বিনিয়োগকারীদের হাতে হারিকেন ধরিয়ে দিচ্ছে ডিএসই

Biniogkary-sharebazarnewsশেয়ারবাজার রিপোর্ট: হাসান সিকিউরিটিজ হাউজের মাধ্যমে শেয়ার ব্যবসা শুরু করেন মো. ইসতিয়াক আহমেদ। তার বিও অ্যাকউন্ট নং: ১২০৪৮২০০২৩০০০৫০। যে পুঁজি নিয়ে শেয়ার ব্যবসা শুরু করেছিলেন তার সবটাই হারিয়ে বর্তমানে শোচনীয় অবস্থায় জীবন যাপন করছেন তিনি। বর্তমান বাজার পরিস্থিতি নিয়ে ইসতিয়াক আহমেদের অভিযোগ একটাই, কোনো কোম্পানির অস্বাভাবিক শেয়ার দর বাড়ার কারণে যদি মূ্ল্য সংবেদনশীল নোটিশ পাঠানো হয়, তবে দর কমলে কেন নয়? আর এ কারণেই ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) এসব কোম্পানি ও তাদের পরিচালকদের কারসাজি রুখতে পারছে না। সাম্প্রতিক বাজার পরিস্থিতি নিয়ে মো: ইসতিয়াক আহমেদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি শেয়ারবাজার নিউজ ডটকমকে এসব কথা বলেন। সাক্ষাতকারটি নিয়েছেন শেয়ারবাজারনিউজ ডটকমের নিজস্ব প্রতিবেদক মো: অপু আমির। সাক্ষাতকারটির চুম্বক অংশ পাঠকদের উদ্দেশ্যে নিম্নে তুলে ধরা হলো :

শেয়ারবাজার নিউজ : বর্তমান বাজার পরিস্থিতি সম্পর্কে আপনার মতামত বলুন।

ইসতিয়াক আহমেদ: ২০১০ সালের ধসের সময় আমার মতো লাখ লাখ বিনোয়োগকারী ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এরপর কোনোমতে চললেও ২০১৪ সাল থেকে মোটামুটি অবস্থানে আসতে থাকে বাজার। এসময়ে ডিএসইর সূচক পাঁচ হাজারের উপরে চলে যায় যা ছিল রেকর্ড। কিন্তু প্রায় চার মাস যাবৎ যেভাবে কমছে সূচক তাতে শনির দশা যেন আবার ভর করেছে বলে মনে হচ্ছে। বর্তমানে সূচক যে অবস্থানে এসেছে তার চেয়ে নীচে নামার জায়গা নেই। এখন দেশে যে রাজনৈতিক সংকট চলছে পুঁজিবাজারে তার প্রভাব পড়ছে। তাই বাজারে মন্দাবস্থা বিরাজ করছে।

 

শেয়ারবাজার নিউজ :  বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে ডিএসই’র কি করনীয় কিছু আছে?

ইসতিয়াক আহমেদ: ডিএসই একটি জিনিষই পারে, তা হলো- বিনিয়োগকারীদের হাতে হারিকেন ধরানো। কারণ তাদের অবহেলার কারণে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা আজ সর্বশান্ত। তাদের প্ররোচনার কারণে আমরা মাঠে মারা যাচ্ছি।

 

শেয়ারবাজার নিউজ :  ডিএসইর প্ররোচনা বলতে আপনি কি বুঝাচ্ছেন?

ইসতিয়াক আহমেদ: প্ররোচনা বলতে আসলে  কিছু হটকারি কর্মকাণ্ডকে বুঝাচ্ছি।  যদি সব কোম্পানির তথ্যগুলো সঠিকভাবে বিশ্লেষণ করা হতো, তাহলে হয়তো আমাদের বাজারটা আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসত। কারণ যেসব কোম্পানি দর অস্বাভাবিকভাবে কমে তাদের নোটিশ পাঠানোর পাশাপাশি যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতেন তাহলে বাজারটা ভালো হতো। দেখা যায়, যে কোন কোম্পানির শেয়ার দর পরপর দুই-তিন কার্যদিবস সামান্য বাড়ালেই ডিএসই ওই কোম্পানিকে নোটিশ প্রদান করে দেয়। এর ফলে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারী সর্বহারা শেয়ার হোল্ডাররা আরও ক্ষতির সম্মুক্ষীণ হন। কেননা, আমি বেশ আগে সাবমেরিন ক্যাবলের শেয়ার ২৫০ টাকা দরে ক্রয় করেছিলাম। কিন্তু এরপর থেকে এ কোম্পানির শেয়ার দর ৯১ টাকায় নেমে যায়। তখনো ডিএসইর পক্ষ থেকে কোম্পানিকে কোনো মূল্য সংবদেনশীল তথ্য প্রদান করা হয়নি। তবে কিছুদিন আগে সেই ৯১ টাকার শেয়ার যখন ১১০ টাকায় ওঠানামা করে তখনই সাবমেরিনকে নোটিশ পাঠায় ডিএসই। এরকম ঘটনা অলটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ারেও ঘটছে। পরে এ বিষয়ে আমি এমডি স্বপন কুমার বালার সঙ্গে আলাপ করি। কিন্তু এমডি সাহেব জানান, কোনো কোম্পানির শেয়ার দর কমলে সেখানে কোনো ঝুঁকি থাকে না। আর সে জন্য এসব কোম্পানিকে নোটিশ প্রদান করা হয় না।

 

শেয়ারবাজার নিউজ : এ থেকে উত্তরণের উপায় কি হতে পারে বলে আপনি মনে করেন?

ইসতিয়াক আহমেদ: এ সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে হলে ডিএসইকে আন্তরিক হতে হবে।  যদি দর বাড়লে নোটিশ,কমলে নিশ্চুপ এমন কর্মকাণ্ড করা হলে বিনিয়োগকারীরা পুঁজিবাজার থেকে টাকা তুলবে কিভাবে? পুঁজিবাজার একটি সংবেদনশীল বাজার, এখানে বাজার সংশ্লিষ্ট বা পুঁজিবাজার বিষয়ে অভিজ্ঞ ব্যক্তি নিয়োগ না করা হলে উন্নয়ন সম্ভব নয়। কারণ এসব অনভিজ্ঞ লোকেরা সবকিছুতে হ-য-ব-র-ল পরিবেশ সৃষ্টি করে। তাই পুঁজিবাজার উন্নয়ন্নে ও লাখ লাখ বিনিয়োগকারীর স্বার্থ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট পদে অভিজ্ঞ লোকদের নিয়োগ করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

 

শেয়ারবাজার নিউজ: বাজার উন্নয়নে বাংলাদেশ ব্যাংক কি করতে পারে?

ইসতিয়াক আহমেদ: শেয়ারবাজার উন্নয়নে বাংলাদেশ ব্যাংক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংককে ঋণ সুবিধা দীর্ঘ মেয়াদি করতে হবে। পাশাপাশি সুদের হার যদি সিঙ্গেল ডিজিট রাখা হয় তাহলে বিনিয়োকারী ও পুঁজিবাজারের জন্য তা মঙ্গল জনক হবে। ফলে আমাদের স্বপ্নের পুঁজিবাজার আবার ঘুড়ে দাঁড়াবে। এ ক্ষেত্রে ৩৩ লাখ বিনিয়োগকারীর পক্ষ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্ণরের অধিক আন্তরিকতা কমানা করছি।

শেয়ারবাজার নিউজ: বাজার উন্নয়নে বিএসইসির কি ভূমিকা রাখতে পারে বলে আপনি মনে করেন?

ইসতিয়াক আহমেদ: বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জে কমিশন (বিএসইসি) চাইলে পুঁজিবাজার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। কিন্তু কমিশনের পরিচালনা পর্ষদের গাফলতি থাকার কারণে বাজার ভালো হচ্ছে না। কর্মকর্তারা যদি সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করেন তাহলে বাজার ভালো হবে।

 

শেয়ারবাজার নিউজ: গাফিলতি বলতে আপনি কি বোঝাতে চাচ্ছেন?

ইসতিয়াক আহমেদ: সর্বপরি মঙ্গলজনক কথা হচ্ছে বিএসইসিতে অভিজ্ঞ লোক নিয়োগ করতে হবে। আর নতুন চেয়ারম্যান ও কমিশনাররা যদি নতুন বিনিয়োগকারীদের বাজারে আসার আহ্বান করে এবং সুন্দর একটা দিক-নির্দেশনা প্রদান করে তাহলে বাজার ভালো হবে। পাশাপাশি বাজারের ওপর বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরে আসবে। বিএসইসির চেয়ারম্যান বলেছিলেন, বাজার ভালো না হলে তিন মাসের মধ্যে পদত্যাগ করবেন। কিন্তু এভাবে তিন, ছয়, নয় মাস এমনকি বছরের পর বছর পার করার পরও বাজারের কোনো গতি হলো না।

 

শেয়ারবাজার নিউজ: নতুন বিনিয়োগকারীদের সচেতনতার উদ্দেশ্যে কিছু বলুন ?
ইসতিয়াক আহমেদ: শেয়ারবাজার একটি স্পর্শকাতর বিষয়, এখানে বিনিয়োগ করার আগে অনেক কিছু ভেবে চিন্তে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। বিনিয়োগকারীদের দেখা উচিত আমি যে কোম্পানির শেয়ারটি কিনেছি তা আদৌ ভালো কি না। বাজারে কোম্পানিটির অবস্থান কোথায়। কোনো ধরনের গুজবে কান না দিয়ে নিজে নিজে এনালাইসিস করে শেয়ার ক্রয়-বিক্রয় করা উচিত বলে আমি মনে করি।

 

 

শেয়ারবাজারনিউজ/অ/মু/ও

আপনার মন্তব্য

*

*

Top