সিলভা ফার্মার ৩০ শতাংশ শেয়ার আইসিবি’র কাছে: দেখে নিন আর্থিক অবস্থা

শেয়ারবাজার রিপোর্ট: ফিক্সড প্রাইস পদ্ধতিতে প্রথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে টাকা তোলার অনুমোদন পাওয়া ঔষধ ও রসায়ন খাতের সিলভা ফার্মাসিউটিক্যালস লি: এর শেয়ারে রাষ্ট্রায়ত্ত্ব বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি) ৩০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে।

আইসিবি সূত্রে জানা যায়, গত ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ তারিখে সিলভা ফার্মার ৩ কোটি শেয়ার (প্রতিটি অভিহিত মূল্য ১০টাকা করে) ৩০ কোটি টাকায় কেনে আইসিবি। যা কোম্পানিটির মোট শেয়ারের ৩০ শতাংশ। কোম্পানির পর্ষদ সভায় পরিচালক পদে আইসিবি’র মনোনিত প্রতিনিধি রয়েছে।

কোম্পানিটির বর্তমান পরিশোধিত মূলধন ১০০ কোটি টাকা। যা ১০ কোটি শেয়ারে বিভক্ত। আইপিও-তে ১০ টাকা করে ৩ কোটি শেয়ার ছেড়ে পুঁজিবাজার থেকে ৩০ কোটি টাকা তোলার অনুমোদন পেয়েছে কোম্পানিটি। আর আইপিও পরবর্তী আইসিবি’র কোম্পানির ধারণকৃত শেয়ার শতাংশ হবে ২৩.০৮।

আগামী ২৯ জুলাই কোম্পানিটির আইপিও আবেদন শুরু হবে। আগামী ৫ আগষ্ট পর্যন্ত বিনিয়োগকারীরা এ কোম্পানির শেয়ারে আবেদন করতে পারবেন।

আইপিও’র ৩০ কোটি টাকার মধ্যে নতুন মেশিন ও ইক্যুইপমেন্ট কেনায় খরচ হবে ১২ কোটি ২৫ লাখ টাকা, সিভিল কন্সট্রাকশনে ব্যয় হবে ৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা, এনসিসি ব্যাংকের মেয়াদি ঋণ পরিশোধে ৯ কোটি ৯০ লাখ টাকা এবং বাকী ২ কোটি ২৫ লাখ টাকা আইপিও খরচে ব্যয় হবে।

কোম্পানিটির ইস্যু ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে প্রাইম ফাইন্যান্স ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড, ইম্পেরিয়াল ক্যাপিটাল লিমিটেড ও এসবিএল ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড।

এদিকে কোম্পানি সূত্রে জানা যায়, ২০১৭-২০১৮ হিসাব বছরের তৃতীয় প্রান্তিক (জুলাই-মার্চ) শেষে শেয়ার প্রতি প্রকৃত সম্পদ মূল্য (এনএভি) হয়েছে ১৬.৯৪ টাকা। যা ৩০ জুন ২০১৭ শেষে ছিল ১৬.৪৮ টাকা।

এই সময় কোম্পানিটি মোট ৫১ কোটি ৭৩ লাখ ৯৭ হাজার টাকার পণ্য বিক্রি করেছে এবং কর পরিশোধের পর প্রকৃত মুনাফা করেছে ৭ কোটি ৬৬ লাখ ৩৫ হাজার টাকা ও শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ০.৭৭ টাকা (বর্তমান পরিশোধিত মূলধন হিসাবে)। এর আগের বছর একই সময়ে কোম্পানিটি মোট ৪৩ কোটি ৩২ লাখ ৪৮ হাজার টাকার পণ্য বিক্রি করেছিল এবং কর পরিশোধের পর প্রকৃত মুনাফা করেছিল ৫ কোটি ৭১ লাখ ৯৮ হাজার টাকা ও ইপিএস হয়েছিল ০.৮১ টাকা।

জানুয়ারি’১৮ থেকে মার্চ’১৮ পর্যন্ত তিন মাসে কোম্পানিটি মোট ১৬ কোটি ৮৫ লাখ ২৮ হাজার টাকার পণ্য বিক্রি করেছে এবং কর পরিশোধের পর প্রকৃত মুনাফা করেছে ২ কোটি ২১ লাখ ৩২ হাজার টাকা ও ইপিএস হয়েছে ০.২২ টাকা। এর আগের বছর একই সময়ে কোম্পানিটি মোট ১৫ কোটি ১০ লাখ ৪৪ হাজার টাকার পণ্য বিক্রি করেছিল এবং কর পরিশোধের পর প্রকৃত মুনাফা করেছিল ২ কোটি ০৬ লাখ ১৮ হাজার টাকা ও ইপিএস ছিল ০.২৬ টাকা।

৯ মাসে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি প্রকৃত নগদ অর্থ প্রবাহ (এনওসিএফপিএস) হয়েছে ০.৯৩ টাকা। এর আগের বছর একই সময়ে যা ছিল ০.৪৯ টাকা।

এছাড়া কোম্পানির নিরীক্ষা প্রতিবেদনে ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে মোট ৬০ কোটি ২৪ লাখ ৯১ হাজার টাকার পণ্য বিক্রি করেছে, কর পরিশোধের পর প্রকৃত মুনাফা করেছে ৮ কোটি ২ লাখ ৭৮ হাজার টাকা এবং শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১.০৩ টাকা। এর আগের বছর একই সময়ে মোট ৫৮ কোটি ৫৯ লাখ ৫৬ হাজার টাকার পণ্য বিক্রি করেছিল, কর পরিশোধের পর প্রকৃত মুনাফা করেছিল ৬ কোটি ৯৫ লাখ ৫১ হাজার টাকা এবং শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছিল ১.১৩ টাকা।

একই সময়ে শেয়ার প্রতি নগদ কার্যকর অর্থ প্রবাহ (এনওসিএফপিএস) হয়েছে ১.০৩ টাকা। যা এর আগের বছর একই সময়ে ছিল ১.৪৮ টাকা।

উল্লেখ্য, বর্তমানে কোম্পানিটি ৭৪ ধরণের এন্টি বায়োলজিকাল ও ৪২ ধরণের বায়োলজিকাল ঔষধ তৈরি করে।

 

শেয়ারবাজারনিউজ/আ

আপনার মন্তব্য

Top