আমান কটনে ৮৫.৭৫ শতাংশ মুনাফা পেয়েছে বিনিয়োগকারীরা

শেয়ারবাজার রিপোর্ট: লেনদেন শুরুর প্রথম দিনে পুঁজিবাজারে সদ্য তালিকাভুক্ত হওয়া বস্ত্র খাতের কোম্পানি আমান কটন ফাইব্রাস লিমিটেডের শেয়ার থেকে ৮৫.৭৫ শতাংশ মুনাফা পেয়েছে বিনিয়োগকারীরা। আজ সকাল সাড়ে ১০টায় দেশের উভয় শেয়ারবাজারে আনুষ্ঠিানিকভাবে শুরু হয় এ কোম্পানির লেনদেন। এদিন ‘এন’ ক্যাটাগরির আওতায় লেনদেন শুরু করা আমান কটন ফাইব্রাস লিমিটেডের ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) কোম্পানি ট্রেডিং কোড “ACFL” আর কোম্পানি কোড হবে 17477। চট্টগ্রাম স্টক একচেঞ্জে (সিএসই) ট্রেডিং কোড হবে “ACFL” আর কোম্পানির কোড হবে 12065।

জানা গেছে, কোম্পানিটির ওপেনিং শেয়ার দর ৪০ টাকা দিয়ে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও প্রথমদিনে ৬০ টাকা দিয়ে লেনদেন শুরু হয়। এদিন কোম্পানিটির শেয়ার দর সর্বনিম্ন ৬০ টাকায় এবং সর্বোচ্চ ৮১ টাকায় লেনদেন হয়েছে। তবে দিনশেষে কোম্পানিটির শেয়ার দর দাঁড়ায় ৭৪.৩০ টাকা। অর্থাৎ প্রথম দিনে কোম্পানিটির শেয়ার দর থেকে ৩৪.৩০ টাকা বা ৮৫.৭৫ শতাংশ মুনাফা পেয়েছে বিনিয়োগকারীরা।

ডিএসইতে আজ কোম্পানিটির মোট ৭০ লাখ ৮৪ হাজার ২৫টি শেয়ার ৩৫ হাজার ৪০৬ বার হাত বদল হয়েছে। যার বাজার দর ৫১ কোটি ৭৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা।

এদিকে তৃতীয় প্রান্তিকে (ডিসেম্বর’১৭-মার্চ’১৮) আমান কটনের প্রি-আইপিও সময়ে কর পরিশোধের পর মুনাফা হয়েছে ৬ কোটি ৯ লাখ ৮০ হাজার টাকা এবং শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) ০.৭৬ টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল যথাক্রমে ৬ কোটি ৯ লাখ ৩০ হাজার টাকা এবং ০.৭৬ টাকা। এছাড়া কোম্পানিটির পোষ্ট আইপিও ইপিএস দাঁড়িয়েছে ০.৬০ টাকা।

আর ৯ মাসে (জুলাই’১৭-মার্চ’১৮) আমান কটনের কর পরিশোধের পর মুনাফা দাঁড়িয়েছে ১৯ কোটি ৫১ লাখ টাকা এবং ইপিএস ২.৪৪ টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ১৯ কোটি ৭৪ লাখ ৩০ হাজার টাকা ও ২.৪৭ টাকা। এছাড়া ৯ মাসে পোষ্ট-আইপিও ইপিএস দাঁড়িয়েছে ১.৯৩ টাকা। কোম্পানিটির রিভ্যালুয়েশন সারপ্লাসসহ শেয়ার প্রতি সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) হয়েছে ৪১.৫৬ টাকা।

এর আগে গত ২৫ জুলাই, বুধবার পুঁজিবাজারে লেনদেনে শুরুর জন্য তালিকাভুক্তির অনুমোদন পেয়েছে কোম্পানিটি। গত ২৬ জুলাই আমান কটন ফাইব্রাস লিমিটেডের আইপিও লটারিতে বরাদ্দ পাওয়া শেয়ার সিডিবিএলের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের নিজ নিজ বিও হিসাবে জমা হয়েছে।

এর আগে গত ৪ জুলাই সকাল সাড়ে ১০ টায় ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্সটিটিউট, আইইবি মিলিনায়তন, রমনা, ঢাকায় কোম্পানিটির লটারির ড্র’র অনুষ্ঠিত হয়।

জানা যায়, কোম্পানিটির আইপিও আবেদন গত ৩ জুন থেকে ১০ জুন পর্যন্ত চলে। গত ৩ মে কোম্পানিটিকে আইপিও সাবস্ক্রিপশন শুরুর জন্য কনসেন্ট লেটার ইস্যু করবে বাংলাদেশ সিকিউরিটজ অ্যান্ড একচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এর আগে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) ৬২৯তম সভায় কোম্পানিটির আইপিও অনুমোদন দেওয়া হয়।

এর আগে গত বছরের নভেম্বর মাসে আমান কটনের ইলেকট্রনিক বিডিং সম্পন্ন হয়। বিডিংয়ে ৪০ টাকা কাট অফ প্রাইস নির্ধারিত হয়। এর মধ্যে কাট অফ প্রাইসে যোগ্য প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের (ইআই) কাছে ১ কোটি ২৫ লাখ শেয়ার ইস্যু করা হবে। আর কাট অফ প্রাইসের ১০ শতাংশ কমে অর্থাৎ ৩৬ টাকায় ৮৩ লাখ ৩৩ হাজার ৩৩৩টি শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করবে কোম্পানিটি।

পুঁজিবাজার থেকে সংগ্রহ করা অর্থের একটি বড় অংশ দিয়ে কারখানায় আধুনিক মেশিনারি স্থাপন করা হবে। এতে ব্যয় করা হবে ৪৯ কোটি ৩৭ লাখ ৯৮ হাজার টাকা। আইপিওতে উত্তোলিত বাকী অর্থ থেকে ১৭ কোটি ১২ লাখ টাকা ব্যয় হবে ঋণ পরিশোধে। ওয়ার্কিং মূলধন হিসাবে ব্যয় করা হবে ১০ কোটি টাকা। আর আইপিওতে ব্যয় হবে সাড়ে ৩ কোটি টাকা।

কোম্পানির প্রতিটি শেয়ারের অভিহিত মূল্য হবে ১০ টাকা।

৩০ জুন ২০১৬ সমাপ্ত হিসাব বছরের কোম্পানিটির স্থায়ী সম্পদের পুনর্মূল্যায়ণসহ নিট সম্পদ মূল্য হয়েছে ৩৫.৬৩ টাকা। বিগত ৫ বছরের আর্থিক বিবরণী অনুযায়ী কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি গড় আয় (ইপিএস) হয়েছে ৩.৩৯ টাকা।

আমান কটন মূলত সুতা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। কটন, পলিস্টার, সিল্কসহ অন্যান্য ফাইবার উৎপাদন করে তারা। গাজীপুরের শ্রীপুরে অবস্থিত আমান কটন ফাইব্রাসের কারখানায় ২০০৬ সালে পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরু হয়। আর ২০০৭ সালে পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক উৎপাদনে যায় তারা।

উল্লেখ, কোম্পানিটির ইস্যু ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে আইসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড।

 

শেয়ারবাজারনিউজ/এম.আর

আপনার মন্তব্য

*

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Top