আইপিও বিড়ম্বনার অবসান হোক

আইপিও নিয়ে বিড়ম্বনার শেষ নেই। দেখা যায় কোনো মাসে আইপিও এক সঙ্গে ২/৩টা হয়। আবার আইপিও শূণ্য কোনো মাস পার হয়।আইপিও প্রক্রিয়া সম্পন্নের পর কোনো কোম্পানি যখন মার্কেটে আসে তখন ইপিএস অনেক ভালো দেখায়। কিন্তু বেশিরভাগ কোম্পানি সিডিবিএল’এ এন্টি হওয়ার পর থেকে ইপিএসের ধারাবাহিকতা রক্ষা হয় না। অনেক সময় ইপিএস নেগেটিভও দেখা যায়।

নতুন নতুন আইপিও মার্কেটে অতি উচ্চ মূল্যে ট্রেড হলেও পরবর্তীতে আর সেই দাম আর টিকে আর না। ধীরে ধীরে শেয়ার দর তলানীতে এসে দাঁড়ায়। যেমন- ওইম্যাক্স ইন্ডাষ্ট্রিজ আইপিও’র শুরুতে ১২০ টাকা লেনদেন হলেও বর্তমান প্রাইস ৩৮ টাকা। আমান কটন ৯০ টাকায় লেনদেন হলেও এখন ৪৮ টাকায় লেনদেন হচ্ছে। বসুন্ধরা পেপার ১৮১ টাকায় লেনদেন হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে কোম্পানিটির শেয়ার দর ৯৮ টাকা। ইন্দো-বাংলা ৪৪ টাকায় লেনদেন হলেও বর্তমানে ৩৩ টাকায় লেনদেন হচ্ছে। সিলভা ফার্মার শেয়ার দর ছিলো ৩৪ টাকা। সেখান থেকে নেমে ২৫ টাকায় এসে ঠেকেছে। এসব কোম্পানি ছাড়া আরও অনেক কোম্পানির এরকম নজির বিহীন ঘটনা রয়েছে।

এসব কোম্পানিতে বিনিয়োগকারীরা বলতে গেলে এক ধরণের প্রতারিত হচ্ছেন। এক শ্রেণীর অতি মুনাফা লোভী বিনিয়োগকারীর জন্য বেশিরভাগ সাধারণ বিনিয়োগকারীরা আজ ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন। কিন্তু এসব দেখার দায়িত্ব নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) থাকলেও সংস্থাটি ঠিক মতো দায়িত্ব পালন করছে না। সম্প্রতি বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ’২০১৮ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালককে বিনিয়োগকারীদের প্রশ্ন করা হয়েছিল যে “শেয়ারের দর বাড়লে নোটিশ দেওয়া হয় কিন্তু দর কমলে কেনো তদন্ত হয় না?” এমন প্রশ্নের কোনো সদুত্তর তিনি দিতে পারেননি।

শেয়ার বাজার নিয়ে মাননীয় অর্থমন্ত্রী যে মন্তব্য করেছিল আসলেও তাই ঠিক হয়েছে। শেয়ার বাজার একটা ফকটা বাজার, শেয়ার বাজার একটা রাবিশ। দীর্ঘদিন শেয়ারবাজারে থেকে মনে হচ্ছে আমরাও ফকটা বাজারের ফটকা ব্যবসায়ী। লক্ষ লক্ষ টাকা পুঁজি হারিয়ে নি:স্ব বিনিয়োগকারীর কোনো পরিত্রাণ নেই। এই মার্কেটে এসেই কাউকে আত্মহত্যা করতে হয়েছে, কাউকে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে জীবন দিতে হয়েছে, আর মানসিক দুশ্চিন্তার রোগীর সংখ্যাতো অগণিত।

১ মাসে ২টা আইপিও না দিয়ে ১টা করে দেওয়া দরকার। আইপিওতে সাধারণ কোটার পরিমাণ বাড়ানো উচিত। কেননা পাবলিক যদি না থাকে তাহলে প্রতিষ্ঠান দিয়ে কি হবে। বিনিয়োগকারীরা একটি কোম্পানির আইপিও রিফান্ড দিয়ে অন্যটি আরেকটি আইপিও আবেদন করতে চায়। সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। আমরা বিনিয়োগকারীরা ভালোভাবে শেয়ার ব্যবসা করতে চাই। আমাদের সেই সুযোগ তৈরি দেওয়ার জন্য এখন সরকারই শেষ ভরসা।

লেখক: মো: সোহেল

ইনভেষ্টর, রয়েল ক্যাপিটাল লিমিটেড।

এডমিনঃ IPO SUCCESS GROUP & PAGE

 

শেয়ারবাজারনিউজ/ম.সা

আপনার মন্তব্য

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Top