কর্পোরেট ট্রান্সপারেন্সি অ্যান্ড সাসটেনিবিলিটি রিপোর্টিং পলিসিজ নিয়ে ডিএসইর ওয়ার্কশপ

শেয়ারবাজার ডেস্ক: নেদারল্যান্ড ভিত্তিক গ্লোবাল রিপোর্টিং ইনিশিয়েটিভ (জিআরআই) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ লিঃ এর সহযোগিতায় যৌথভাবে  “কর্পোরেট ট্রান্সপারেন্সি অ্যান্ড সাসটেনিবিলিটি রিপোর্টিং পলিসিজ অ্যান্ড প্র্যাকটিস” শীর্ষক ওয়ার্কশপের আয়োজন করে। গত ২৬ জুলাই, ঢাকার স্থানীয় একটি হোটেলে ওয়ার্কশপটি করেন ডিএসই ও জিআরআই। ওয়ার্কশপের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএসইসি’র কমিশনার অধ্যাপক ড. স্বপন কুমার বালা, এফসিএমএ।

জিআরআই সাসটেনিবিলিটি রিপোর্টিং স্ট্যান্ডার্ডস (জিআরআই স্ট্যান্ডার্ড) হলো প্রথম এবং ব্যাপকভাবে গৃহিত সাসটেনিবিলিটি রিপোর্টিং এর জন্য গ্লোবাল স্ট্যান্ডার্ড। এই ওয়ার্কসপটি প্রশিক্ষণার্থীদের সাসটেনিবিলিটি রিপোর্টিং অ্যান্ড জিআরআই, সাসটেনেবল ফাইন্যান্স-এ পুঁজিবাজারের ভূমিকা, পুঁজিবাজারের জন্য সাসটেনিবিলিটি পলিসি এবং সামনে এগিয়ে যাওয়ার বিষয়ে আলোকপাত করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব কে.এ.এম. মাজেদুর রহমান সূচনা বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি বলেন, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ লিঃ এবং গ্লোবাল রিপোর্টিং ইনিশিয়েটিভ (জিআরআই) ২২ মে ২০১৮ তারিখে পারস্পরিক সুবিধার জন্য একটি চুক্তি সম্পাদন করেছে। পারস্পরিক সুবিধার মধ্যে রয়েছে অংশীদার হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি, এক্সচেঞ্জের সক্ষমতা বৃদ্ধি, তালিকাভুক্ত কোম্পানির জন্য সেমিনার এবং প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন এবং তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোকে টেকসই রিপোর্টিং এর সূচনার ক্ষেত্রে সমর্থন প্রদান। সামনে এগিয়ে চলার ক্ষেত্রে ইএসজি গাইডেন্স ডকুমেন্ট তৈরীর জন্য আগামীতে জিআরআই ও ডিএসই একসাথে কাজ করবেযা বাংলাদেশের কর্পোরেট স্বচ্ছতা বৃদ্ধির জন্য তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোকে সহায়তার করবে।তিনি এই ওয়ার্কশপের প্রধান উদ্দেশ্য, সাসটেনিবিলিটি রিপোর্টিং নিয়ন্ত্রক সংস্থার দায়িত, জিআরআই এর কার্য্যক্রম এবং এর গুরুত্ব সম্পর্কে অবহিত করেন।

ওয়ার্কশপের প্রধান অতিথি বিএসইসি’র কমিশনার অধ্যাপক ড. স্বপন কুমার বালা, এফসিএমএইএসজি এর গুরুত্ব এর অনুপস্থিতিতে টিকে থাকার ও পরিবেশগত ঝুঁকি ব্যবসা সম্প্রসারণ জিআরআই এর ভূমিকা এবং এক্ষেত্রে স্টক এক্সচেঞ্জের দায়িত্ব সম্পর্কে অবহিত করেন। তিনি বলেন আইএফসি এ ব্যপারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তার মতে ২০৩০ সালের মধ্যে সরকারের এসডিজি অর্জন করতে গেলে জিআরআই এর গুরুত্ব অনেক। জিআরআই-কে ফলপ্রসূ করতে হলে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় পাঠ্যসূচকে জি আর আই কে অন্তর্ভূক্ত করার পরামর্শ প্রদান করেন। জিআরআই এর ম্যাসেজ সকলের কাছে গুরুত্ব সহকারে পৌঁছাতে প্রফেশনাল একাউন্টেন্টদের বড় ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন।

তার পূর্বে এই ওয়ার্কশপের রিসোর্স পার্সন ড. অদিতি হালদার তার বক্তব্যে ডিএসইকে জি আর আই এর সাথে এমওইউ স্ব্ক্ষার করার জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন রিসোর্সের উপর ভিত্তি করে ব্যবসা সম্প্রসারণ হয়, লং টার্ম সাসটেইন্যাবিলিটির জন্য সেগুলোকে সংরক্ষন করা সকলের দ্বায়িত্ব। এ ব্যাপারে বিনিয়োগকারীসহ নিয়ন্ত্রক সংস্থা, কোম্পানির ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিবর্গ ও সকল জনসাধারণের সচেতনতা জরুরী বলে তিনি মনে করেন।

পরবর্তীতে ড. অদিতী হালদার ও রুবিনা সেন এক পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে সাসটেইনেবল বিজনেস এক্সপানশন এর জন্য জিআরআই এর গুরুত্ব তুলে ধরেন।

জিআরআই হল একটি আন্তর্জাতিক স্বাধীন সংস্থা যা ১০৯৭ সাল থেকে কর্পোরেট সাসটেনিবিলিটি রিপোর্টিং এর ক্ষেত্রে অগ্রগামী। জিআরআই ব্যবসা, সরকার এবং অন্যান্য সংগঠনকে জটিল সাসটেনিবিলিটি ইস্যু যেমন: জলবায় পরিবর্তন, মানবাধিকার, দূর্নীতি এবং অন্যান্য বিষয়ের উপর ব্যবসায়ে প্রভাবকে বুঝা এবংযোগাযোগের ক্ষেত্রে সহায়তা করে। ৯০টির বেশি দেশে হাজার হাজার রিপোর্টার রয়েছে। জিআরআই টেকসই রিপোর্টিং এর উপর বিশ্বের সবচেয়ে বিশ্বস্ত এবং ব্যাপাকভাবে ব্যবহৃত স্টান্ডার্ডগুলো প্রদান করে, সক্রিয় প্রতিষ্ঠানগুলো এবং তাদের স্টেকহোল্ডারগণ এই বিষয়গুলোর তথ্যের উপর ভিত্তি করে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হয়।

শেয়ারবাাজারনিউজ/এম.আর

আপনার মন্তব্য

*

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Top