সক্ষমতা বাড়াতে আরো ২ বছর সময় পেয়েছে মার্চেন্ট ব্যাংক

শেয়ারবাজার রিপোর্ট: পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ থেকে সম্ভাব্য ক্ষতির বিপরীতে সঞ্চিতি (প্রভিশন) সংরক্ষণে আরো দুই বছর সময় পাচ্ছে দেশের মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো। আগের নির্দেশনা অনুসারে চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত সঞ্চিতি সংরক্ষণের সময়সীমা নির্ধারিত ছিল। তবে বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তা ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়িয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

গত ২৬ জুন ৬৪৮তম কমিশন সভায় এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএসইসি। গতকাল ২ জুলাই কমিশনের নির্বাহী পরিচালক মো: সাইফুর রহমান স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানিয়েছেন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মার্চেন্ট ব্যাংকের নিজস্ব ও গ্রাহকের পোর্টফোলিওতে পুনঃমূল্যায়নজনিত অনাদায়ী ক্ষতির বিপরীতে সঞ্চিতি সংরক্ষণের সুযোগ আরো দুই বছর বাড়িয়েছে কমিশন। এতে মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো তাদের নিজস্ব ও গ্রাহকের পোর্টফোলিওতে পুনঃমূল্যায়নজনিত অনাদায়ী ক্ষতির বিপরীতে সঞ্চিতি সংরক্ষণের জন্য ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় পাবে।

এর আগে ২০১৩ সালে প্রথমবারের মতো দেশের মার্চেন্ট ব্যাংক ও স্টক ব্রোকার-ডিলারদের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ থেকে সম্ভাব্য ক্ষতির বিপরীতে ধাপে ধাপে সঞ্চিতি সংরক্ষণের সুবিধা দেয়া হয়। এরপর বেশ কয়েক দফা সঞ্চিতি সংরক্ষণের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। সর্বশেষ ২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত স্টক ব্রোকার ডিলার হিসাব, স্টক ব্রোকারের মার্জিন হিসাব এবং মার্চেন্ট ব্যাংকের নিজস্ব ও গ্রাহকের পোর্টফোলিওতে পুনঃমূল্যায়নজনিত অনাদায়ী ক্ষতির বিপরীতে সঞ্চিতি সংরক্ষণে ধাপভিত্তিক সুবিধা দেয়া হয়। কিন্তু হিসাবমান অনুসারে ধাপভিত্তিক সঞ্চিতি সংরক্ষণের সুযোগ না থাকায় ২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বরের পর থেকে সঞ্চিতি সংরক্ষণের মেয়াদ বাড়ানো হলেও আর ধাপভিত্তিক সুবিধা পায়নি মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো। বর্তমানে মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোকে প্রচলিত হিসাবমান অনুসারেই সঞ্চিতি সংরক্ষণ করতে হচ্ছে।

সঞ্চিতি সংরক্ষণে বিদ্যমান সুবিধার মেয়াদ চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকলেও এর সময়সীমা আরো দুই বছরের জন্য বাড়াতে কমিশনের কাছে আবেদন করে বিএমবিএ। তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর জন্য সঞ্চিতি সংরক্ষণের সময়সীমা বাড়িয়েছে বিএসইসি। স্টক ব্রোকার ও ডিলারদের জন্য একই সুবিধা প্রযোজ্য হলেও এখন পর্যন্ত তাদের কাছ থেকে সময়সীমা বাড়ানোর কোনো আবেদন করা হয়নি। তবে তাদের পক্ষ থেকে সময় বাড়ানোর আবেদন করা হলে একইভাবে সেটিও বিবেচনা করবে বিএসইসি।

মূলত ঋণাত্মক ইকুইটির ফাঁদ থেকে বের হয়ে আসার জন্য মার্চেন্ট ব্যাংক, স্টক ব্রোকার ও স্টক ডিলারদের সঞ্চিতি সংরক্ষণের এ সুযোগ দেয়া হয়। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানগুলোর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঋণাত্বক ইকুইটির বিও হিসাবগুলোয় লেনদেন চালু রাখতে মার্জিন রুলস,১৯৯৯-এর ধারা ৩ (৫)-এর কার্যকারিতাও স্থগিত রেখেছে কমিশন। এ স্থগিতাদেশের মেয়াদও একইভাবে সময় সময় বাড়ানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, পুঁজিবাজারের দুষ্ট ক্ষত হিসেবে পরিচিত ঋণাত্মক ইকুইটি ইস্যুতে বেশ কয়েকবার বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। মূলত ঋণাত্মক ইকুইটির বিও হিসাবে লেনদেন চালু রাখার সময়সীমা শেষ হয়ে এলেই এ ইস্যুতে বাজারে অস্থিতিশীলতা দেখা যায়। আর এ কারণে বাজার স্থিতিশীলতায় কমিশনের পক্ষ থেকেও বারবার এর সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। তবে ঋণাত্মক ইকুইটির বিষয়ে একটি স্থায়ী সমাধানে আসতে চাইছে বিএসইসি। এজন্য গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রতি মাসের শেষ তারিখে ঋণাত্মক ইকুইটির তথ্য স্টক এক্সচেঞ্জকে জানানোর জন্য মার্জিন ঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশনা দেয় কমিশন। প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে মার্জিন ঋণের সংগৃহীত তথ্য প্রতি মাসের প্রথম সপ্তাহে প্রতিবেদন আকারে কমিশনের কাছে জমা দিতে বলা হয় স্টক এক্সচেঞ্জকে।

ঋণাত্মক ইকুইটির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে বিএসইসির এক কর্মকর্তা বলেন, প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে প্রতি মাসে তথ্য তলব করার পাশাপাশি ঋণাত্মক ইকুইটি সমন্বয়ের জন্যও কমিশনের পক্ষ থেকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এতে কিছুটা কাজও হয়েছে। গত বছরের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে ঋণাত্মক ইকুইটির পরিমাণ প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা কমে ৫ হাজার কোটি টাকায় নেমে আসে। তবে চলতি বছরে বাজার পরিস্থিতির কারণে ঋণাত্মক ইকুইটির নিট অংকটি তেমন একটা কমেনি। আশা করা যাচ্ছে, বর্ধিত সময়সীমার সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের ঋণাত্মক ইকুইটি সমন্বয় করতে সক্ষম হবে। এটি প্রতিষ্ঠান ও পুঁজিবাজারের উভয়ের জন্যই মঙ্গলজনক।

 

শেয়ারবাজারনিউজ/আ

আপনার মন্তব্য

*

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Top