পেশিশক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন: কে কোন দল করে দেখার দরকার নাই

শেয়ারবাজার ডেস্ক: বিনা দ্বিধায় শিল্পাঞ্চলে শান্তি রক্ষা ও পণ্য পরিবহন ও আমদানি-রপ্তানি বৃদ্ধি করা ও চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, পেশিশক্তি ও সন্ত্রাস নির্মূল করতে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দিয়েছেন নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বলেছেন, ‘এখানে কে, কোন দল করে, কে কী করে, তা দেখার কোনো দরকার নাই।’

আজ মঙ্গলবার (২৪ জুলাই) রাজধানীতে শুরু হওয়া জেলা প্রশাসক সম্মেলন উদ্বোধন করতে গিয়ে তাদের উদ্দেশ্য রাখা ভাষণে এ নির্দেশ দেন শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যদি কেউ বাধা দেয় আমি এটুকু আপনাদের অনুমতি দিতে পারি, সরাসরি আমার সাথে যোগাযোগ করতে পারেন বা আমার অফিসে যোগাযোগ করতে পারেন। যদি কোথাও কোনো বাধা আসে, আমি সেটা দেখব।’

‘কিন্তু আমরা সমাজ থেকে এসব অশুভ জিনিসগুলো দূর করে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাই।’

আদালতে মামলাজট কমাতে গ্রাম আদালতগুলোকে আরও কার্যকর করারও তাগিদ দেয়া হয় জেলা প্রশাসকদের।

সরকারি সেবা নিশ্চিত করতে তথ্য প্রযক্তির আরও ব্যবহারেরও তাগিদ দেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘এর মাধ্যমে জনসেবাটা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা করতে হবে।’

ভূমি বিরোধকে বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘ভূমির মালিকানা নিয়ে সমস্যা, ভূমি নিয়ে খুনোখুনি, মামলা, মোকদ্দমা প্রতিনিয়ত লেগে আছে।’

ভূমি প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনা ডিজিটালাইড করলে এর একটি সমাধান হবে বলে আশাবাদী প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘এটা করতে পারলে ভূমি নিয়ে মারামারি, কাটাকাটি কমে যাবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’

সমবায়ের মাধ্যমে চাষেরও তাগাদা দেন শেখ হাসিনা। বলেন, ‘একসাথে যদি চাষবাস করা যায়, মালিকানা যার যার থাকবে, ডিজিটাল পদ্ধতিতেও রেকর্ড থাকবে, আবার কাগজ কলমেও থাকবে। কিন্তু চাষবাসের সময় আমাদের যান্ত্রিকীকরণে যেতে হবে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে।

‘যান্ত্রিকীকরণ হলে টুকরো টুকরো জমি চাল করা সম্ভব নয়। সেটা চাষ করতে হলে আমাদের সমবায় পদ্ধতি প্রবর্তন করতে হবে।’

‘সে ক্ষেত্রে জমির মালিকের অংশটা থাকবে, যারা শ্রম দেবে, তার একটা অংশ থাকবে, কো অপারেটিভ চালালে যে একটা খরচ হয়, তার একটা অংশ থাকবে।’

কৃষি উপকরণের যেন সরবরাহ নির্বিঘ্ন থাকে এবং তা যেন কৃষকদের কাছে পৌঁছায় সে ব্যবস্থা করারও তাগিদ দেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, শিল্পায়নের বা অবকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে দুই ফসলী বা তিন ফসলী জমি যেন নষ্ট না হয় সেভাবেই পরিকল্পনা নিতে হবে।

মাধ্যমিক পর্যায়ে গত কয়েক বছর ধরেই ছেলেদের চেয়ে মেয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়ে গেছে। ছেলের সংখ্যা কেন কমেছে, সেটি ভাবিয়ে তুলেছেন প্রধানমন্ত্রীকে। এই বিষয়টি খতিয়ে দেখতেও জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দেন তিনি।

‘স্কুলে মেয়েরা বেশি যাচ্ছে, ছেলেরা একটু কম। এটাও দেখতে হবে। কারণটাও আপনারা খুঁজে বের করে করবেন।’

‘শিক্ষায় ঝরে পড়া ইতিমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। কিন্তু সেটা যেন আর না ফিরে আসে, সেটাও দেখতে হবে।’

নারী ও শিশু নির্যাতন, পাচার, যৌতুক, ইভটিজিং, বাল্যবিবাহ বন্ধ করতে নজরদারি বাড়ানো, নারীর প্রতি সহিংসতা, নিপীড়ন ও বৈষম্যমূলক আচরণ বন্ধেও যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত করার তাগাদা দেন প্রধানমন্ত্রী।

তণমূল পর্যায়ে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় জনপ্রতিনিধিদের সাথে একটা সুসম্পর্ক বজায় রাখা দরকার বলেও মনে করেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘আমাদের জনপ্রতিনিধিদেরও একটা চিন্তাভাবনা আছে। সেগুলো সমন্বয় করে নিলে উন্নয়নটাও একটু দ্রুত হয়।’

‘দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে কমিউনিটি ক্লিনিকের কার্যক্রমকে আরও জোরদার করতে হবে।’

‘পরিবেশ রক্ষায় সচেতনতা বৃদ্ধি এবং এ বিষয়ে বিধি বিধানের যথাযথ প্রয়োগ করতে হবে এবং জনগণকে বিষয়টা জানাতে হবে।’

জনগণকে ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপনে উৎসাহ দেয়ার পাশাপাশি উপকূলীয় অঞ্চলে সবুজ বেষ্টনী গড়ে তোলা ও বনায়ন করার ওপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী। এ ক্ষেত্রে সামাজিক বনায়নের পরামর্শ দেন তিনি। বলেন, এর মাধ্যমে দরিদ্র মানুষের ভাগ্য পরিবর্তিত হয়।

শেয়ারবাজারনিউজ/মু

আপনার মন্তব্য

Top