ব্যাংক খাত সংস্কার হবে, ২০৩০ সালে প্রতিবেশি দেশকে ঋণ দিবে বাংলাদেশ: পরিকল্পনা মন্ত্রী

শেয়ারবাজার রিপোর্ট: দেশের ব্যাংক খাতে সংস্কার আনা হবে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেন, ব্যাংকিং সেক্টরে রিফর্মস (সংস্কার) এনে ভালোদের পুরস্কৃত করা হবে। আর খারাপরা যতই প্রভাবশালী হোক না কেন, তাদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে পাওনা টাকা (খেলাপি) আদায় করা হবে।

আজ রবিবার রাজধানীর একটি হোটেলে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি) আয়োজিত ‘সিপিডি বাজেট সংলাপ ২০১৮’-তে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ব্যাংক খাতে অনিয়ম বন্ধে আমরা কোনও ব্যবস্থা নিইনি, এমন অভিযোগ সঠিক নয়। আমাদের সময়ে ব্যাংক খাতে অনিয়ম হয়নি, এমন কথাও বলবো না। তবে আমরা ব্যাংক ও আর্থিক খাতের রিফর্মস আনবো। রিফর্মস এনে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে আরও শক্তিশালী করবো। তিনি বলেন, উইন উইন সিচুয়েশন করে আমরা ম্যাচ করবো। যারা ভালো তাদের যত প্রকারের উৎসাহ দেওয়া যায় আমরা দেববো। আর এই খাতে খারাপ যারা আছে, তারা যত বড়ই হোক না কেন, তাদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো এবং তাদের কাছ থেকে পাওনা আদায় করা হবে।

ব্যাংক খাতের করপোরেট কর কমানোর প্রসঙ্গ তুলে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, রফতানি ও সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) বাড়াতে লেভেল প্লেইং ফিল্ড তৈরি করতে হবে। ব্যাংক খাতে করপোরেট ট্যাক্স অনেক বেশি ছিল। এ ট্যাক্স নেট যদি আমরা না কমাই, তাহলে বিদেশিরা বিনিয়োগ করবে কেন?

২০৩০ সালে প্রতিবেশী দেশকে বাংলাদেশ ঋণ দেবে এমন ভবিষ্যদ্বাণী করে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, ২০৩০ সাল নাগাদ আমাদের আর অন্য কোনও দেশ থেকে টাকা ধার করতে হবে না। আমরা বরং টাকা ধার দেবো। এখন চীন আমাদের ঋণ দিচ্ছে, অথচ ওদের ঋণের পরিমাণ জিডিপির তুলনায় ১৮৫ শতাংশ।’ তিনি বলেন, ‘আমার লেখা-পড়া যদি সত্য হয়, তাহলে ২০৩০ সাল নাগাদ আমরা আশপাশের দেশগুলোকে ঋণ দেবো।

সিপিডির চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেহমান সোবহানের সভাপতিত্বে এই সংলাপে আরও বক্তব্য রাখেন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান, সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, এমসিসিআইয়ের সভাপতি নিহাদ কবির, সিপিডির ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান প্রমুখ। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন।

অনুষ্ঠানে সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ইদানীং দেশের ৫ শতাংশ লোকের আয় যা বেড়েছে তা অবিশ্বাস্য। তারা সারাবিশ্বে বাড়িঘর কিনছে। তাদের টাকা রাখার এখন জায়গা নেই।’ তিনি বলেন, ‘সাধারণ মানুষের ওপর ট্যাক্স কমিয়ে এই ৫ শতাংশ মানুষকে ট্যাক্সের আওতায় আনা গেলে এনবিআরের ট্যাক্স আদায় বহুগুণ বেড় যাবে। ৫ শতাংশ মানুষের মধ্যে কারা আছে দেশের মানুষ তা জানে। কারা ফারমার্স ব্যাংক লুট করেছে? কারা ব্যাংক-শেয়ারবাজার লুট করেছে? কারা মেগা প্রজেক্টের নামে টাকা বাইরে নিয়ে গেছে। বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর তো ৮-১০ মিলিয়ন ডলার বাইরে যাচ্ছে। আইন মেনে আপনি এদের চিহ্নিত করেন।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, যারা ব্যাংক লুট করছে, আপনারা তাদের ট্যাক্স কমিয়ে দিচ্ছেন। আবার যারা লুট করে নিয়ে যাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থাও নিচ্ছেন না। ব্যাংকিং ডিভিশন বলে আপনারা যে জিনিসটা তৈরি করেছেন, এটাকে অবলপন করে দেন। দয়া করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাজগুলো তাদের করতে দেন।

 

শেয়ারবাজারনিউজ/আ

আপনার মন্তব্য

Top