বিনিয়োগকারীদের নিরাপত্তায় “সেফ ইনভেস্ট” চালু করলো আইআইডিএফসি ক্যাপিটাল

শেয়ারবাজার রিপোর্ট: বিনিয়োগকারীদের নিরাপত্তায় “সেফ ইনভেস্ট” নামে নতুন প্রডাক্ট চালু করেছে আইআইডিএফসি ক্যাপিটাল লিমিটেড (আইসিএল)। মাসিক ন্যূনতম দুই হাজার টাকা দিয়েই নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য ডিসক্রিশনারি পোর্টফোলিও অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবেন গ্রাহক। আর গ্রাহকের টাকা দিয়ে শেয়ার মার্কেটে ভালো গ্রোথ রয়েছে এমন সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ করা হবে। নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট থেকে যে পরিমাণ মুনাফা আসবে তার সম্পূর্ণই পাবেন সেফ ইনভেস্টের অ্যাকাউন্টধারী।

সেফ ইনভেস্ট সম্পর্কে আইআইফিএফসি ক্যাপিটাল লিমিটেডের চীফ এক্সিকিউটিভ অফিসার (সিইও) সালেহ আহমেদ শেয়ারবাজারনিউজ ডটকমকে জানান, সেফ ইনভেস্টমেন্ট হলো মূলত ডিপিএসের বিকল্প প্রডাক্ট যার টাকা ক্যাপিটাল মার্কেটে ইনভেস্ট করা হয় । ডিপিএস যেমন সুদের বিনিময়ে ব্যাংকে রাখা হয় তেমনি সেফ ইনভেস্টমেন্টে গ্রাহক মুনাফা পায়।

সেফ ইনভেস্ট চালু করার কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, আসলে পুঁজিবাজারে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারী তৈরি করার জন্যই মূলত সেফ ইসভেস্ট। আমরা কিন্তু এখন পর্যন্ত লং টার্ম ইনভেষ্টর তৈরি করতে পারিনি। ধরেন, যদি দুই হাজার টাকা করে দুই হাজার হিসাব খুলি, ৫ বছর পরে কিন্তু ভালো একটি ফান্ড তৈরি হবে। এই ফান্ডটি দীর্ঘমেয়াদি ইনভেষ্টমেন্টে যাচ্ছে। যেহেতু দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে যাচ্ছে তাই দীর্ঘমেয়াদিতে মার্কেটে ভালো প্রভাব পড়ার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ তৈরি হবে। এখন বেশিরভাগ বিনিয়োগকারী ডে ট্রেডারের আচরণ করছে। কিন্তু এই প্রডাক্টে সেই সুযোগ নেই। ফান্ডটি গ্রোথ স্টকে বিনিয়োগ করা হবে। কোম্পানির ভবিষ্যত দেখে বিনিয়োগ করা হবে।

সেফ ইনভেস্টে বিনিয়োগকারীদের লাভ সম্পর্কে তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীদের এখানে গেইন করার সুযোগ রয়েছে ন্যূনতম ১০% থেকে ১০০% পর্যন্ত। যেমন প্রতিবছর স্কয়ার ফার্মা ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ ক্যাশের পাশাপাশি স্টক ডিভিডেন্ড দিচ্ছে। এতে ডিভিডেন্ড ইনকাম হচ্ছে আবার ক্যাপিটাল গেইনও হচ্ছে। যদি ব্যাংকে দুই হাজার টাকা করে রাখা হয় তাহলে ব্যাংক কিন্তু ৫-৬ শতাংশের বেশি সুদ দেয় না। কিন্তু এই প্রডাক্টে বিনিয়োগকারীরা ২০-৩০ শতাংশ পর্যন্ত মুনাফা করতে পারবে। কেউ একজন ব্যাংকে ডিপিএস করলে সে প্রতিবছর ট্যাক্স এবং অন্যান্য চার্জ কাটার পর ৬-৭ শতাংশ সুদ পায়। কিন্তু সেফ ইনভেস্টে বিনিয়োগকারীরা এর চেয়ে অনেক বেশি রিটার্ন পাবে।

যেহেতু ক্যাপিটাল মার্কেট তাই লোকসান হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। সেই ঝুঁকির দায় কে নেবে এমন প্রশ্নের জবাবে সালেহ আহমেদ বলেন, লোকসান হয় সেই ধরণের শেয়ার এই প্রডাক্টে ঢুকবে না। কারণ আমাদের বিশেষজ্ঞরা বিনিয়োগকারীদের পোর্টফোলিও ম্যানেজ করবে। একজন ক্লায়েন্ট যদি প্রতি মাসে ৫ হাজার টাকা সেফ ইনভেস্ট করে তাহলে তার টাকাটা প্রতি মাসেই কোনো না কোনো গ্রোথ শেয়ারে বিনিয়োগ করা হবে। যখন প্রতিমাসেই কোনো গ্রোথ শেয়ারে বিনিয়োগ করা হবে তখন এটি কম-বেশি করে এভারেজ হয়ে ৫ বছরে একটা জায়গায় গিয়ে দাঁড়াবে। এর সঙ্গে ৫ বছরের ডিভিডেন্ড যোগ হয়ে ভালো একটি রিটার্ন নিশ্চিত হবে।

এক্ষেত্রে আপনাদের লাভ কি এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের লাভ হলো পোর্টফোলিও ম্যানেজমেন্ট ফি ও ট্রেড কমিশন। এর কোনো হিডেন চার্জ নেই। সিকিউরিটিজের মার্কেট ভ্যালুর উপর ২.৫০ শতাংশ ম্যানেজমেন্ট ফি এবং সিকিউরিটিজ হাউজের লেনদেন চার্জ ০.৫০ শতাংশ।

তিনি আরো বলেন, কেউ যদি মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই টাকা উত্তোলন করতে চায় তাহলে সেই সুযোগও রয়েছে। সেক্ষেত্রে ১ বছরের আগে তুলতে চাইলে ২% এবং ১ বছরের পর বা ম্যাচিউরিটির আগে ১% চার্জ দিয়ে গ্রাহক তার টাকা তুলতে পারবে।

এই সেফ ইনভেস্টমেন্টে মোট ৪টি স্কীম রয়েছে। ২,৩,৫ ও ১০ বছরের মেয়াদের স্কীম গ্রাহক গ্রহণ করতে পারবেন। গ্রাহকের টাকা দিয়ে কি পরিমাণ শেয়ার কেনা হলো তার তথ্য নিয়মিত মেইলের মাধ্যমে সরবরাহ করা হবে। নূন্যতম দুই হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ যত খুশি টাকা দিয়ে গ্রাহক সেফ ইনভেস্টে বিনিয়োগ করতে পারবে বলে জানান আইআইডিএফসি ক্যাপিটাল লিমিটেডের সিইও।

 

 

শেয়ারবাজারনিউজ/ম.সা

 

আপনার মন্তব্য

Top