৮ হাজার ৪৯০ কোটি টাকা ঋণ করেছে মার্চেন্ট ব্যাংক স্টক ব্রোকাররা

শেয়ারবাজার রিপোর্ট: ব্যাংক ও ব্যাংক বহির্ভুত আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে মোট ৮ হাজার ৪৯০ টাকা ঋণ করেছে পুঁজিবাজারের ইন্টারমিডিয়েট মার্চেন্ট ব্যাংক ও স্টক ব্রোকাররা। বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্যালেন্ডার ইয়ার ২০১৭ সালের ফাইন্যান্সিয়াল স্ট্যাবিলিটি প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

পুঁজিবাজারের মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো ব্যাংকের কাছ থেকে ঋণ করেছে এক হাজার ৯৭০ কোটি টাকা। এর মধ্যে এখনও কেউ ঋণ খেলাপি হয়নি। আর অন্যান্য স্টক ব্রোকাররা ঋণ করেছে ২ হাজার ৮৩০ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি হয়েছে ১০ কোটি টাকা।

ব্যাংক থেকে মোট ঋণ হয়েছে ৪ হাজার ৮০০ কোটি টাকা।

এদিকে ব্যাংক বহির্ভুত আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে মার্চেন্ট ব্যাংক ঋণ নিয়েছে ২ হাজার ৪৩০ কোটি টাকা। আর মার্জিন লোন হিসেবে আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ হয়েছে এক হাজার ২৬০ কোটি টাকা। সবমিলিয়ে ঋণ ৩ হাজার ৬৯০ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালে পুরো ব্যাংক খাতে ঋণ ১ লাখ ২৪ হাজার ৪৭০ কোটি টাকা বেড়ে হয়েছে ৭ লাখ ৯৮ হাজার ১৯০ কোটি টাকা। একই সময়ে খেলাপি ঋণও ৬২ হাজার ১৭০ কোটি থেকে বেড়ে হয় ৭৪ হাজার ৩০২ কোটি টাকা।

আলোচিত সময়ে ৪ হাজার ৮২০ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ অবলোপন করা হয়। এর মধ্যে এক হাজার ৫০ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ আদায় করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে ব্যাংকাররা। ২০১৬ সালে ঋণ অবলোপন করা হয়েছিল ৪ হাজার ৪৭০ কোটি টাকা।

এদিকে ব্যাংক খেলাপি ঋণের শীর্ষে রয়েছে পোশাক খাত। ২০১৭ সালে পোশাক খাতের ঋণের পরিমাণ হয়েছে ৯৩ হাজার কোটি টাকা, যা ২০১৬ সালে ছিল ৭৫ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। একই বছরে এ খাতের খেলাপি ঋণ ২ হাজার ৯৪০ কোটি টাকা বেড়ে হয়েছে ১০ হাজার ৭৯০ কোটি টাকা। ২০১৬ সাল শেষে পোশাক খাতে খেলাপি ঋণ ছিল ৭ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা।

পোশাক খাতের পাশাপাশি বস্ত্র খাতে ঋণের পরিমাণ বেড়েছে। গত বছর শেষে এ খাতের ঋণের পরিমাণ হয়েছে ৬১ হাজার ৯৯০ কোটি টাকা, যা ২০১৬ সালে ছিল ৫৪ হাজার ৩৭০ কোটি টাকা। গত বছর শেষে বস্ত্র খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ আগের বছরের চেয়ে ২ হাজার ২৪০ কোটি টাকা বেড়ে হয়েছে ৭ হাজার ৪৯০ কোটি টাকা।

অন্যান্য বড় শিল্পে ২০১৬ সালে ঋণের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ২২০ কোটি টাকা, যা ২০১৭ সালে বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ১৭ হাজার ৪৮০ কোটি টাকা। তবে একই সময়ে এসব শিল্পের খেলাপি ঋণের পরিমাণ কমেছে। ২০১৬ সালে বড় শিল্প খাতে খেলাপির পরিমাণ ছিল ৬ হাজার ১১০ কোটি টাকা। ২০১৭ সালে এসে তা কমে হয়েছে ৬ হাজার ৮০ কোটি টাকা।

নির্মাণশিল্প খাতে গত বছর শেষে ঋণের পরিমাণ বেড়ে হয়েছে ৫৪ হাজার ২২০ কোটি টাকা। ২০১৬ সালে যার পরিমাণ ছিল ৪৮ হাজার ২৮০ কোটি টাকা। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে এ খাতে ঋণের পরিমাণ বেড়েছে ৫ হাজার ৯৪০ কোটি টাকা। একই সময়ে এ খাতের খেলাপি ঋণ আগের বছরের ৩ হাজার ৯৭০ কোটি থেকে বেড়ে হয়েছে ৪ হাজার ২৬০ কোটি টাকা।

শেয়ারবাজারনিউজ/আ

আপনার মন্তব্য

Top