খারাপ লোকের আইপিও আমরা দিতে বাধ্য হই-বালা

শেয়ারবাজার রিপোর্ট: প্রাথমিক গণ প্রস্তাবের (আইপিও) ক্ষেত্রে আমরা (বিএসইসি) কাগজ পত্র ঠিক আছে কিনা তা যাচাই-বাছাই করে অনুমোদন দেই। দেখা যায়, খারাপ লোকের কোম্পানি আইপিও আবেদন করলেও কাগজ পত্র ঠিক থাকলে আমরা অনুমোদন দিতে বাধ্য হই। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কিছু করার নেই। কিন্তু বিনিয়োগকারীদের এ বিষয়টি খুবই গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কমিশনার ড. স্বপন কুমার বালা।

আজ বৃহস্পতিবার (১১ অক্টোবর) রাজধানীর বিজয় নগরে অবস্থিত হোটেল ৭১’এ বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স এসোসিয়েশন (বিএমবিএ) কর্তৃক আয়োজিত ‘রেটেইল ইনভেস্টরর্স এবাউট প্রাইমারি মার্কেট’ সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় বিএমবিএ’র প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন চৌধুরী, মহা-সচিব খায়রুল বাশার আবু তাহের মোহাম্মদ, বিএমবিএ’ সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ এ.হাফিজ, মো: ছায়েদুর রহমানসহ বিভিন্ন মার্চেন্ট ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ব্রাক ইউনিভার্সিটির ছাত্র-ছাত্রীরা ও বিনিয়োগকারীরা উপস্থিত ছিলেন।

‘বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ ২০১৮’ উপলক্ষ্যে বিএমবিএ কর্তৃক আয়োজিত সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির সভাপতি নাসির উদ্দিন চৌধুরী। আর মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংগঠনটির মহা-সচিব খায়রুল বাশার আবু তাহের মোহাম্মদ।

অনুষ্ঠানে ড. স্বপন কুমার বালা বলেন, মূলত প্রাইমারি মার্কেটের সঙ্গে উদ্যোক্তরা জড়িত। উদ্যোক্তাদের উদ্দেশ্যের উপর কোম্পানির ভালো-মন্দ নির্ভর করে। তাই বিনিয়োগের আগে তাদের সর্ম্পকে জেনে নেওয়া উচিত। কারন উদ্যোক্তাদের অসৎ উদ্দেশ্যের কারনে একটি গ্রুপের সবচেয়ে ভালো কোম্পানিটিও শেয়ারবাজারে এসে খারাপ হয়ে যায়। আর ভালো লোকদের কোম্পানি দুর্বল হলেও একসময় ভালো হয়ে যায়।

২০১০ সালে শেয়ারবাজারে ধ্বসের পেছনে প্রাইভেট প্লেসমেন্টে অরাজকতা ছিলো অন্যতম কারন। ওইসময় প্লেসমেন্টে শেয়ার বিক্রয় নিয়ে নানা অরাজকতা হয়েছে। এমনও হয়েছে টাকা দিয়ে পরে প্লেসমেন্টের শেয়ার পাওয়া যায়নি এবং যে পরিমাণ দেওয়ার কথা ছিল, তা দেওয়া হয়নি। এর মূল কারণ ছিলো কমিশনের অনুমোদিত কারো কাছ থেকে প্লেসমেন্ট শেয়ার না কেনা।

বহুজাতিক কোম্পানিগুলো পুঁজিবাজারে আসার বিষয়ে বিএসইসির কমিশনার বলেন, বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে বাজারে আনার ব্যাপারে সরকারের নির্দেশনা রয়েছে যে তাদেরকে বাধ্য করা যাবে না। তাই এ বিষয়ে কিছু যাচ্ছে না। তারা তাদের মূলধন ৪০ কোটির নিচে রাখছে এবং যাদের ৪০ কোটি ওপরে মূলধন রয়েছে তারা সরকারের সঙ্গে এক ধরণের চুক্তি করে রয়েছে যে পুঁজিবাজারে আসার ক্ষেত্রে তাদের ইচ্ছাই কার্যকর হবে। বন্ড মার্কেটের বিষয়ে ড. স্বপন কুমার বালা বলেন, বন্ড মার্কেট উন্নয়নের জন্য সরকার শক্তিশালী কমিটি করেছে। বন্ড মার্কেটে উন্নয়ন না হওয়ার ক্ষেত্রে যেসব বাধা রয়েছে সেগুলো দূর করার কাজ চলছে বলে জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে বিএমবিএ’র সভাপতি মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন চৌধুরী বলেন, আইপিও মার্কেটে আনার ক্ষেত্রে অনেক দেরি হয়। আর কি কি কারণে দেরি হচ্ছে, কি কি কাগজ পত্রের ঘাটতি থেকে যায় সে বিষয়ে আগামী নভেম্বর মাসে ট্রেনিং অনুষ্ঠিত হবে। এতে করে আইপিও অনুমোদনের জন্য আর দেরি হবে না। ফলে বাজারে বেশি করে আইপিও আসবে।

প্রাইসিংয়ের ব্যাপারে বিএমবিএ সভাপতি জানান, আমরা একটি কোম্পানির প্রাইসিং নির্ধারণের ক্ষেত্রে অনেক বিষয়ে অ্যানালাইসিস করে প্রাইস নির্ধারণ করি। বিনিয়োগকারীদের সে বিষয়টি খেয়াল রাখতে হবে। আমাদের রেট নির্ধারণের পরেও যদি বেশি প্রাইসে বিনিয়োগকারীরা শেয়ার কেনে তাহলেতো কিছু করার থাকে না। প্রাইসিংয়ের ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের ইলিজিবল ইনভেস্টটরদের অনুসরণ করার পরামর্শ দেন বিএমবিএ প্রেসিডেন্ট।

 

শেয়ারবাজারনিউজ/ম.সা

আপনার মন্তব্য

Top