ব্রিজ ফিন্যান্সিংয়ের দায় মেটাতে মরিয়া কোম্পানিগুলো

শেয়ারবাজার রিপোর্ট: ব্রিজ ফিন্যান্সিংয়ের দায় মেটাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে পাইপলাইনের কোম্পানিগুলো। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির আশায় ব্রিজ ফিন্যান্সিংয়ে ঝুঁকে অনেক কোম্পানি বিপুল পরিমাণ ঋণের দায়ে আটকা পড়ে গেছে। এক্ষেত্রে ঋণ,চক্রবৃদ্ধি হারে ঋণের সুদ মিলিয়ে এমন পর্যায়ে পৌছেছে যে অনেক কোম্পানির পরিশোধিত মূলধনকে সে অংক ছাড়িয়ে গেছে। তাই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব পুঁজিবাজারে এসে উত্তোলিত অর্থ দিয়ে ঋণ পরিশোধ করে কোম্পানিকে বাঁচিয়ে রাখার জোর প্রচেষ্টা চলছে। এজন্য তালিকাভুক্তির জন্য নীতিনির্ধারণী মহলের বিভিন্ন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের টেবিলে সংশ্লিষ্ট ইস্যু ম্যানেজারদের দৌড়ঝাপ চলছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

তালিকাভুক্তির অনুমোদন পাওয়া প্রায় প্রতিটি কোম্পানিই আইপিওর একটি অংশ দিয়ে ঋণ পরিশোধ করে থাকে। কিন্তু পুঁজিবাজারের স্বচ্ছতা ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে যেসব কোম্পানি বাজার থেকে উত্তোলিত অর্থ দিয়ে ব্যবসায়িক সম্প্রসারণের কাজ চালাবে সেগুলোকে আগে তালিকাভুক্তির অনুমোদন দেয়া উচিত বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির আগে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে ঋণ নিয়ে ব্যবসায় পরিচালনা করে যাচ্ছে বেশকিছু কোম্পানি। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়ে উত্তোলিত অর্থ দিয়ে দেনা পরিশোধ করা হবে এমন চুক্তিতে ঋণ নিয়েছে কোম্পানিগুলো। পুঁজিবাজারের ভাষায় যাকে ব্রিজ ফিন্যান্সিং বা সেতু ঋণ বলা হয়। কিন্তু মন্দাবাজার এবং বুক বিল্ডিংয়ে অতিরিক্ত প্রিমিয়ামের কারণে আইপিওর অনুমোদন পাচ্ছে না তারা। অন্যদিকে ব্রিজ ফিন্যান্সিংয়ের ঋণের সুদ চক্রবৃদ্ধিহারে বেড়ে চলছে। একাধিক কোম্পানি রয়েছে যাদের ঋণ ও ঋণের সুদ মিলিয়ে আইপিওতে উত্তোলনের আবেদনকৃত অর্থের পরিমাণের সমান হয়ে গেছে।

বিশ্লেষণে দেখা যায়, যখন এগুলোর আইপিও অনুমোদন দেয়া হবে;সেই সময় থেকে টাকা উত্তোলন পর্যন্ত ঋণের সঙ্গে সুদ মিলিয়ে তার চেয়ে বেশি হবে। সেজন্য আইপিওর অনুমোদন পেতে প্রতিদিনই নিয়ন্ত্রক সংস্থার এখানে কোম্পানিগুলোর প্রতিনিধিদের ভিড় লেগে রয়েছে। অপরদিকে কোম্পানিগুলোকে ঋণদাতা আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ঋণ পরিশোধে চাপ দিচ্ছে। ফলে বর্তমানে দ্বিমুখী চাপে রয়েছে কোম্পানিগুলো। এ চাপ সামলানোই বড় দায় বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংক অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) সাবেক সভাপতি এম এ হাফিজ শেয়ারবাজারনিউজ ডটকমকে জানান, ক্যাপিটাল মার্কেটের মূলই হচ্ছে প্রাইমারি মার্কেট। দেশের উন্নয়নে প্রাইমারি মার্কেটই মূল ভূমিকা পালন করে। তাই ভালো কোম্পানিগুলো এ মুর্হুত্বে বাজারে আসা উচিত। বিনিয়োগকারীদেরও সেদিকে আস্থা রেখে বিনিয়োগ করা দরকার। এতে তাদের পূর্বের ক্ষতি অনেকটা পুষিয়ে নিতে পারবে। তবে যেসব কোম্পানির ঋণ পরিশোধে পুঁজিবাজারে আসতে চাচ্ছে তাদের অডিট রিপোর্ট ভালোভাবে বিশ্লেষণ করা উচিত বলে মনে করেন তিনি।

 

শেয়ারবাজারনিউজ/ম.সা

 

আপনার মন্তব্য

Top