স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়া

শেয়ারবাজার রিপোর্ট: ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়া দুটি নিয়ম দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়ে থাকে। এগুলো হলোঃ

  • দি লিস্টিং রেগুলেশনস অফ দি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ লিমিটেড
  • দি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডাইরেক্ট লিস্টিং) রেগুলেশনস ২০০৬

ডিএসইতে তালিকাভুক্ত হওয়ার তিনটি সম্ভাব্য উপায় রয়েছেঃ

  • প্রাথমিক গণ প্রস্তাব (আইপিও)-এর পরে তালিকাভুক্ত হওয়া।
  • সরকারী কোম্পানীর শেয়ার ছাড়া এবং ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডাইরেক্ট লিস্টিং) রেগুলেশনস ২০০৬-এর অধীনে তালিকাভুক্ত হওয়া।
  • তালিকাভুক্ত কোম্পানীর অতালিকাভুক্ত সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো দি লিস্টিং রেগুলেশনস অফ দি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ লিমিটেড অনুযায়ী স্পিসি লভ্যাংশ, রাইট শেয়ার অথবা অনুরূপ কোন বন্টনের মাধ্যমে তালিকাভুক্ত হতে পারে।

আইপিও এর মাধ্যমে ডিএসই তালিকাভুক্ত হওয়ার সাধারণ পর্যায় এবং এর সাথে সম্পর্কিত প্রক্রিয়াগুলোঃ

  • গণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে আত্মপ্রকাশের সিদ্ধান্ত –
    • বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) অনুমোদিত ইস্যু ম্যানেজারদের মধ্য থেকে ইস্যু ম্যানেজার নিয়োগ দেয়া।
    • ইস্যু ম্যানেজারের সহায়তায় আইপিও এর প্রক্রিয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া — স্হির মূল্য অথবা বুক বিল্ডিং।
    • বুক বিল্ডিং পদ্ধতির মাধ্যমে আইপিও এর ক্ষেত্রে – বিএসইসি অনুমোদিত নিরীক্ষকদের দ্বারা হিসাবগুলোকে নিরীক্ষা করে নেয়া।
    • ক্রেডিট রেটিং এর জন্য পদক্ষেপ নেয়া – ব্যাংক, ইন্সুরেন্স, এনবিএফআই এবং যে কোন ইস্যুর অফার প্রাইস প্রিমিয়ামসহ হলে তার জন্য বাধ্যতামূলক।
    • প্রতিষ্ঠানের একটি ওয়েবসাইট তৈরী করে এতে প্রতিষ্ঠানের আর্থিক তথ্যসমূহ প্রকাশ করা।
  • খসড়া প্রসপেক্টাস তৈরীঃ 
    • সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (পাবলিক ইস্যু) রুলস, ২০০৬ অনুযায়ী খসড়া প্রসপেক্টাস তৈরীতে ইস্যু ম্যানেজারকে সহায়তা করা।
    • ব্যাংকারস টু দি ইস্যু, অবলেখক ইত্যাদি নিয়োগ করা।
    • স্হির মূল্য পদ্ধতির মাধ্যমে আইপিও ছাড়ার ক্ষেত্রে,একটি অফার মূল্য নির্ধারণ করা এবং সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (পাবলিক ইস্যু) রুলস, ২০০৬ এ উল্লেখিত নিয়মানুযায়ী এটার যৌক্তিকতা উপস্হাপন করা।
    • বুক বিল্ডিং পদ্ধতির মাধ্যমে আইপিও ছাড়ার ক্ষেত্রে, সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (পাবলিক ইস্যু) রুলস ২০০৬ অনুযায়ী রোড শো-এর জন্য আর্থিক তথ্যাদি সহকারে একটি তথ্য স্মারকপত্র (ইনফর্মেশন মেমোরান্ডাম) তৈরী করা এবং নির্দেশক মূল্য নির্ধারণ করা।
    • যোগ্য প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের নিয়ে রোড শো-এর আয়োজন করা।
    • যোগ্য প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে প্রস্তাব সংগ্রহ করা।
    • একটি নির্দেশক মূল্য চূড়ান্ত করা।
  • গণ প্রস্তাবের জন্য বিএসইসির কাছে আবেদনঃ 
    • সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (পাবলিক ইস্যু)রুলস, ২০০৬ এর নিয়মের অধীনে আইপিও এর জন্য বিএসইসির কাছে আবেদন করতে হবে। একই সাথে খসড়া প্রসপেক্টাস অনুলিপিগুলো এক্সচেঞ্জে জমা দেয়া।
    • খসড়া প্রসপেক্টাস বিএসইসি কোনো অমিল খুঁজে পেলে সেগুলো সমাধান করতে হবে এবং এক্সচেঞ্জগুলোর সকল প্রশ্নের উত্তর দেয়া।
    • বিএসইসি এবং এক্সচেঞ্জগুলো দ্বারা চিহ্নিত সকল ত্রুটির সমাধান প্রদান করে খসড়া প্রসপেক্টাসটাকে হালনাগাদ করার জন্য ইস্যু ম্যানেজার কে সহায়তা করা।
  • আইপিও অনুমোদিতঃ 
    • বহুল প্রচারিত বাংলা এবং ইংরেজি সংবাদপত্রে অনুমোদিত প্রসপেক্টাসের একটি সংক্ষেপিত রূপ প্রকাশ করা।
    • চূড়ান্ত প্রসপেক্টাস ছাপানো।
    • অনুমোদিত প্রসপেক্টাসের একটি অনুলিপি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রকাশ করা।
    • লিস্টিং রেগুলেশনস অফ দি এক্সচেঞ্জেস-এর অনুযায়ী এক্সচেঞ্জগুলোতে তালিকাভুক্ত হওয়ার জন্য আবেদন করা।
    • একজন পোস্ট ইস্যু ম্যানেজার নিয়োগ করা।
  • যোগ্য প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের দর প্রস্তাব (বুক বিল্ডিং-এর ক্ষেত্রে)- 
    • বিএসইসি অনুমোদিত নির্দেশক মূল্যের উপর নির্ভর করে বিডিং-এর আয়োজন করার জন্য এক্সচেঞ্জগুলোর কাছে আবেদন করা।
    • বিডিং শেষ হওয়ার পর এক্সচেঞ্জগুলোর কাছ থেকে বরাদ্দকৃত যোগ্য প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর তালিকা এবং সাবস্ক্রিপশন করার জন্য কাট-অফ মূল্য সংগ্রহ করা।
  • সাবস্ক্রিপশন,লটারিঃ 
    • ইস্যুর সাথে সম্পর্কিত নির্ধারিত ব্যাংকের মাধ্যমে আইপিও সাবস্ক্রিপশন শুরু করা।
    • সাবস্ক্রিপশন সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতা,লটারী, অর্থ ফেরত এবং সফল অ্যালোটিদের শেয়ার বিতরণ সম্পর্কিত কাজে ইস্যু মানেজার এবং পোস্ট ইস্যু ম্যানেজারকে সহায়তা করা।
    • সাবস্ক্রিপশন শেষ হওয়ার পর সাবস্ক্রিপশন অবস্হা বিএসইসি এবং ইস্যুয়ার যে এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত হতে চায় সেখানে জমা দেয়া।
    • ওভার সাবসক্রিপশন হলে লটারী আয়োজন করা।
  • বরাদ্দ করা এবং অর্থ ফেরতঃ 
    • সব সাবসক্রিপশন এবং লটারীর ফলাফলগুলো প্রক্রিয়াকরণ।
    • বরাদ্দপত্র এবং রিফান্ড ওয়ারেন্ট বিতরণ করা।
    • বরাদ্দপত্র/রিফান্ড ওয়ারেন্ট বিতরণ করা হয়ে গেলে একটি কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট কমিশনে এবং এক্সচেঞ্জগুলোতে জমা দেয়া।
  • এক্সচেঞ্জগুলোর কাছ থেকে তালিকাভুক্তির অনুমোদনঃ 
    • বরাদ্দপত্র/রিফান্ড ওয়ারেন্ট বিতরণ এবং অন্যান্য বিষয়াদি প্রতিপালন করার পর, ইস্যুয়ারের তালিকাভুক্তির আবেদনটি সম্পূর্ণ হয়েছে বলে ধরে নেয়া হয় এবং তালিকাভুক্তির অনুমোদনের জন্য পেশ করা হয়।
    • তালিকাভুক্তি অনুমোদন বা প্রত্যাখান করা হয়।
  • শেয়ার/ইউনিটগুলো ক্রেডিট করাঃ
    • যদি কোনো এক্সচেঞ্জ তালিকাভুক্তির অনুমোদন দেয়, তবে ইস্যুয়ার সিডিবিএলের কাছে বরাদ্দ অনুযায়ী লেনদেনযোগ্য শেয়ার/ইউনিট বিতরণ করার জন্য আবেদন করবে।
  • স্টক এক্সচেঞ্জে শেয়ারের লেনদেন শুরুঃ—
    • শেয়ার/ইউনিটগুলো বিতরণ হয়ে যাওয়ার পর এবং সিডিবিএল তা নিশ্চিত করার পর এক্সচেঞ্জগুলো লেনদেন শুরুর দিন ঘোষণা করে।

 

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডাইরেক্ট লিস্টিং) রেগুলেশন, ২০০৬ অনুযায়ী সরকারী মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর ছাড়া শেয়ার তালিকাভুক্ত করার সাধারণ পর্যায় এবং তার সাথে সম্পর্কিত প্রক্রিয়াসমূহঃ

  • সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় অথবা অন্য কোন সরকারী সংস্থা থেকে প্রয়োজনীয় অনুমোদন সংগ্রহ করা।
  • ইস্যু ম্যানেজার, তৎসংশ্লিষ্ট ব্রোকার নিয়োগ করা।
  • অফার প্রাইস নির্ধারণ করার জন্য বুক বিল্ডিং প্রক্রিয়া মেনে চলা।
  • ডাইরেক্ট লিস্টিং রেগুলেশনস অফ দি এক্সচেঞ্জেস অনুযায়ী ইনফরমেশন ডকুমেন্ট তৈরী করা।
  • ইনফরমেশন ডকুমেন্ট তৎসংশ্লিষ্ট এক্সচেঞ্জগুলোর কাছে এবং বিএসইসি-এর কাছে জমা দেয়া এবং ডাইরেক্ট লিস্টিং রেগুলেশনস অফ দি এক্সচেঞ্জেস অনুযায়ী শেয়ার ছাড়ার অনুমতি চেয়ে এক্সচেঞ্জগুলোর কাছে আবেদন করা।
  • বিএসইসি কর্তৃক ইস্যুকৃত ক্রুটিপত্রের নির্দেশনা পরিপালন করা।
  • তৎসংশ্লিষ্ট এক্সচেঞ্জগুলোর কর্তৃক চিহ্নিত ত্রুটিগুলো সংশোধন করা।
  • ইনফরমেশন ডকুমেন্ট হালনাগাদ করা এবং একই জিনিস তৎসংশ্লিষ্ট এক্সচেঞ্জ কর্তৃক পরীক্ষিত করা।
  • এক্সচেঞ্জ (গুলো) তালিকাভুক্তির অনুমোদন দেয়।
  • বহুল প্রচারিত বাংলা এবং ইংরেজি সংবাদপত্রে ইনফরমেশন ডকুমেন্ট প্রকাশ করা।
  • ছাপানো ইনফরমেশন ডকুমেন্ট এক্সচেঞ্জগুলোর কাছে এবং বিএসইসি’র কাছে জমা দেয়া।
  • সংবাদপত্রে প্রকাশের কমপক্ষে ৭ দিন পর লেনদেন শুরু করা।
  • যেসব শেয়ারগুলো ছাড়া হবে সেগুলো তৎসংশ্লিষ্ট স্টক ব্রোকারদের কাছে রাখা এবং যেকয়টি শেয়ার রাখা হয়েছে তার সবগুলোর জন্য অপরিবর্তনীয় বিক্রয় নির্দেশ দেয়া। এই ক্ষেত্রে যে পরিমাণ শেয়ার রাখা হবে সেগুলো মোট পরিশোধিত শেয়ারের ২৫ শতাংশের কম হতে পারবে না।
  • মোট পরিশোধিত শেয়ারের ২৫ শতাংশ প্রথম ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে ছাড়তে হবে।
  • প্রতিদিন প্রতিটি ব্রোকারের শেয়ার ছাড়ার অবস্থা এক্সচেঞ্জগুলোর কাছে এবং বিএসইসিকে জানাতে হবে।

লিস্টিং রেগুলেশনস অফ দি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ লিমিটেড এর রেগুলেশন ২৪:

“২৪.(১) একটি তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান তার “অতালিকাভুক্ত” সহযোগী প্রতিষ্ঠানের শেয়ার কোনো স্পিসি লভ্যাংশ,রাইট শেয়ার বা অনুরূপ অন্য কোনো কিছু বিতরণ করলে,ঐ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারহোল্ডারদের সভা হতে ঐ বিতরণ প্রক্রিয়া অনুমোদন পাওয়ার ১২০ দিনের মধ্যে সহযোগী প্রতিষ্ঠানটি এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত হয়ে যাবে।

(২) যদি ঐ ধরনের সহযোগী প্রতিষ্ঠানটি তালিকাভুক্তির জন্য আবেদন করতে ব্যর্থ হয় বা বাজারে স্বল্প চাহিদা থাকার কারণ দেখিয়ে,বা অন্য যে কোন কারণে, এক্সচেঞ্জ তাকে তালিকাভুক্ত করতে অস্বীকৃতি জানায়, তবে যে প্রতিষ্ঠানটি স্পিসি্ লভ্যাংশ বিতরণ করেছে সে গ্রহীতার পছন্দ অনুযায়ী সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারগুলো অর্থ মূল্যে পরিণত করবে,যেটা প্রচলিত ব্রেক-আপ মূল্য বা ফেস ভ্যালু যেই মূল্য বেশি হয় সেই দামের বা এর কম হতে পারবে না।। আর প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতে হবে তালিকাভুক্তি বাতিল হওয়ার দিন থেকে অথবা ১২০ দিনের সময়সীমা শেষ হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে, যেটা তাড়াতাড়ি হয়। এতে ব্যর্থ হলে কাউন্সিল ঐ তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের লেনদেন স্থগিত করে দিবে বা প্রতিষ্ঠানটিকে অতালিকাভুক্ত করে দিবে।”

 

শেয়ারবাজারনিউজ/ম.সা

আপনার মন্তব্য

Top