নিয়ম মানতে গিয়ে সাড়ে ৬গুণ লোকসান বেড়েছে বিআইএফসি’র

শেয়ারবাজার রিপোর্ট: বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশ মেনে সঞ্চিতি সংরক্ষণ করতে গিয়ে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানির (বিআইএফসি) লোকসান সাড়ে ৬গুণ বেড়েছে। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা যায়, কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিআইএফসি-কে খেলাপি ও মন্দ ঋণের বিপরীতে শতভাগ সঞ্চিতি সংরক্ষণের নির্দেশ দেয়। কোম্পানিটির বহি:নিরীক্ষকের নিরীক্ষা অনুযায়ী কোম্পানিটিতে মোট ৬০৮ কোটি ৮৫ লাখ ৭২ হাজার টাকা খেলাপি ঋণ রয়েছে। এর পুরোটাই প্রভিশনিং করার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

এতে ৩১ ডিসেম্বর ২০১৭ সমাপ্ত বছরে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি লোকসান ৬৯.৫৫ টাকা। এর আগের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে শেয়ার প্রতি লোকসান দেখানো হয়েছিল ৯.৩৪ টাকা।

একই সময়ে নতুন প্রতিবেদনে শেয়ার প্রতি সম্পদ মূল্য দেখানো হয়েছে ৬৬.৪০ টাকা ঋণাত্মক। এর আগের প্রতিবেদনে দেখানো হয়েছিল ৬.১৯ টাকা ঋণাত্মক।

এদিকে ২০১৮ বছরের প্রথম প্রান্তিকের নতুন অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে শেয়ার প্রতি প্রকৃত সম্পদ দেখানো হয়েছে ৬৮.৩২ টাকা ঋণাত্মক। এর আগের প্রতিবেদনে সম্পদ দেখানো হয়েছিল ৮.১১ টাকা ঋণাত্মক।

গত ১০ মে ২০১৮ তারিখে জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে বিআইএফসি বেআইনিভাবে দখলে নেয়ার অভিযোগ করেছেন প্রতিষ্ঠানটির সাবেক চেয়ারম্যান মেজর (অব.) আবদুল মান্নান। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে ঋণ জালিয়াতির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

প্রসঙ্গত, ঋণ জালিয়াতির অভিযোগে সম্প্রতি মেজর (অব.) ও তার পরিবারের আরও দুই সদস্যকে বিআইএফসির পর্ষদ থেকে অপসারণ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এরপর কোম্পানিটি পরিচালনায় নতুন বোর্ড গঠন করা হয়।

মেজর মান্নান বলেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকে সুনামের সঙ্গে ব্যবসা করেছিল বিআইএফসি। কিন্তু ২০১৫ সাল থেকে একটি কুচক্রী মহল শেয়ারবাজার থেকে কোম্পানির ৫ শতাংশ শেয়ার কিনে বাংলাদেশ ব্যাংকের আদেশে দু’জন পরিচালক মনোনয়ন দেন- যা আইনসম্মত ছিল না। তিনি আরও বলেন, সেই মহলটি বাকি ৯৫ শতাংশ শেয়ারহোল্ডার পরিচালকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করছে। নানা অজুহাতে প্রতিষ্ঠান থেকে সরিয়ে দিয়ে পুরো পরিচালনা পর্ষদ দখল করে নেয়া হয়েছে। এরপর তারা প্রতিষ্ঠানটিকে কৃত্রিমভাবে লোকসান দেখিয়ে কৌশলে পুরো মালিকানা নেয়ার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, বিআইএফসি বার্ষিক প্রতিবেদন অনুসারে ২০১৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত কয়েকশ’ প্রতিষ্ঠানকে সর্বমোট ১ হাজার ৬৩ কোটি টাকা ঋণ দেয়। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটির তৎকালীন ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের অদক্ষতায় এ ঋণের দেয়া টাকা উদ্ধারে ব্যর্থ হয়।

বিআইএফসির বর্তমান চেয়ারম্যান মো. রুহুল আমিন বলেন, মেজর মান্নান সাহেব ও তার পরিবার ৮০০ কোটি টাকার বেশি ঋণ নিয়ে আর ফেরত দিচ্ছে না। এজন্য তাদেরকে বাংলাদেশ ব্যাংক বহিষ্কার করেছে। তিনি বলেন, আমি মান্নান সাহেবকে বলেছি, আপনি বললে আমি এ প্রতিষ্ঠান থেকে চলে যাব। কিন্তু আগে আপনি জনগণের টাকা ফেরত দিন। কিন্তু তারা টাকা ফেরত দিচ্ছে না।

 

শেয়ারবাজারনিউজ/আ

আপনার মন্তব্য

Top