২ মাস পরেই উৎপাদন যাবে কেপিপিএল

শেয়ারবাজার রিপোর্ট: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি খুলনা পেপার অ্যান্ড প্রিন্টিং লিমিটেড আগামী ২ মাসের মধ্যে উৎপাদনে যাবে।কোম্পানিটিকে উৎপাদন শুরুর জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা সব ধরনের কাঁচামাল সরবরহের অনুমতি দিয়েছে। এরইমধ্যে বিদেশ থেকে কাচাঁমাল আমাদানির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। যা আগামী ২ মাসের মধ্যে সময় লাগতে পারে বলে ডিএসইকে জানিয়েছে কোম্পানিটি।

এর আগে গত ২৩ জুলাই কোম্পানিটি ডিএসইকে জানায়, কোম্পানিটিকে উৎপাদন শুরুর জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা সব ধরনের কাঁচামাল সরবরহের অনুমতি দিয়েছে। শিগগিরই কোম্পানিটি উৎপাদনে যাবে বলে জানিয়েছিলো পরিচালনা পর্ষদ।

উল্লেখ্য, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সঙ্গে খুলনা প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং লিমিটেডের (কেপিপিএল) দ্বন্দ্বের অবসান হয়েছে। এনবিআরের বিরুদ্ধে কোম্পানির দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার ও ভবিষ্যতে নিয়ম পরিপালনের শর্তে কেপিপিএলের গুদাম, বন্ড লাইসেন্স ও বিজনেস আইডেন্টিফিকেশন নাম্বার (বিআইএন) খুলে দিয়েছে রাজস্ব সংস্থাটি। সব বাধা দূর হওয়ায় প্রায় দুই বছর পর তাদের কারখানায় আবার পুরোদমে উৎপাদন শুরু হবে।

কোম্পানির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এনবিআরের সঙ্গে দ্বন্দ্বে ২০১৫ সালের শুরু থেকেই কাঁচামাল আমদানি করতে পারেনি না কেপিপিএল। প্রায় দুই বছর স্থানীয় কোম্পানি থেকে কাঁচামাল ক্রয় করে কারখানা চালু রাখলেও পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় লোকসানে পড়ে ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে আনুষ্ঠানিকভাবে কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে কেপিপিএলের কারখানা চালুর উদ্যোগ নিতে গত বছর থেকেই কেপিপিএলের সঙ্গে রাজস্ব ও শুল্ক কর্মকর্তাদের বেশ কয়েকটি বৈঠক হয়েছে। এসব বৈঠকে লকপুর গ্রুপ ও কেপিপিএলের কারখানা চালু করতে আইনি বাধা নিরসনের বিষয়ে আলোচনা হয়। এনবিআরের বিরুদ্ধে দায়ের করা কোম্পানির আর্থিক ক্ষতি-সংক্রান্ত মামলা প্রত্যাহার করে কেপিপিএল। ফলে কোম্পানিটির বিরুদ্ধে শুল্ক ফাঁকির মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির স্থগিত থাকা বিআইএন আনলক করা, বন্ড লাইসেন্স নবায়ন করা ও গুদাম খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় এনবিআর। তবে মামলার শুনানিতে কোম্পানিকে নিয়মিত উপস্থিত হতে হবে।

উল্লেখ, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে অনুমোদন ছাড়া বন্ডেড ওয়্যারহাউজ সম্প্রসারণ ও বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতার অতিরিক্ত কাঁচামাল সংরক্ষণ করায় কেপিপিএলের বিরুদ্ধে ২৭১ কোটি টাকা শুল্ক ফাঁকির অভিযোগ তুলে এনবিআর। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৫ সালের ৩০ এপ্রিল কোম্পানিকে জরিমানা করে রাজস্ব আহরণের দায়িত্বে থাকা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানটি। জরিমানা পরিশোধ না করলে ওই বছরের ২৫ আগস্ট থেকে খুলনায় প্রতিষ্ঠানটির ছয়টি গুদাম সিলগালা করে এনবিআর। তবে কোম্পানির পক্ষ থেকে এনবিআরের জরিমানার আদেশ ও সিলগালার বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন দাখিল করলে ২০১৬ সালের ২৭ জানুয়ারি এনবিআরের পদক্ষেপকে অবৈধ ঘোষণা করেন আদালত। একই সঙ্গে এলসির মাধ্যমে আনা পণ্য ১৫ দিনের মধ্যে খালাসেরও নির্দেশনা দিয়েছিল আদালত। ওই সময় কোম্পানির গুদাম ও কারখানা খুলে দিলেও রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়ায় কোম্পানিটিকে নতুন করে কাঁচামাল আমদানির অনুমতি দেয়নি এনবিআর। ছাড় করা হয়নি আগে আমদানি করা কাঁচামালও। ফলে স্থানীয় কাঁচামাল দিয়েই উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল কোম্পানিটি। তবে পরিচালন ব্যয় বেশি হওয়ায় ২০১৭ সালের ৪ জানুয়ারি কারখানা বন্ধের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয় কেপিপিএল কর্তৃপক্ষ।

 

শেয়ারবাজারনিউজ/আ

আপনার মন্তব্য

*

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Top