তৃতীয় প্রান্তিকে এসকয়ার নিট কম্পোজিটের ইপিএস ২৭.৩৮ শতাংশ বেড়েছে

শেয়ারবাজার রিপোর্ট: বুক বিল্ডিং পদ্ধিতিতে শেয়ারবাজার থেকে অর্থ উত্তোলনের অনুমোদন পাওয়া এসকয়ার নিট কম্পোজিট লিমিটেড ২০১৭-২০১৮ হিসাব বছরের তৃতীয় প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এ সময় কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) ২৭.৩৮ শতাংশ বেড়েছে। কোম্পানি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জানুয়ারি’১৮ থেকে মার্চ’১৮ পর্যন্ত তিন মাসে কোম্পানিটির কর পরিশোধের পর প্রকৃত মুনাফা হয়েছে ১০ কোটি ৬৭ লাখ ৯৯ হাজার টাকা এবং শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১.০৭ টাকা। এর আগের বছর একই সময়ে প্রকৃত মুনাফা ছিল ৮ কোটি ৪১ লাখ ৪ হাজার টাকা এবং ইপিএস ছিল ০.৮৪ টাকা। ইপিএস বেড়েছে ২৭.৩৮ শতাংশ।

এ সময়ে কোম্পানির মোট ১২৮ কোটি ৭২ লাখ ৪ হাজার টাকার পণ্য বিক্রি হয়েছে। এর আগের বছর একই সময়ে ১১৩ কোটি ৮৫ লাখ টাকার পণ্য বিক্রি হয়েছিল।

২০১৭-২০১৮ হিসাব বছরের ৯ মাসে (জুলাই’১৭-মার্চ’১৮) কোম্পানিটির কর পরিশোধের পর প্রকৃত মুনাফা হয়েছে ২৯ কোটি ১৩ লাখ ১০ হাজার টাকা এবং শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ২.৯১ টাকা। এর আগের বছর একই সময়ে প্রকৃত মুনাফা ছিল ২৩ কোটি ৯৫ লাখ ৬৭ হাজার টাকা এবং ইপিএস ছিল ২.৪০ টাকা। ইপিএস বেড়েছে ২১ শতাংশ।

এ সময়ে কোম্পানির মোট ৩৭৯ কোটি ৬২ লাখ ৬২ হাজার টাকার পণ্য বিক্রি হয়েছে। এর আগের বছর একই সময়ে ৩০৯ কোটি ৯২ লাখ ৪ হাজার টাকার পণ্য বিক্রি হয়েছিল।

এই সময়ে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি সম্পদ (এনএভি) ৪৮.৭৪ টাকা সম্পদ মূল্যায়ন প্রতিবেদন অনুযায়ী। আর সম্পদ মূল্যায়ন ছাড়া এনএভি হয়েছে ২৮.৮৭ টাকা। এছাড়া শেয়ার প্রতি নগদ কার্যকর অর্থ প্রবাহ (এনওসিএফপিএস) হয়েছে ৩.৫৯ টাকা।

২০১৭-২০১৮ হিসাব বছরের অর্ধবার্ষিকে (জুলাই’১৭-ডিসেম্বর’১৭) কোম্পানিটির কর পরিশোধের পর প্রকৃত মুনাফা হয়েছে ১৮ কোটি ৪৫ লাখ ১১ হাজার টাকা এবং শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১.৮৫ টাকা। এর আগের বছর একই সময়ে প্রকৃত মুনাফা ছিল ১৫ কোটি ৫৪ লাখ ৬৩ হাজার টাকা এবং ইপিএস ছিল ১.৫৫ টাকা। ইপিএস বেড়েছে ১৯.৩৫ শতাংশ।

এ সময়ে কোম্পানির মোট ২৫০ কোটি ৯০ লাখ ৫৭ হাজার টাকার পণ্য বিক্রি হয়েছে। এর আগের বছর একই সময়ে ১৯৬ কোটি ৭ লাখ ৩ হাজার টাকার পণ্য বিক্রি হয়েছিল।

অর্ধবার্ষিকের শেষ তিন মাসে (অক্টোবর’১৭-ডিসেম্বর’১৭) কোম্পানিটির কর পরিশোধের পর প্রকৃত মুনাফা হয়েছে ৯ কোটি ৬৬ লাখ ৯১ হাজার টাকা এবং শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ০.৯৭ টাকা। এর আগের বছর একই সময়ে প্রকৃত মুনাফা ছিল ৭ কোটি ৭৯ লাখ ৮৫ হাজার টাকা এবং ইপিএস ছিল ০.৭৮ টাকা। ইপিএস বেড়েছে ২৪.৩৫ শতাংশ।

এ সময়ে কোম্পানির মোট ১২৫ কোটি ৭০ লাখ ১০ হাজার টাকার পণ্য বিক্রি হয়েছে। এর আগের বছর একই সময়ে ১২১ কোটি ৪৩ লাখ ৬১ হাজার টাকার পণ্য বিক্রি হয়েছিল।

বুক বিল্ডিং পদ্ধিতিতে কোম্পানিটির শেয়ার দর নির্ধারণ ও কেনার জন্য নিলাম (Bidding) আজ ৯ জুলাই বিকেল ৫টায় শুরু হবে। যা চলবে আগামী ১২ জুলাই বিকেল ৫টা পর্যন্ত। অর্থাৎ ৭২ ঘন্টা টানা বিডিং চলবে। বিডিংয়ে যোগ্য বিনিয়োগকারীরা কোম্পানিটির ৯৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকার শেয়ার কেনার জন্য শেয়ার দর প্রস্তাব করতে পারবেন। একজন বিনিয়োগকারী সর্বোচ্চ ১ কোটি ৮৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার শেয়ার কেনার জন্য বিডিং করতে পারবেন। ১০০ শেয়ারে কোম্পানিটির মার্কেট লট নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর আগে কোম্পানিটিকে বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে পুঁজিবাজারে শেয়ার ছেড়ে ১৫০ কোটি টাকা উত্তোলন করার জন্য বিডিংয়ের অনুমোদন দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। আর এ টাকা থেকে কোম্পানিটি ১০০ কোটি ৪২ লাখ টাকা দিয়ে ভবন নির্মাণ, ২১ কোটি ২৩ লাখ টাকা দিয়ে ইয়ার্ন ডাইং মেশিন ক্রয়, ২১ কোটি ৯১ লাখ টাকা দিয়ে ওয়াশিং প্লান্ট মেশিন ক্রয় ও বাকি ৬ কোটি ৪৪ লাখ টাকা আইপিও বাবদ খরচে ব্যবহার করার পরিকল্পনা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।

কোম্পানিটির ইস্যু ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে প্রাইম ফাইন্যান্স ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিডে। আর রেজিস্ট্রার টু দ্য ইস্যুর দায়িত্বে রয়েছে আইসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড।

মূলত ময়মনসিংহের ভালুকায় নতুন গার্মেন্টস ইউনিট নির্মাণের জন্য কোম্পানিটি আইপিও এর মাধ্যমে টাকা তুলছে। এ প্রজেক্টটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৭৬ কোটি ৬৩ লাখ ৪৮ হাজার ৭৮৮ টাকা। এর মধ্যে আইপিও’র পাশাপাশি ব্যাংক ঋণের মাধ্যমে ৩৪৬ কোটি ৯৬ লাখ ৬৫ হাজার টাকা এবং কোম্পানির নিজস্ব উৎস থেকে ৮৬ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার টাকা সংগ্রহ করা হবে।

৫৭৬ কোটি টাকার প্রজেক্টের জন্য বিশ্বব্যাংক গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশনের (আইএফসি) কাছ থেকে ২২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১৮০ কোটি টাকা) ঋণ পাচ্ছে এস্কয়্যার নিট কম্পোজিট লি:। সম্প্রতি এ ঋণের বিষয়ে প্রতিষ্ঠান দুটির মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী ৮ বছর মেয়াদে আইএফসি এ ঋণ সরবরাহ করবে। ঋণ পরিশোধে ২ বছর গ্রস পিরিয়ডও পাবে কোম্পানিটি। ঋণের সুদহার ৩.৭৫ শতাংশ। চুক্তি অনুযায়ী ১২ কিস্তিতে ঋণ পরিশোধ করতে হবে কোম্পানিটিকে।

বর্তমানে কোম্পানিটির অনুমোদিত মূলধন ২০০ কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ১০০ কোটি টাকা।

এদিকে বিডিংয়ে অংশগ্রহণকারী যোগ্য বিনিয়োগকারীদের নতুন আচরণবিধির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে বিডিংয়ে অংশগ্রহণের জন্য একটি ‘বিডিং রেকমেন্ডেশন কমিটি’ গঠন করতে হবে। কমপক্ষে দুজন সদস্যের সমন্বয়ে গঠিত এ কমিটির সদস্যদের আনুষঙ্গিক জ্ঞান, যোগ্যতা, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। কমিটি সিকিউরিটিজের ভ্যালু ও সম্ভাবনা বিশ্লেষণ করে বিডিংয়ে অংশগ্রহণের বিষয়ে সুপারিশ করবে। প্রয়োজনে কী পরিমাণ শেয়ারের জন্য কত টাকা বিনিয়োগ করা যাবে, কমিটি তার প্রতিষ্ঠানকে সেটিও সুপারিশ করবে। সেসব সুপারিশের ভিত্তিতে যোগ্য বিনিয়োগকারীরা নিলামে অংশ নেবে। কমিশন কিংবা স্টক এক্সচেঞ্জের তদন্তের সুবিধার্থে বিডিংয়ে অংশগ্রহণের বিষয়ে ইআইয়ের সিদ্ধান্ত ও কমিটির কার্যক্রমের সব তথ্য সংরক্ষণ করতে হবে। আর বস্তুনিষ্ঠতা, স্বচ্ছতা ও স্বাতন্ত্র্য নিশ্চিত করে বিডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে ইআই ও কমিটির সদস্যদের ডিউ ডিলিজেন্স ও স্বাধীনভাবে তাদের পেশাগত জ্ঞানের প্রয়োগ করতে হবে। বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে কোম্পানির আর্থিক, কারিগরি, পরিচালন, বাণিজ্যিক, অর্থনৈতিক, মালিকানা কাঠামোসহ সবদিক বিবেচনা করতে হবে কমিটিকে।

এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ভ্যালুয়েশন পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে এবং বস্তুনিষ্ঠ ও পেশাগত জ্ঞানের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ভ্যালুয়েশন-সংক্রান্ত সব হিসাব, বিশ্লেষণ ও কার্যপদ্ধতি লিখিতভাবে সংরক্ষণ করতে হবে। আর কোনো ধরনের প্ররোচনা, হস্তক্ষেপ কিংবা চাপ ছাড়া স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ, সততা ও স্বাতন্ত্র্যতার সঙ্গে কমিটিকে বিশ্লেষণ ও সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ভ্যালুয়েশন-সংক্রান্ত কোনো তথ্য সংশ্লিষ্ট কোম্পানি, ইস্যু ব্যবস্থাপক, অন্য ইআই কিংবা তৃতীয় কোনো পক্ষের কাছে প্রকাশ করা যাবে না। বিডিং প্রক্রিয়া শেষ হওয়া পর্যন্ত বিশ্লেষণ, সুপারিশ ও সিদ্ধান্তের বিষয়গুলো গোপন রাখতে হবে। বিডিং প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার দুই কার্যদিবসের মধ্যে প্রত্যেক ইআইকে তাদের কমিটির ভ্যালুয়েশন রিপোর্ট ও হিসাব-নিকাশের বিস্তারিত তথ্য সংশ্লিষ্ট স্টক এক্সচেঞ্জে জমা দিতে হবে। সেখানে ভ্যালুয়েশন-সংক্রান্ত কোনো ব্যত্যয় দেখলে বিডিং পরিচালনাকারী এক্সচেঞ্জ সাত কার্যদিবসের মধ্যে কমিশনকে এ বিষয়ে অবহিত করবে। আচরণ বিধি-সংক্রান্ত বিএসইসির নির্দেশনা লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে ইআই কিংবা বিডিং কমিটির সদস্যদের বিরুদ্ধে সিকিউরিটিজ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে কমিশন।

 

শেয়ারবাজারনিউজ/আ

আপনার মন্তব্য

*

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Top