শেয়ারবাজার লেজেন্ড: জিম রোজার্স

জেমন বিল্যান্ড রোজার্স একজন আমেরিকান ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী, ট্রাভেলার, ফিন্যান্সিয়াল কমেন্টেটর এবং লেখক। আন্তর্জাতিক খ্যাত সম্পন্ন কোয়ান্টাম ফান্ডের কো-ফাউন্ডার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার পর পুরো বিশ্বের ব্যবসায়ী জগতে সফলতার শীর্ষে উঠে আসেন এই লেজেন্ড। তিনি রোগের্স হোল্ডিংস এবং বিল্যান্ড ইন্টারেষ্ট ইনকরপোরেশনের চেয়ারম্যান এবং তার হাত ধরেই রোগার্স ইন্টারন্যাশনাল কমোডিটি ইনডেক্সের জন্ম হয়।

ব্যক্তিগত ও শিক্ষাজীবন :

জেমস বিল্যান্ড রোজার্স ১৯৪২ সালের ১৯ অক্টোবর আমেরিকার ম্যারিল্যান্ড শহরে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৬২ সালে তিনি ইয়েল ইউনিভার্সিটি থেকে ইতিহাস বিভাগ থেকে ব্যাচলর ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৬৬ সালে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি থেকে তিনি দর্শন, রাজনীতি ও অর্থনীতি বিষয়ের ওপর বিএ ডিগ্রি অর্জন করেন। পারিবারিক জীবন রোজার্স ৩টি বিয়ে করেন। ১৯৬৬ সালে তার প্রথম স্ত্রী লোইস বিনেরকে বিয়ে করার তিন বছর পরেই তাদের ডিভোর্স হয়ে যায়। ১৯৭৪ সালে রোজার্স জেনিফার স্কলনিককে দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে বিয়ে করেন। এই বিয়েও তিন বছর পর ১৯৭৭ সালে ভেঙ্গে যায়। পরবর্তীতে পাইজে পার্কার নামে একজন মহিলাকে তৃতীয় স্ত্রী হিসেবে বিয়ে করেন এবং এ ঘরে দুটি কন্যা সন্তান রয়েছে।

বিজনেস ক্যারিয়ার:

১৯৬৪ সালে রোজার্স ওয়াল স্ট্রিটে ডোমিনিক অ্যান্ড ডোমিনক এলএলসি’কে যোগ দেন যেখানে সর্বপ্রথম তিনি স্টক এবং বন্ড সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করেন। ১৯৬৬ থেকে ১৯৬৮ সাল পর্যন্ত রোজার্স ভিয়েতনাম যুদ্ধে অংশগ্রহণ করার জন্য ইউএস আর্মিতে যোগ দেন। ১৯৭০ সালে রোজার্স বিনিয়োগ ব্যাংক হিসেবে খ্যাত আমহোল্ড অ্যান্ড এস.ব্লাইকরোডারে যোগ দেন যেখানে তিনি জর্জ শরোস নামে একজন আমেরিকার বিনিয়োগকারীর সান্নিধ্যে আসেন। 

১৯৭৩ সালে এই বিনিয়োগ থেকে বের হয়ে রোজার্স এবং জর্জ শরোস দুজন মিলে কোয়ান্টাম ফান্ড গঠন করেন। ১৯৭০ থেকে ১৯৮০ সালে এই কোয়ান্টাম ফান্ড ৪২০০% পর্যন্ত মুনাফা অর্জন করে। ২০০৭ সালের ডিসেম্বর মাসে রোজার্স তার নিউ ইয়র্ক সিটির বাড়িটি বিক্রি করে সিঙ্গাপুরে চলে যান। আমেরিকা ছেড়ে এশিয়া মার্কেটে যাওয়ার বিষয়ে রোজার্স বলেছেন,  যারা স্মার্ট ছিলো তারা ১৮০৭ সালে লন্ডনে চলে গেছে। যারা স্মার্ট ছিলো তারা ১৯০৭ সালে নিউ ইয়র্ক চলে গেছে। এখন তুমি যদি এই ২০০৭ সালে স্মার্ট হও তাহলে তোমাকে এশিয়া মার্কেটে চলে যেতে হবে।

জিম রোজার্সের বানী:

০১। আমি গরীব ছিলাম। কিন্তু এই দারিদ্রতা আমি কখনোই পছন্দ করিনি। আমি আর দরিদ্র হয়ে ফিরে যেতে চাই না।

০২। রাতারাতি ধনী হওয়ার কোনো শর্টকাট পথ আমার জানা নেই।

০৩। গেইন করতে হলে বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে পরিশ্রমের বিকল্প নেই।

০৪। যেখানেই বিনিয়োগ করবেন সেটির সম্পর্কে বিস্তারিত জ্ঞান নিয়ে নিন।

০৫। কমোডিটি মার্কেট বিনিয়োগের জন্য অত্যন্ত উপযোগী।

০৬। অন্যের প্ররোচনা বাদ দিয়ে নিজের পুঁজি নিজেই বিনিয়োগ করুন।

০৭। যদি ভাগ্যবান হতে চান, দৈনন্দিন হোমওয়ার্ক করুন।

০৮। আজ যা জানি তা কোনো বিষয় নয়। আগামী ১০-১৫ বছরে কি ঘটতে যাচ্ছে সেটা জানাই মূল বিষয়।

০৯। যদি অনেক অর্থ উপার্জন করতে চান, ডিভারসিফিকেশন (বৈচিত্র) বাদ দিন।

১০। যখন কোথাও বিনিয়োগ করবেন, রিসার্চ সম্পূর্ণ করুন, টাকা তৈরি করুন এবং বিক্রি করে দিন। আপনাকে সবসময় সতর্কতার সঙ্গে এগুতে হবে।

 

শেয়ারবাজারনিউজ/ম.সা

আপনার মন্তব্য

Top