তফসিল ঘোষণা আজ

শেয়ারবাজার ডেস্ক: প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা আজ বৃহস্পতিবার (৮ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭টায় জাতির উদ্দেশে ভাষণে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবেন। বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারে একযোগে সিইসির এই ভাষণ প্রচারিত হবে।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ঐক্যফ্রন্টের সংলাপের পর বুধবার (৭ নভেম্বর) বিকেলে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জনসংযোগ শাখার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই সভা-সমাবেশসহ প্রচারণার বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতৃত্বাধীন দুই জোটের রাজনৈতিক অনৈক্যের মধ্যেই তফসিল ঘোষণা করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

এছাড়াও গত ৬ নভেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল না পেছানোর জন্য নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ জানায় ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্ট।

বুধবার (৭ নভেম্বর) জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদের নেতৃত্বাধীন ‘সম্মিলিত জাতীয় জোট’-এর ১৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে দেখা করে সংলাপের অজুহাতে বিলম্ব না করে পূর্বনির্ধারিত সময়েই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার দাবি জানায়।

তফসিল ঘোষণা উপলক্ষে আজ বৃহস্পতিবার (৭ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭টায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন। তিনি নির্বাচন নিয়ে কমিশনের প্রস্তুতি ও সিদ্ধান্তগুলো জানাবেন। পাশাপাশি তফসিল ঘোষণা করবেন।

নির্বাচন কমিশনের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, এতে ২০ ও ২৩ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ ভোটগ্রহণের তারিখ নির্ধারিত হতে পারে। তবে ২০ ডিসেম্বরই ভোটগ্রহণের দিন হিসেবে ইসির বিবেচনায় প্রাধান্য পাচ্ছে। এমন তথ্যই ইসি সূত্রে জানা গেছে।

ইসি সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের ধারণা, আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণের তারিখ ২০ অথবা ২৩ ডিসেম্বর পড়ার সম্ভাবনা বেশি।

এদিকে, তফসিল ঘোষণার পর শুক্রবার (৯ নভেম্বর) থেকে সারা দেশে মনোনয়ন ফরম বিতরণ শুরু হবে। এবারই প্রথমবারের মতো অনলাইনে মনোনয়নপত্র দাখিলের সুযোগ পাচ্ছেন প্রার্থীরা।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২-এ (আরপিও) ঋণখেলাপিসংক্রান্ত বিধিতে ত্রুটি রেখেই এ তফসিল ঘোষণা করা হচ্ছে।

সূত্রে জানা গেছে, আজ সকালেই সিইসির নেতৃত্বে কমিশন সভায় একাদশ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা, যাচাই-বাছাই, প্রত্যাহারের দিনক্ষণসহ তফসিলের বিস্তারিত চূড়ান্ত করা হবে।

গত ৩১ অক্টোবর থেকে নির্বাচনের ক্ষণ গণনা শুরু হয়েছে। ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত বর্তমান সংসদের মেয়াদ রয়েছে। ওই সময়ের মধ্যে নির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা আছে।

সেই হিসাবে ডিসেম্বরের ২০ তারিখের মধ্যেই নির্বাচন করার জন্য যাবতীয় প্রস্তুতির বেশিরভাগই সম্পন্ন করেছেন ইসি। সাধারণত ডিসেম্বর মাসে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে বার্ষিক পরীক্ষা থাকে। বার্ষিক পরীক্ষা যেন ১০ ডিসেম্বরের মধ্যেই শেষ করা হয়, সে জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করেছে ইসি। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে সেই নির্দেশনা সব স্কুলে পাঠিয়ে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছে, ডিসেম্বরের শেষে প্রচণ্ড শীত থাকবে। আর জানুয়ারির প্রথম ১০ দিন প্রচণ্ড শীতের সঙ্গে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হতে পারে। এসব বিবেচনায় ২০ ডিসেম্বরই নির্বাচন করতে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে ইসিতে।

বুধবার (৭ নভেম্বর) সন্ধ্যায় নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, বৃহস্পতিবারই তফসিল ঘোষণা করা হবে। এ সংক্রান্ত সব প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। তফসিল ঘোষণার পর জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কর্মসূচির বিষয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ইসির অধীনে থাকবে। ইসির নির্দেশনা অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা নেবে।

জানা গেছে, জাতির উদ্দেশে সিইসি ১০-১২ মিনিটের একটি বক্তব্য দেবেন। এর খসড়াও চূড়ান্ত করা হয়েছে।

এতে সিইসি সব দলকে নির্বাচনে অংশ নেয়ার আহ্বান জানাবেন। একই সঙ্গে সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করতে রাজনৈতিক দল, ভোটার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গণমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করবেন।

পাশাপাশি রিটার্নিং, সহকারী রিটার্নিং ও ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা, গাফিলতি ও শৈথিল্য প্রদর্শন করলে নির্বাচন কর্মকর্তা (বিশেষ বিধান) আইন ১৯৯১ অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারি থাকবে।

সিইসি তার বক্তব্যে বর্তমান কমিশনের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সংলাপের বিষয়টি উল্লেখ করবেন। নির্বাচনী আইনকানুন ও আচরণ বিধিমালা সংশোধনে তার কমিশনের নেয়া পদক্ষেপ জাতিকে জানাবেন। সিইসির বক্তব্যে নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সেনা মোতায়েন, সীমিত আকারে ইভিএম ব্যবহার, অনলাইনে মনোনয়নপত্র দাখিলের বিষয়েও উঠে আসবে।

প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের ২৫ নভেম্বর সন্ধ্যায় তৎকালীন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমদও জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণের মাধ্যমে তফসিল ঘোষণা করেন। সে সময় প্রধান বিরোধী জোটের নির্বাচন বর্জন ও প্রতিহত করার হুমকির মুখে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করা হয়। কাজী রকিব ওই দিন তার ভাষণের শুরুতেই সবার অংশগ্রহণে একটি সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে সমঝোতায় আসার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তার সে আহ্বানে সাড়া মেলেনি।

কিন্তু এবারের পরিস্থিতি ভিন্ন। নির্বাচন কমিশন আশা করছে, এবার সব দলের অংশগ্রহণেই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এখন দেখার বিষয় কি হয়।

শেয়ারবাজারনিউজ/মু

আপনার মন্তব্য

Top