প্রথমদিনে বসুন্ধরা পেপারে ৬৩.৫০ শতাংশ মুনাফা পেয়েছে বিনিয়োগকারীরা

শেয়ারবাজার রিপোর্ট: লেনদেন শুরুর প্রথম দিনে পুঁজিবাজারে সদ্য তালিকাভুক্ত হওয়া পেপার ও প্রিন্টিং খাতের কোম্পানি বসুন্ধরা পেপার মিলসের শেয়ার থেকে ৬৩.৫০ শতাংশ মুনাফা পেয়েছে বিনিয়োগকারীরা। আজ সকাল সাড়ে ১০টায় দেশের উভয় শেয়ারবাজারে আনুষ্ঠিানিকভাবে শুরু হয় এ কোম্পানির লেনদেন। এদিন ‘এন’ ক্যাটাগরির আওতায় লেনদেন শুরু করা বসুন্ধরা পেপার মিলসের ট্রেডিং কোড- বিপিএমএল (BPML) এবং ডিএসইতে কোম্পানি কোড-19512। আর সিএসইতে কোম্পানি কোড হবে 19011।

জানা গেছে, কোম্পানিটির ওপেনিং শেয়ার দর ৮০ টাকা হলেও প্রথম দিনে ১৫৫ টাকা দিয়ে লেনদেন শুরু হয়। প্রথম দিনে কোম্পানিটির শেয়ার দর সর্বনিম্ন ১২৯.৪০ টাকায় এবং সর্বোচ্চ ১৫৫ টাকায় লেনদেন হয়েছে। তবে দিন শেষে কোম্পানিটির শেয়ার দর দাঁড়ায় ১৩০.৮০ টাকা। অর্থাৎ প্রথম দিনে কোম্পানিটির শেয়ার দর থেকে ৫০.৮০ টাকা বা ৬৩.৫০ শতাংশ মুনাফা পেয়েছে বিনিয়োগকারীরা।

ডিএসইতে আজ কোম্পানিটির মোট ৬৩ লাখ ৮ হাজার ৮৩৪টি শেয়ার ৩৫ হাজার ৪৯৫ বার হাত বদল হয়েছে। যার বাজার দর ৮৮ কোটি ৬৫ লাখ ৭৯ হাজার টাকা।

এদিকে চট্টগ্রাম স্টক একচেঞ্জে (সিএসই) বসুন্ধরা পেপার মিলসের ১৫ লাখ ৩ হাজার ৮৪৯টি শেয়ার মোট ১২ হাজার ৭২৪ বার হাত বদল হয়।

এর আগে বসুন্ধরা পেপার মিলসের আইপিও লটারিতে বরাদ্দ পাওয়া শেয়ার সিডিবিএলের মাধ্যমে গত ২৫ জুন বিনিয়োগকারীদের নিজ নিজ বিও হিসাবে জমা হয়েছে। এর আগে গত ৩০ মে (বুধবার) সকাল ১১ টায় গুলকশা (হল নং-১) ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরা (আইসিসিবি) জোয়ার সাহারা, খিলক্ষেত (৩০০ ফিট পূর্বাচল এক্সপ্রেসওয়ে সংলগ্ন), ঢাকায় এ লটারির ড্র’র অনুষ্ঠিত হয়। আর গত ৩০ এপ্রিল থেকে ৯ মে পর্যন্ত চলে কোম্পানির আইপিও আবেদন।

জানা যায়, বাংলাদেশ সিকিউরিটজ অ্যান্ড একচেঞ্জে কমিশনের ৬১০তম সভায় বসুন্ধরা পেপার মিলসের আইপিও অনুমোদন দেয়। কোম্পানিটি শেয়ারবাজারে ২ কোটি ৬০ লাখ ৪১ হাজার ৬৬৭টি শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে ১৯৯ কোটি ৯৯ লাখ ৯৯ হাজার ৯৫২ টাকা সংগ্রহ করে। এর মধ্যে কাট অফ প্রাইস বা ৮০ টাকা দরে ১ কোটি ৫৬ লাখ ২৫ হাজার শেয়ার ইলিজিবল ইনভেস্টরদের কাছে ১২৫ কোটি টাকায় ইস্যু করা হবে। বাকি ১ কোটি ৪ লাখ ১৬ হাজার ৬৬৬টি শেয়ার কাট অফ প্রাইসের ১০ শতাংশ কমে ৭২ টাকা করে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে ৭৪ কোটি ৯৯ লাখ ৯৯ হাজার ৯৫২ টাকায় বিক্রি করা হবে।

এর আগে আইপিওর মাধ্যমে বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে পুঁজিবাজার থেকে মূলধন সংগ্রহে ২০১৬ সালের ৩০ জুন রোড শোর আয়োজন করে বসুন্ধরা পেপার। রোড শোর এক বছরেরও বেশি সময় পরে ২০১৭ সালের আগস্টে কাট অফ প্রাইস নির্ধারণের জন্য বিডিংয়ের অনুমোদন পায় কোম্পানিটি। বিডিংয়ের মাধ্যমে কাট অফ প্রাইস নির্ধারণের পর গত ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত কমিশন সভায় বিনিয়োগকারীদের কাছে বসুন্ধরা পেপারের শেয়ার ইস্যুর অনুমোদন দেয় বিএসইসি।

কোম্পানিটির প্রসপেক্টাস অনুসারে, আইপিওর মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থে কারখানার অবকাঠামো উন্নয়ন, যন্ত্রপাতি ক্রয়, স্থাপনা ও ভূমি উন্নয়ন বাবদ ১৩৫ কোটি, ঋণ পরিশোধ বাবদ ৬০ কোটি এবং বাকি ৫ কোটি টাকা আইপিও প্রক্রিয়ার ব্যয়নির্বাহে খরচ করবে বসুন্ধরা পেপার। ৩০ জুন, ২০১৬ পর্যন্ত কোম্পানিটির ভারিত গড় হারে শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১.৪৬ টাকা। সম্পদ মূল্যায়নসহ শেয়ার প্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) হয়েছে ৩০.৪৯ টাকা।

উল্লেখ, কোম্পানিটির ইস্যু ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে এএএ ফাইন্যান্স এন্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড।

শেয়ারবাজারনিউজ/এম.আর

আপনার মন্তব্য

Top