মুদ্রানীতি আতঙ্কে কাপছে বাজার

শেয়ারবাজার রিপোর্ট: আগামীকাল ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রথমার্ধের (জুলাই-ডিসেম্বর’১৮) মুদ্রানীতি ঘোষণা করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আর এই মুদ্রানীতি ইস্যুতে সাইডলাইনে রয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। পোর্টফলিও ম্যানেজাররা মুদ্রানীতির অপেক্ষায় বাজার পর্যবেক্ষণ করছেন। যে কারণে দৈনিক লেনদেনে বিরূপ প্রভাব পড়েছে। মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতে ঋণের লাগাম টানা হতে পারে। আর এর জেরেই গত কয়েক দিন শেয়ারবাজারে দর পতন চলছে।

এ প্রসঙ্গে একাধিক মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউজের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে জানা যায়,  মুদ্রানীতি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বেশ আলোচনা রয়েছে। যার কারণে গত কয়েক কার্যদিবসে সূচকের টানা পতন ঘটছে পাশাপাশি লেনদেনের পরিমাণও কমছে। বাজারে সরাসরি মুদ্রানীতির খুব বেশি প্রভাব না থাকলেও মনস্তাত্ত্বিক প্রভাবেই বেশি আক্রান্ত হয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। এ কারণে অনেকে শেয়ার বিক্রি করে বাজার পর্যবেক্ষণ করেন। একটানা বাজারে কিছুদিন ঊর্ধ্বগতি থাকায় কেউ কেউ ভালো মুনাফা পেয়েছেন। মুনাফা তুলে নিয়ে এখন তাঁদের অপেক্ষা কম দামে শেয়ার কেনার প্রতি। তাই শেয়ারের দাম কমলে আবার তাঁরা বাজারে সক্রিয় হবেন বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

আজ সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচকের পতনে শেষ হয়েছে লেনদেন। এদিন লেনদেনের শুরুতে উত্থান থাকলেও ১ঘন্টা ১০ মিনিট পর সেল প্রেসারে টানা নামতে থাকে সূচক। এরই ধারাবাহিকতায় টানা পাঁচ কার্যদিবস ধরে সূচকের পতন হচ্ছে। আজ সোমবার সূচকের পাশাপাশি কমেছে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দর। তবে টাকার অংকে লেনদেন আগের দিনের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে। আজ দিন শেষে ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৬১৪ কোটি ৫৬ লাখ ৮৬ হাজার টাকা।

আজ দিন শেষে ডিএসইর ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ১৭ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৫২৬২ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৭ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১২৪০ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ৭ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১৮৭১ পয়েন্টে। দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৩৫টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৯২টির, কমেছে ২০০টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৪৩টির। আর দিনশেষে লেনদেন হয়েছে ৬১৪ কোটি ৫৬ লাখ ৮৬ হাজার টাকা।

এর আগের কার্যদিবস দিন শেষে ডিএসইর ব্রড ইনডেক্স ২৫ পয়েন্ট কমে অবস্থান করে ৫২৮০ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১১ পয়েন্ট কমে অবস্থান করে ১২৪৮ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ১১ পয়েন্ট কমে অবস্থান করে ১৮৭৮ পয়েন্টে। আর ওইদিন লেনদেন হয়েছিল ৫৭৭ কোটি ৩৪ লাখ ৪৭ হাজার টাকা। সে হিসেবে আজ ডিএসইতে লেনদেন বেড়েছে ৩৭ কোটি ২২ লাখ ৩৯ হাজার টাকা।

এদিকে, দিনশেষে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সাধারণ মূল্য সূচক সিএসইএক্স ৩৪ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৯ হাজার ৮০৭ পয়েন্টে। দিনভর লেনদেন হওয়া ২৪৫টি কোম্পানির ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৬৩টির, কমেছে ১৪৭টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৩৫টির। আর দিনশেষে লেনদেন হয়েছে ৫৩ কোটি ২৪ লাখ ৯৬ হাজার টাকা।

শেয়ারবাজারনিউজ/মু

 

আপনার মন্তব্য

*

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Top