নগদ অর্থের সংকটে ১২ ব্যাংক: সংকট কেটেছে ৫ ব্যাংকের

শেয়ারবাজার রিপোর্ট: আমানত প্রবৃদ্ধির চেয়ে ঋণ প্রবৃদ্ধি বেশি হওয়ায় শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ১২টি ব্যাংকের নগদ অর্থের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এদিকে, আমানত প্রবৃদ্ধির চেয়ে ঋণ প্রবৃদ্ধি কম হওয়ায় নগদ অর্থের সংকট কেটেছে ৫ ব্যাংকের। ব্যাংকগুলোর সর্বশেষ প্রকাশিত ২০১৮ বছরের ৯ মাসের (জানুয়ারী-সেপ্টেম্বর’১৮) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

কোন কোম্পানির কাছে কি পরিমাণ নগদ অর্থ আছে তা অপারেটিং ক্যাশ ফ্লোর মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। একাধিক নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কোনো ব্যাংকের ক্যাশ ফ্লো ঋণাত্মক হয়ে যাওয়া মানে ওই ব্যাংকটিতে নগদ অর্থের সংকট তৈরি হওয়া। শেয়ার প্রতি ক্যাশ ফ্লো (এনওসিএফপিএস) যত বেশি ঋণাত্মক, নগদ অর্থের সংকটও তত বেশি। এ অবস্থা তৈরি হলে চাহিদা মেটাতে ব্যাংকটিকে চড়া মাশুলে স্বল্প মেয়াদে টাকা ধার করতে হয়। তাতে খরচ বাড়ে। আর খরচ বাড়লে আয় কমে যাবে, এটাই স্বাভাবিক।

তারা আরো বলেন, শেয়ারবাজারের ক্ষেত্রে যেকোনো কোম্পানির শেয়ারপ্রতি ক্যাশ ফ্লোও একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক। এটির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির আর্থিক অবস্থার ধারণা পাওয়া যায়। ক্যাশ ফ্লো ঋণাত্মক মানে ওই কোম্পানির কাছে নগদ অর্থের ঘাটতি রয়েছে। আর ক্যাশ ফ্লো ইতিবাচক মানে হলো ওই কোম্পানির হাতে উদ্বৃত্ত তহবিল রয়েছে।

জানা যায়, চলতি বছরের ৯ মাসে সবচেয়ে বেশি নগদ অর্থের ঘাটতি রয়েছে রূপালী ব্যাংকের। ব্যাংকটির শেয়ার প্রতি ক্যাশ ফ্লো ৩২.৯০ টাকা ঋণাত্মক। অথচ এর আগের বছর একই সময়ে শেয়ার প্রতি ক্যাশ ফ্লো ৪৬.১২ টাকা ছিল। অর্থাৎ ব্যাংকটিতে উদ্বৃত্ত অর্থ ছিল।

এরপরই নগদ অর্থের সংকটে রয়েছে এবি ব্যাংক। আলোচিত সময়ে ব্যাংকটির শেয়ার প্রতি ক্যাশ ফ্লো হয়েছে ১১.৭৯ টাকা ঋণাত্মক। এর আগের বছর একই সময়ে শেয়ার প্রতি ক্যাশ ফ্লো ১১.৫৭ টাকা ঋণাত্মক ছিল। অর্থাৎ ব্যাংকটিতে অর্থের ঘাটতি বেড়েছে ০.২২ টাকা।

তৃতীয় স্থানে রয়েছে ইসলামী ব্যাংক। আলোচিত সময়ে ব্যাংকটির শেয়ার প্রতি ক্যাশ ফ্লো হয়েছে ১১.১৬ টাকা ঋণাত্মক। এর আগের বছর একই সময়ে শেয়ার প্রতি নগদ অর্থের ঘাটতি ছিল ১১.৬০ টাকা ঋণাত্মক। অর্থাৎ অর্থের ঘাটতি কমেছে ০.৪৪ টাকা।

এছাড়া ঢাকা ব্যাংকের শেয়ার প্রতি নগদ অর্থের ঘাটতি ৩.০৭ টাকা। এর আগের বছর একই সময়ে শেয়ার প্রতি নগদ অর্থের ঘাটতি ছিল ৬.৯৪ টাকা। অর্থাৎ অর্থের ঘাটতি কমেছে ৩.৮৭ টাকা।

মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের শেয়ার প্রতি নগদ অর্থের ঘাটতি ৩.২১ টাকা। এর আগের বছর একই সময়ে শেয়ার প্রতি নগদ অর্থের ঘাটতি ছিল ৯.১৮ টাকা। অর্থাৎ অর্থের ঘাটতি কমেছে ৫.৯৭ টাকা।

এক্সিম ব্যাংকের শেয়ার প্রতি নগদ অর্থের ঘাটতি হয়েছে ৮.৭৯ টাকা। অথচ এর আগের বছর একই সময়ে শেয়ার প্রতি নগদ অর্থের ঘাটতি ছিল ৪.৪৩ টাকা। ব্যাংকটির অর্থের ঘাটতি বেড়েছে ৪.৩৬ টাকা।

ফার্স্ট সিকিউরিটিজ ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার প্রতি নগদ অর্থের ঘাটতি ৬.১৫ টাকা। এর আগের বছর একই সময়ে শেয়ার প্রতি নগদ অর্থের ঘাটতি ছিল ৯.৪৭ টাকা। অর্থাৎ ঘাটতি কমেছে ৩.৩২ টাকা।

আইসিবি ইসলামিক ব্যাংকের শেয়ার প্রতি নগদ অর্থের ঘাটতি ০.২৬ টাকা। অথচ এর আগের বছর একই সময়ে শেয়ার প্রতি নগদ অর্থ ছিল ০.০৮ টাকা। অর্থাৎ ঘাটতি বেড়েছে ০.১৮ টাকা।

যমুনা ব্যাংকের শেয়ার প্রতি নগদ অর্থের ঘাটতি হয়েছে ৩.২৭ টাকা। অথচ এর আগের বছর একই সময়ে শেয়ার প্রতি নগদ অর্থের ঘাটতি ছিল ৬.২১ টাকা। অর্থাৎ ঘাটতি কমেছে ২.৯৪ টাকা।

ন্যাশনাল ব্যাংকের শেয়ার প্রতি নগদ অর্থের ঘাটতি ৩.৭৩ টাকা। অথচ এর আগের বছর একই সময়ে শেয়ার প্রতি নগদ অর্থ ছিল ৩.৬১ টাকা। অর্থাৎ ব্যাংকটিতে উদ্বৃত্ত অর্থ ছিল।

সোস্যাল ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার প্রতি নগদ অর্থের ঘাটতি হয়েছে ৫.৬২ টাকা। অথচ এর আগের বছর একই সময়ে শেয়ার প্রতি নগদ অর্থ ছিল ৯.৯৭ টাকা। অর্থাৎ ব্যাংকটিতে নগদ অর্থের সংকটে পড়েছে।

সাউথইস্ট ব্যাংকের শেয়ার প্রতি নগদ অর্থের ঘাটতি হয়েছে ৪.০১ টাকা। অথচ এর আগের বছর একই সময়ে শেয়ার প্রতি নগদ অর্থের ঘাটতি ছিল ৫.৬৬ টাকা। অর্থাৎ ঘাটতি কমেছে ১.৬৫ টাকা।

ইউনাইটেড কর্মাশিয়াল ব্যাংকের শেয়ার প্রতি নগদ অর্থের ঘাটতি ৬.০৪ টাকা। অথচ এর আগের বছর একই সময়ে শেয়ার প্রতি নগদ অর্থ ছিল ১১.৮৮ টাকা। অর্থাৎ ব্যাংকটিতে নগদ অর্থের সংকটে পড়েছে।

এদিকে, চলতি বছরের ৯ মাসে নগদ অর্থের ঘাটতি কেটেছে ৫ ব্যাংকের। এর মধ্য দ্য সিটি ব্যাংকের শেয়ার প্রতি নগদ অর্থ হয়েছে ১৮.৬৫ টাকা। অথচ এর আগের বছর একই সময়ে শেয়ার প্রতি নগদ অর্থের ঘাটতি ছিল ১৬.৭৪ টাকা।

ব্যাংক এশিয়ার শেয়ার প্রতি নগদ অর্থ হয়েছে ৪.৭২ টাকা। অথচ এর আগের বছর একই সময়ে শেয়ার প্রতি নগদ অর্থের ঘাটতি ছিল ৯.৮৩ টাকা।

ইস্টার্ন ব্যাংকের শেয়ার প্রতি নগদ অর্থ হয়েছে ১৩.৬৮ টাকা। অথচ এর আগের বছর একই সময়ে শেয়ার প্রতি নগদ অর্থের ঘাটতি ছিল ৮.১৬ টাকা।

এনসিসি ব্যাংকের শেয়ার প্রতি নগদ অর্থ হয়েছে ৬.৫১ টাকা। অথচ এর আগের বছর একই সময়ে শেয়ার প্রতি নগদ অর্থের ঘাটতি ছিল ০.৩৪ টাকা।

শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার প্রতি নগদ অর্থ হয়েছে ৪.৪৫ টাকা। অথচ এর আগের বছর একই সময়ে শেয়ার প্রতি নগদ অর্থের ঘাটতি ছিল ০.৮৯ টাকা। অর্থাৎ ৯ মাসে ব্যাংকটির নগদ অর্থের ঘাটতি কেটেছে।

শেয়ারবাজারনিউজ/এম.আর

Tags , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , ,

আপনার মন্তব্য

Top