ডিএসই’র নোটিশের জবাবে যা জানালো বিডি সার্ভিস

শেয়ারবাজার রিপোর্ট: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বিডি সার্ভিসের ব্যবসায়িক কার্যক্রম চালুর বিষয়ে অগ্রগতি জানতে চেয়ে নোটিশ দিয়েছিল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। এর জবাবে আজ কোম্পানিটি তার বর্তমান অবস্থা জানিয়েছে ডিএসই-কে। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

কোম্পানিটি জানায়, হোটেল রূপসী বাংলা এবং বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র নিয়ে কোম্পানির ব্যবসা চলছে। কিন্তু সংস্কার কাজের জন্য রূপসী বাংলা হোটেলটি ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে বন্ধ রয়েছে। ২০১৮ সালের আগস্টের মধ্যে সংস্কার কাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও তা সম্ভব হচ্ছে না। তাই শিগগিরই হোটেলটি চালু হচ্ছে না।

কোম্পানিটি আরো জানায়, হোটেলটি’র সংস্কার কাজ শেষ করে ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলস গ্রুপের (আইএইচজি) কাছে হস্তান্তর কার হবে। তারা সংস্কার কাজের টেস্টিং এবং কমিশনিং করে হোটেলটি চালু করার চূড়ান্ত তারিখ জানাবে।

উল্লেখ্য, দশম জাতীয় সংসদের ১৯তম অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য ইসরাফিল আলমের প্রশ্নের জবাবে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এ কে এম শাহজাহান কামাল বলেন, রূপসী বাংলা হোটেলের সংস্কার ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছিল ৫২৭ কোটি ৫ লাখ টাকা। চুক্তি অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ৩০ জুনের মধ্যে কাজ শেষ করে ওই বছরের অক্টোবরের মধ্যে ইন্টার কন্টিনেন্টাল হোটেল গ্রুপের কাছে হস্তান্তর করার কথা ছিল। তবে প্রশাসনিক ও দক্ষ জনবল নিয়োগে ব্যর্থ হওয়ায় প্রকল্প শেষ না করে নিরাপত্তার অজুহাতে প্রকল্প বাস্তবায়ন প্রতিষ্ঠান ২০১৬ সালের ৩০ জুন চুক্তি অবসানের নোটিশ দিয়ে প্রকল্প সাইট ত্যাগ করে। এ কারণে সংস্কার কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়।

রূপসী বাংলা হোটেলটি ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলস গ্রুপ (আইএইচজি) ও বাংলাদেশ সার্ভিসেস লিমিটেডের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তির শর্তানুযায়ী ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর হতে সংস্কারের জন্য বন্ধ করা হয়েছিল।

মন্ত্রী আরো জানান, পূর্ব নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ২০১৮ সালের ৩১ জানুয়ারির মধ্যে সংস্কার কাজ শেষ করে আইএইচজি’র কাছে পর্যায়ক্রমে হস্তান্তর প্রক্রিয়া শুরু হবে। আইএইচজি প্রয়োজনীয় পরীক্ষন, কমিশনিং এবং ব্যালেন্সিং শেষে ২০১৮ সালের মে মাসের মধ্যে এ হোটেলের বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

এদিকে ২০১৭-২০১৮ হিসাব বছরের তৃতীয় প্রান্তিক শেষে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি লোকসান ৩.৪৬ টাকা। এই সময়ে কোম্পানিটির টার্নওভার হয়েছে ২০ কোটি ৩৭ লাখ ৩০ হাজার টাকা।

কোম্পানিটি সর্বশেষ ২০১৪ সালে মুনাফায় ছিল এবং সেই বছর শেয়ারহোল্ডারদের ১৫ শতাংশ স্টক ডিভিডেন্ড দিয়েছিল।

১৯৮৪ সালে তালিকাভুক্ত কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন ৯৭ কোটি ৭৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা। এর ৯৯.৬৮ শতাংশ সরকারের, ০.১৯ শতাংশ বিদেশি এবং ০.১৩ শতাংশ সাধারণ বিনিয়োগকারীর কাছে রয়েছে।

আজ কোম্পানিটির শেয়ারের সমাপনি দর ৫.২০ টাকা। আজ দিনশেষে বাজার মূলধন হয়েছে ৫০ কোটি ৮৫ লাখ টাকা।

শেয়ারবাজারনিউজ/আ

আপনার মন্তব্য

Top