আইন থাকলেও প্রয়োগ নেই : ৩০ কোম্পানির মূলধন ৫ কোটির নিচে

শেয়ারবাজার রিপোর্ট: ওভার দ্য কাউন্টার (ওটিসি) মার্কেটে যেসব কোম্পানি তালিকাভুক্ত হবে সেগুলোর নূন্যতম পরিশোধিত মূলধন ৫ কোটি টাকা থাকতে হবে। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) এ ধরণের আইন থাকলেও এর কোনো কার্যকারীতা নেই।

এ মার্কেটে অবস্থানরত বেশিরভাগ কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন ৫ কোটির নিচে অবস্থান করছে। এতে কোম্পানিগুলোর আইন লঙ্ঘন হলেও এ ব্যাপারে নিয়ন্ত্রক সংস্থা কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না বলে জানা গেছে।

জানা যায়, তালিকাভুক্ত কোনো কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন বাড়ানোর ক্ষেত্রে রাইট শেয়ার,পুন:গণ প্রস্তাব (আরপিও) বা স্টক ডিভিডেন্ড দেয়ার প্রয়োজন পড়ে। কিন্তু রাইট বা আরপিওর অনুমোদন পেতে আইন অনুযায়ী একটি কোম্পানির যেসব যোগ্যতা থাকা লাগে এগুলোর তা নেই।

অন্যদিকে উৎপাদন বন্ধ, ধারাবাহিক লোকসানে থাকার দরুন এসব কোম্পানির ডিভিডেন্ডও দিতে পারছে না। এজন্য কোম্পানিগুলো পরিশোধিত মূলধন বাড়াতে পারছে না। অন্যদিকে নিয়ন্ত্রক সংস্থাও এ ব্যাপারে কোনো হস্তক্ষেপ করছে না। ফলে দীর্ঘদিন ধরে ওটিসির উপর প্রণীত এ আইনটি অকার্যকর হয়ে পড়ে রয়েছে।

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (ওভার দ্য কাউন্টার) রুলস, ২০০১ এর কিছু বিষয় সংশোধন করে ২০১০ সালের ৬ এপ্রিল নোটিফিকেশন জারি করা হয়। এই সংশোধনের ২ (এ) ধারায় বলা হয়েছে, ওটিসির কোম্পানিগুলোর পরিশোধিত মূলধন কমপক্ষে ৫ কোটি টাকা হতে হবে। এরকম নির্দেশনা থাকলেও ওটিসিতে অবস্থানরত ৩০ কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন রয়েছে ৫ কোটির নিচে।

জানা গেছে, ওটিসিতে অবস্থানরত আলফা টোবাকো কোম্পানির পরিশোধিত মূলধনের পরিমাণ ২ কোটি ৮৮ লাখ টাকা।  এছাড়া আমাম সি ফুডের ১ কোটি ৮০ হাজার টাকা, আরবি টেক্সটাইলের ৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকা, আজাদী প্রিন্টার্সের ৬৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা, বাংলা প্রসেসের ৮০ লাখ টাকা, বাংলাদেশ হোটেলসের ৪৫ লাখ টাকা। পরিশোধিত মূলধন ৫ কোটির নিচে অবস্থান করা আরো কোম্পানিগুলো হচ্ছে- বাংলাদেশ প্ল্যান্টেশনের ১০ লাখ টাকা, বেমকোর ৩ কোটি ৬৪ লাখ টাকা, বিএলটিসির ৮০ লাখ টাকা, ঢাকা ফিশারিজের ৩ কোটি ১৭ লাখ টাকা), দ্য ইঞ্জিনিয়ারসের ২০ লাখ টাকা, গালফ ফুডসের ৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা, হিল প্লান্টেশনের ১৫ লাখ টাকা, হিমাদ্রি লিমিটেডের ৭৫ লাখ টাকা।

এছাড়া এই তালিকায় রয়েছে- লেক্সকোর ৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা, মেটালেক্স করপোরেশনের ৫০ লাখ টাকা, মডার্ন ইন্ডাস্ট্রিজের ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা, বাংলাদেশ মনোস্পুল পেপারের ২ কোটি ৭৭ লাখ ১০ হাজার টাকা, নিলয় সিমেন্টের ৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা, পদ্মা প্রিন্টার্সের ১ কোটি ৬০ লাখ টাক,পেপার প্রসেসিংয়ের ৩ কোটি টাকা, পেট্রো সিনথেটিকসের ৪২ লাখ টাকা, ফার্মাকো ইন্টারন্যাশনালের ২ কোটি টাকা, ফিনিক্স লেদারের ৭৫ লাখ টাকা। তালিকায় আরো রয়েছে- কাশেম সিল্কের ২ কোটি টাকা, কাশেম টেক্সটাইলের ১ কোটি ৩৮ লাখ টাকা, রহমান কেমিক্যালের ৪ কোটি টাকা, রাঙ্গামাটি ফুডের ৩ কোটি টাকা, টিউলিপ ডেইরির ২ কোটি ৩৯ লাখ টাকা এবং ইউসুফ ফ্লাওয়ারের ৬০ লাখ ৭০ হাজার টাকা।

শেয়ারবাজারনিউজ/ম সা

আপনার মন্তব্য

*

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Top