উদোর পিন্ডি বুদোর ঘাড়ে

দোষ করল মীরা, মার খেল হীরা।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (লিষ্টিং) রেগুলেশন,২০১৫ এর ৫১ (১) ধারায় কোনো কোম্পানিকে ডি-লিষ্টিং করার জন্য চারটি কারণ উল্লেখ করা হয়েছে। কোনো কোম্পানি যদি ৫ বছর ধরে ডিভিডেন্ড না দেয়, যদি কোনো কোম্পানি টানা তিনটি বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) করতে ব্যর্থ হয়, কোম্পানির স্বেচ্ছায় বা কোর্টের মাধ্যমে অবসায়ন বা তিন বছর ধরে উৎপাদন বন্ধ থাকে এবং তিন বছর ধরে স্টক এক্সচেঞ্জের লিষ্টিং ফি পরিশোধ না করে তাহলে ডিএসই চাইলে কোম্পানিকে ডি-লিষ্টিং করতে পারে।

কিন্তু ডি-লিষ্টিং করার আগে এই আইনের ৫১ (৩) ধারায় স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, শুনানীর সুযোগ না দিয়ে কোনো কোম্পানিকেই ডি-লিষ্টিং করা যাবে না।

রহিমা ফুড ও মডার্ন ডাইং কোম্পানি দুটিকে তালিকাচ্যুত করা হয়েছে কোনো শুনানীর সুযোগ না দিয়েই। এছাড়া সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থটুকুও দেখা হয়নি। বিকেলে সিদ্ধান্ত,তারপরের দিন থেকেই তালিকাচ্যুত। এ দুই কোম্পানির তিন বছর ধরে উৎপাদন বন্ধের কারণ দেখানোর পাশাপাশি আরো একটি কারণ দেখানো হয়েছে যে, এগুলোর শেয়ার দর অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। উৎপাদন বন্ধের জন্য ডি-লিষ্টিং করতে পারে কিন্তু অস্বাভাবিক দর বৃদ্ধির জন্য লিষ্টিং রেগুলেশনে লেনদেন হল্ট করে রাখার বিধান রয়েছে। ডি-লিষ্টিং করে ডিএসই কর্তৃপক্ষ যেমন আইন পরিপালন করেছে তেমনি শুনানীর সুযোগ না দিয়ে আইনের বরখেলাপও করেছে।

এ আইনের আওতায় সালমান এফ রহমানের দুটি কোম্পানিসহ কমপক্ষে ১৫টি কোম্পানি রয়েছে যেগুলোকে ডিএসই চাইলেই ডি-লিষ্টিং করতে পারে। তবে ডি-লিষ্টিং করার আগে অন্তত শুনানীর সুযোগ দেওয়া উচিত। কোম্পানির পরিচালকদের দায়ভার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মাথার ওপর চাপিয়ে দেওয়াটা নৈতিকতায় পড়ে না। কারণ কোম্পানি কর্তৃপক্ষকে শাস্তি দেওয়া হলেও তা সম্পূর্ণই ভোগ করতে হচ্ছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের।যেসব কোম্পানিকে বিভিন্ন অনিয়ম করার ফলে ওটিসিতে পাঠানো হয়েছে সেগুলোর পরিচালক, ইস্যু ম্যানেজার রয়েছে আরাম-আয়েশে। কোম্পানির পরিচালকরা অন্য ব্যবসায় মনোযোগী, ইস্যু ম্যানেজার অন্য কোম্পানি নিয়ে ব্যস্ত। অথচ অবহেলায় ওটিসিতে পড়ে থাকা কোম্পানির শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

যদিও রহিমা ফুড ও মডার্ন ডাইংকে তালিকাচ্যুতির মাধ্যমে আর যাই হোক না কেন ‘জেড’ ক্যাটাগরির শেয়ারের লাগাম টেনে ধরা হয়েছে। যেসব কোম্পানির ডি-লিষ্টের সম্ভাবনা রয়েছে সেগুলো থেকে দ্রুত বের হয়ে যাচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা। আর ডিএসই বনাম কারসাজি চক্র এ দুই গ্রুপের ফাঁটা বাঁশের চিপায় পড়েছেন অন্যান্য সাধারণ বিনিয়োগকারী।

যদিও রহিমা ফুড ও মডার্ন ডাইংয়ের রি-লিষ্টিংয়ের সুযোগ রয়েছে। কিন্তু রি-লিষ্টিংযের যে প্রক্রিয়া রয়েছে তাতে কোম্পানি দুটি’র ফিরে আসার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। তবে ভরসা এখন নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। বিএসইসি চাইলেই সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থের দিক বিবেচনা করে যুগপোযোগী সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

 

শেয়ারবাজারনিউজ/ম.সা

আপনার মন্তব্য

One Comment;

  1. nazrul said:

    some employees of dse now gambling the stock that are rising dayby day but can’t stop price rising such as monnostaff pharmaaid styles craft and others they should be honest first.

Leave a Reply to nazrul Cancel reply

*

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Top