সুদ কমালে নীতি সহয়তা দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক

শেয়ারবাজার রিপোর্ট: যে সব ব্যাংক সিঙ্গেল ডিজিট সুদে ঋণ দেবে, সেগুলো বিভিন্ন ধরনের সুবিধা পাবে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংক সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে নীতিগত সহায়তা দেবে।

সোমবার (২ জুলাই) কেন্দ্রীয় ব্যাংকে অনুষ্ঠিত ব্যাংকার্স সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির ব্যাংকগুলোর এমডিদের এই আশ্বাস দেন। সভা শেষে ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান ও ঢাকা ব্যাংকের এমডি সৈয়দ মাহবুবুর রহমান সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান।

প্রসঙ্গত, ব্যাংকার্স সভায় ব্যাংকিং খাতের সার্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হলেও গুরুত্ব পায় সিঙ্গেল ডিজিটে ঋণ দেওয়ার বিষয়টি।

বৈঠকে জানানো হয়, মুক্তবাজার অর্থনীতির নিয়ম ভেঙে সুদ হার কমানো বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক কোনও নির্দেশনা দেবে না। ব্যাংকগুলোকেই বাস্তবায়ন করতে হবে।

ঢাকা ব্যাংকের এমডি সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের বক্তব্য হলো—সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে আনার সিদ্ধান্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকের। এ কারণে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকেই ভূমিকা রাখতে হবে। দেশ ও অর্থনীতির স্বার্থে এটা করতে হবে। এটা করতে গিয়ে যেন কোনও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি না হয়। সে দিকেও খেয়াল রাখতে বলেছে।

ঢাকা ব্যাংকের এমডি আরও বলেন, সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে আনতে গিয়ে কোনও সমস্যা হলে বাংলাদেশ ব্যাংক দেখবে। প্রয়োজনে ঋণ-আমানত অনুপাতসীমা কিছুটা লঙ্ঘন হলেও বাংলাদেশ ব্যাংক ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবে। অনেকটা নমনীয় থাকবে।

ঋণে সুদ সিঙ্গেল ডিজিটে আসতে সময় লাগলেও বাস্তবায়ন হবে বলে মন্তব্য করে সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, অধিকাংশ ব্যাংক সিঙ্গেল ডিজিটে ঋণ দেওয়ার ব্যাপারে ইতোমধ্যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এখন আমানত কম সুদে না পেলেও সিঙ্গেল ডিজিটে ঋণ দেওয়ার ব্যাপারে সচেষ্ট থাকবে ব্যাংকগুলো। ইসলামী ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রে কোনও সমস্যা হবে না। তবে কনভেনশনাল ব্যাংকের ক্ষেত্রে আগের আমানত যে সুদ নির্ধারণ করে চুক্তি আছে, সেভাবেই থাকবে। ফলে আগের ঋণও আগের হারেই হিসাবায়ন হবে।

শুধু দুই-একটি খাতে সিঙ্গেল ডিজিটে আসবে, নাকি সব খাতে—এমন প্রশ্নে এবিবি’র চেয়ারম্যান বলেন, সুদ সিঙ্গেল ডিজিটে আনার দায়িত্ব স্ব-স্ব ব্যাংকের। কারণ, প্রতিটি ব্যাংকের বোর্ড আলাদা। তারা কে কোন খাত দিয়ে শুরু করবে, সেটা তাদের বিষয়।

সিঙ্গেল ডিজিটে আসতে সময় লাগতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সময় লাগলেও আমরা করবো। আর সরকারি প্রতিষ্ঠানের আমানত চাইলে তো এখন পাবো না। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যাপারে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে নির্দেশনা আসতে হবে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক চেষ্টা করছে।

৬ শতাংশ সুদে আমানত না পেলে কিভাবে সিঙ্গেল ডিজিট সুদে ঋণ দেবে—এমন প্রশ্নের জবাবে এবিবি’র চেয়ারম্যান বলেন, ৮ শতাংশ সুদে কেউ আমানত নিয়ে ৯ শতাংশ সুদে ঋণ বিতরণ করতে চাইলেও করতে পারে।

এর আগে বেসরকারি ব্যাংক মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্সের (বিএবি) ঘোষণা অনুযায়ী, গত ১ জুলাই থেকে তিন মাস মেয়াদি আমানতের সর্বোচ্চ সুদের হার হবে ৬ শতাংশ আর ঋণের সুদহার হবে ৯ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তারা ছাড়াও সব ব্যাংকের এমডিরা উপস্থিত ছিলেন।

 

শেয়ারবাজারনিউজ/আ

আপনার মন্তব্য

*

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Top