ্জামান সাক্ষ্য দেন। সাক্ষ্যে এটিএম তারিকুজ্জামান মার্ক বাংলাদেশ শিল্প অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি পরিদর্শন করেছেন বলে জানান। এক্ষেত্রে কোম্পানি কর্তৃপক্ষের দ্ধারা স্থায়ী সম্পদের মূল্য অনেক বেশি সত্যতা পান। এছাড়া এই কোম্পানি কর্তৃপক্ষ অবৈধভাবে বেনামে শেয়ার বিক্রয় করে বলে সাক্ষ্য দেন তিনি।

গত ৩ এপ্রিল এ মামলায় সাক্ষ্য দেন বিএসইসির আরেক নির্বাহি পরিচালক ফরহাদ আহমেদ। যিনি মার্ক বাংলাদেশ শিল্প অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মতো এমন ঠক ও প্রতারক কোম্পানি জীবনে কোনদিন দেখেননি বলে সাক্ষ্য দেন। একইসঙ্গে শেয়ারবাজারে ধসের জন্য যে কয়টি কোম্পানি দায়ী, মার্ক বাংলাদেশ তারমধ্যে প্রথম সারির বলে জানান তিনি। ওইদিন ফরহাদ আহমেদ বলেন, মার্ক বাংলাদেশের স্থায়ী সম্পদের বাজার মূল্য বেশি দেখিয়ে সাধারন বিনিয়োগকারীদেরকে কোম্পানিটির শেয়ার ক্রয়ে উদ্বুদ্ধ করা হয়। যার সঙ্গে কোম্পানিটির পর্ষদ জড়িত ছিল।

এর আগে বিএসইসির উপ-পরিচালক এএসএম মাহমুদুল হাসান ও সাবেক উপ-পরিচালক শুভ্রকান্তি চৌধুরী সাক্ষ্য দেন।

১৯৯৯ সালে শেয়ার নিয়ে কারসাজির দায়ে ২০০০ সালে মার্ক বাংলাদেশ শিল্প অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানিটিসহ ৪ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) পক্ষে প্রতিষ্ঠানটির তৎকালীন উপপরিচালক আহমেদ হোসেন মামলা দায়ের করেন। সিকিউরিটিজ অধ্যাদেশ এর ২৫ ধারা অনুযায়ী এ মামলা করা হয়। সিএমএম আদালতের ১৩৬৪/২০০০ নম্বরের মামলাটি ট্রাইবুন্যালে হয়েছে ৩/১৬ নং। ২০১৬ সালের ৬ নভেম্বর ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) আদালত থেকে এই ট্রাইব্যুনালে মামলাটি স্থানান্তরিত হয়।

 

শেয়ারবাজারনিউজ/আ

আপনার মন্তব্য

Top