ব্যাংক খাতের উপর বিনিয়োগকারীদের আস্থা

শেয়ারবাজার রিপোর্ট: দেশের শেয়ারবাজার গত কয়েক কার্যদিবস ধরে বেশ চাঙ্গা ভাব দেখা দিয়েছে। আর এ চাঙ্গা বাজারে বিনিয়োগকারীরদের নজর সবচেয়ে বেশি আগ্রহ দেখা গেছে ব্যাংক খাতের উপর। যার প্রভাবে লেনদেনের শূরুতে সূচকের নেতিবাচক প্রভাব দেখা দিলেও দিনে শেষ ব্যাংক খাতের ধাপটে ঘুরে দাঁড়ায় বাজার। আজ লেনদেন শুরু থেকেই ব্যাংক খাতের কোম্পানিগুলোর শেয়ার ক্রয় করা নিয়ে হুলস্থুল পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে। এ খাতে থাকা ৩০টি কোম্পানির মধ্যে আজ দর বেড়েছে ২৫টির যা মোট কোম্পানির প্রায় ৮৪ শতাংশ।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্যাংক সেক্টরটি সবসময়ের জন্যই একটি বিশ্বস্ত খাত। অন্যান্য খাতের তুলনায় এটা অনেক বেশি নির্ভরযোগ্য। তাছাড়া মুদ্রানীতি ঘোষণার পর ব্যাংক খাত নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আশাবাদ বেড়েছে। ব্যাংকের আমানতের সুদ হার কমে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীরা পুঁজিবাজারের প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছেন। তাছাড়া ব্যাংক খাতের শেয়ারের দাম কম থাকায় দেশি বিনিয়োগকারীর পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও শেয়ার ক্রয় অংশগ্রহণ করছেন।

এছাড়াও মুদ্রানীতি ঘোষণায় ব্যাংকিংয়ে স্থিতিশীলতা আনতে তিনটি সংস্কার চেয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির। সংস্কারগুলোর মধ্যে রয়েছে, খেলাপি ঋণজনিত ব্যয়ভারসহ ব্যাংকের সামগ্রিক পরিচালনা ব্যয় দ্রুত কমানোর মাধ্যমে আমানত এবং ঋণের সুদহারের ব্যবধান কমিয়ে আনা। দ্বিতীয়ত, সরকারি সঞ্চয়পত্রের মুনাফা হার কমাতে হবে এবং মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের বাজার ইল্ড হার-এদুয়ের মধ্যে পার্থক্য যৌক্তিকীকরণ। তৃতীয়, সামগ্রিকভাবে মূল্যষ্ফীতি নিম্নামাত্রায় রাখার পরিবেশ সৃষ্টিকরতে হবে।

গভর্নর বলেন, সুদ হার কমানোকে কেন্দ্র করে সরকারি আমানতের ৫০ শতাংশ বেসরকারি ব্যাংকে রাখার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। সরকারি সংস্থাসমূহের আমানতের সুদহারও রয়েছে নিম্ন মাত্রায়। উচ্চ জিডিপি প্রবৃদ্ধিধারা ধরে রাখার স্বার্থে ব্যাংকগুলো স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে ঋণের গড় সুদহার এক অংকে রাখার সমন্বিত উদ্যোগ নিয়েছে। এই উদ্যোগের পাশাপাশি বিভিন্ন উৎপাদনশীল খাতে ঋণ প্রবাহের পর্যাপ্ততার ওপর বাংলাদেশ ব্যাংক নিবিড় নজরদারী বজায় রেখেছে।

তিনি বলেন, অনুকূল পরিস্থিতি টেকসই করতে আবশ্যিক এই তিন সংস্কার দ্রুত সম্পন্ন না করা গেলে আর্থিক বাজারে আমানত ও ঋণের সুদহারে চাহিদা এবং জোগান ভিত্তিক পরিবর্তনশীলতা বাধাগ্রস্ত হবে।

তাছাড়া উৎপাদন ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম বন্ধ কোম্পানিগুলোকে তালিকাচ্যুতির ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছে স্টক এক্সচেঞ্জ। এসব শেয়ার সম্পর্কে বিনিয়োগকারীদের ইত্যিমধ্যে সতর্ক করেছে ডিএসই। এর ফলে কোম্পানিগুলো থেকে বিনিয়োগকারীদের মুনাফা তুলে নেয়ার একটি চাপ দেখা গেছে। এছাড়াও জুন ক্লোজিংয়ের কোম্পানিগুলো তাদের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করছে। সব মিলিয়ে বর্তমানে ব্যাংক খাতের উপর বিনিয়োগকারীরা বেশি আস্থা রাখছে। এর ফলে ভালো লাভের প্রত্যাশায় বিনিয়োগকারীরা ব্যাংকের শেয়ারে ঝুঁকছেন বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

ডিএসই তথ্যানুযায়ী, ব্যাংক খাতে থাকা ৩০ কোম্পানির মধ্যে আজ রোববার সবচেয়ে বেশি দর বেড়েছে ডাচ-বাংলা ব্যাংকের। এদিন ব্যাংকটির শেয়ার দর ১২.১০ টাকা বেড়েছে।  এরপরেই রয়েছে সিটি ব্যাংক লিমিটেড। ব্যাংকটির শেয়ার দর যথাক্রমে ২ টাকা টাকা বেড়ে দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করছে। ১.৬০ টাকা দর বেড়ে তৃতীয় স্থানে অবস্থান করছে ব্রাক ব্যাংক।

ব্যাংক খাতে দর বাড়া অন্যান্য ব্যাংকগুলোর মধ্যে আল-আরাফাহ ব্যাংকের দর বেড়েছে ০.৯০ টাকা, ব্যাংক এশিয়ার ০.৫০ টাকা, ঢাকা ব্যাংকের ০.৮০ টাকা, ইর্স্টাণ ব্যাংকের ১.৩০ টাকা, এক্সিম ব্যাংকের ০.৪০ টাকা, ফার্স্ট সিকিউরিটজ ইসলামী ব্যাংকের ০.২০ টাকা, আইএফআইসি ব্যাংকের ০.২০ টাকা, ইসলামী ব্যাংকের ১ টাকা, যমুনা ব্যাংকের ০.৫০ টাকা, মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ০.৬০ টাকা, ন্যাশনাল ব্যাংকের ০.৫০ টাকা,  এনসিসি ব্যাংকের ০.৩০ টাকা, ওয়ান ব্যাংকের ০.৫০ টাকা, প্রিমিয়াম ব্যাংকের ০.৪০ টাকা, প্রাইম ব্যাংকের ০.৫০ টাকা, রুপালী ব্যাংকের ১.৫০ টাকা, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের ০.৯০ টাকা, সোস্যাল ইসলামী ব্যাংকের ১.৪০ টাকা, সাউথইস্ট ব্যাংকের ০.২০ টাকা, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের ০.২০ টাকা, ট্রাস্ট ব্যাংকের ১ টাকা এবং উত্তরা ব্যাংকের ০.৪০ টাকা দর বেড়েছে।

আজ শুধু দর কমেছে আইসিবি ইসলামী ব্যাংকের ০.৩০ টাকা। আর দর অপরিপবর্তীত রয়েছে এবি ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক ও ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেড ।

শেয়ারবাজরনিউজ/এম.আর

আপনার মন্তব্য

Top