নগদ অর্থের সংকটে ১০ আর্থিক প্রতিষ্ঠান

শেয়ারবাজার রিপোর্ট: আমানত প্রবৃদ্ধির চেয়ে ঋণ প্রবৃদ্ধি বেশি হওয়ায় পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ২৩টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১০টি নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নগদ অর্থের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এছাড়াও আলোচিত সময় নগদ অর্থের সংকট থেকে বের হয়ে এসেছে ৫ কোম্পানি। প্রতিষ্ঠানগুলোর সর্বশেষ প্রকাশিত ২০১৮ বছরের অর্ধবার্ষিক অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন থেকে এমন তথ্য জানা গেছে।

কোন কোম্পানির কাছে কি পরিমাণ নগদ অর্থ আছে তা অপারেটিং ক্যাশ ফ্লোর মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। একাধিক নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কোনো ব্যাংক বা নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ক্যাশ ফ্লো ঋণাত্মক হয়ে যাওয়া মানে ওই প্রতিষ্ঠানটির নগদ অর্থের সংকট তৈরি হওয়া। শেয়ার প্রতি ক্যাশ ফ্লো (এনওসিএফপিএস) যত বেশি ঋণাত্মক, নগদ অর্থের সংকটও তত বেশি। এ অবস্থা তৈরি হলে চাহিদা মেটাতে প্রতিষ্ঠানকে চড়া মাশুলে স্বল্প মেয়াদে টাকা ধার করতে হয়। তাতে খরচ বাড়ে। আর খরচ বাড়লে আয় কমে যাবে, এটাই স্বাভাবিক।

তারা আরো বলেন, শেয়ারবাজারের ক্ষেত্রে যেকোনো কোম্পানির শেয়ার প্রতি ক্যাশ ফ্লোও একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক। এটির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির আর্থিক অবস্থার ধারণা পাওয়া যায়। ক্যাশ ফ্লো ঋণাত্মক মানে ওই কোম্পানির কাছে নগদ অর্থের ঘাটতি রয়েছে। আর ক্যাশ ফ্লো ইতিবাচক মানে হলো ওই কোম্পানির হাতে উদ্বৃত্ত তহবিল রয়েছে।

জানা যায়, আমানত প্রবৃদ্ধির চেয়ে ঋণ প্রবৃদ্ধি বেশি হওয়া চলতি বছরের অর্ধবার্ষিকে সবচেয়ে বেশি নগদ অর্থের ঘাটতি রয়েছে ইউনিয়ন ক্যাপিটালের।  অর্থবার্ষিকে অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি নগদ অর্থের ঘাটতি হয়েছে ৫.৫৯ টাকা ঋণাত্নক। এর আগের বছর একই সময়ে শেয়ার প্রতি নগদ অর্থ ছিল ৩.৭২ টাকা ঋণাত্নক। অর্থাৎ কোম্পানির নগদ অর্থের সংকট বেড়েছে ১.৮৭ টাকা।

এরপরে নগদ অর্থের সংকটে রয়েছে ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স সার্ভিসের। অর্ধবার্ষিকে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি সমন্বিত ক্যাশ ফ্লো হয়েছে ৩.৬৬ টাকা ঋণাত্মক। এর আগের বছর একই সময়ে শেয়ার প্রতি ক্যাশ ফ্লো ছিল ২.৩৭ টাকা ঋণাত্মক। অর্থাৎ কোম্পানির নগদ অর্থের সংকট বেড়েছে ১.২৯ টাকা।

এছাড়া অর্ধবার্ষিকে ফাস ফাইন্যান্সের শেয়ার প্রতি সমন্বিত ক্যাশ ফ্লো হয়েছে ৩.৩২ টাকা ঋণাত্মক। এর আগের বছর একই সময়ে শেয়ার প্রতি ক্যাশ ফ্লো ছিল ২.৬৩ টাকা। অর্থাৎ কোম্পানির উদ্বৃত্ত অর্থ ছিল।

বিডি ফাই্যন্যান্সের শেয়ার প্রতি নগদ অর্থের ঘাটতি হয়েছে ১.৯৬ টাকা ঋণাত্নক। এর আগের বছর একই সময়ে শেয়ার প্রতি নগদ অর্থ ছিল ৫.২৭ টাকা। অর্থাৎ কোম্পানির উদ্বৃত্ত অর্থ ছিল।

বিআইএফসির শেয়ার প্রতি নগদ অর্থের ঘাটতি হয়েছে ২.০১ টাকা ঋণাত্নক। এর আগের বছর একই সময়ে শেয়ার প্রতি নগদ অর্থ ছিল ০.৫৮ টাকা। অর্থাৎ কোম্পানির উদ্বৃত্ত অর্থ ছিল।

আইপিডিসি ফাই্যান্সের শেয়ার প্রতি নগদ অর্থের ঘাটতি হয়েছে ২.৬৮ টাকা ঋণাত্নক। এর আগের বছর একই সময়ে শেয়ার প্রতি নগদ অর্থ ছিল ০.৪২ টাকা। অর্থাৎ কোম্পানির উদ্বৃত্ত অর্থ ছিল।

পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স সার্ভিসের শেয়ার প্রতি নগদ অর্থের ঘাটতি হয়েছে ১.০৩ টাকা ঋণাত্নক। এর আগের বছর একই সময়ে শেয়ার প্রতি নগদ অর্থ ছিল ১.৫৫ টাকা। অর্থাৎ কোম্পানির উদ্বৃত্ত অর্থ ছিল।

প্রিমিয়াম লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স সার্ভিসের শেয়ার প্রতি নগদ অর্থের ঘাটতি হয়েছে ১.৬৪ টাকা ঋণাত্নক। এর আগের বছর একই সময়ে শেয়ার প্রতি নগদ অর্থ ছিল ৬.৩৩ টাকা। অর্থাৎ কোম্পানির উদ্বৃত্ত অর্থ ছিল।

প্রাইম ফাইন্যান্সের শেয়ার প্রতি নগদ অর্থের ঘাটতি হয়েছে ১.৮৭ টাকা ঋণাত্নক। এর আগের বছর একই সময়ে শেয়ার প্রতি নগদ অর্থ ছিল ০.৭৫ টাকা। অর্থাৎ কোম্পানির উদ্বৃত্ত অর্থ ছিল।

ইউনাইটেড ফাইন্যান্সের শেয়ার প্রতি সমন্বিত ক্যাশ ফ্লো হয়েছে ০.৬৪ টাকা ঋণাত্মক। এর আগের বছর একই সময়ে শেয়ার প্রতি ক্যাশ ফ্লো ছিল ০.৯৭ টাকা ঋণাত্নক। অর্থাৎ কোম্পানির নগদ অর্থের সংকট কমেছে ০.৩৩ টাকা।

এদিকে, অর্ধবার্ষিকে নগদ অর্থের সংকট থেকে বের হয়ে এসেছে ৫ কোম্পানি। কোম্পানিগুলো হলো- উত্তরা ফাইন্যান্স, ন্যাশনাল হাউজিং ফাইন্যান্স, জিএসপি ফাই্ন্যান্স, ফার্স্ট ফাইন্যান্স এবং ফারইস্ট ফাইন্যান্স লিমিটেড। এর মধ্যে ন্যাশনাল হাউজিং ফাইন্যান্সের শেয়ার প্রতি সমন্বিত ক্যাশ ফ্লো হয়েছে ২২.৩৮ টাকা। এর আগের বছর একই সময়ে শেয়ার প্রতি ক্যাশ ফ্লো ছিল ০.২৯ টাকা ঋণাত্নক।

এছাড়া অর্ধবার্ষিকে উত্তরা ফাইন্যান্সের শেয়ার প্রতি সমন্বিত ক্যাশ ফ্লো হয়েছে ৫.৬২ টাকা। এর আগের বছর একই সময়ে শেয়ার প্রতি ক্যাশ ফ্লো ছিল ০.৬৩ টাকা ঋণাত্নক।

জিএসপি ফাই্ন্যান্সের  শেয়ার প্রতি সমন্বিত ক্যাশ ফ্লো হয়েছে ০.৪৫ টাকা। এর আগের বছর একই সময়ে শেয়ার প্রতি ক্যাশ ফ্লো ছিল ৩.০১ টাকা ঋণাত্নক।

ফার্স্ট ফাইন্যান্সের  শেয়ার প্রতি সমন্বিত ক্যাশ ফ্লো হয়েছে ৬.১৩ টাকা। এর আগের বছর একই সময়ে শেয়ার প্রতি ক্যাশ ফ্লো ছিল ৪.১৯ টাকা ঋণাত্নক।

আর ফারইস্ট ফাইন্যান্সের শেয়ার প্রতি সমন্বিত ক্যাশ ফ্লো হয়েছে ১.২১ টাকা। এর আগের বছর একই সময়ে শেয়ার প্রতি ক্যাশ ফ্লো ছিল ০.০৪ টাকা ঋণাত্নক।

 

শেয়ারবাজারনিউজ/এম.আর

আপনার মন্তব্য

*

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Top