বিনিয়োগে সচেতনতার বিকল্প নেই

বিগত সাড়ে সাত বছরের ব্যবধানে কয়েক দফা মোটা অঙ্কের পুঁজি হারিয়েছেন ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা। এর জন্য বিনিয়োগকারীদের ভুল সিদ্ধান্ত এবং অতি মুনাফালোভী মনোভাব থাকার পাশাপাশি সুযোগ-সন্ধানীদের কারসাজি দায়ী। অধিকাংশ সাধারণ বিনিয়োগকারীর একটা বদ্ধমূল ধারণা হচ্ছে প্রতিদিনই মুনাফা করতে হবে। কিন্তু তা কখনই সম্ভব নয়। কিছু যৌক্তিক কারণে বাজারে সাময়িক মন্দাভাব বিরাজ করতে পারে এটাও বিনিয়োগকারীদের উপলব্ধি করতে হবে।

পুঁজিবাজারে ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ অনেক কোম্পানির ডিসেম্বর ক্লোজিং অর্থাৎ ডিসেম্বর পর্যন্ত পুরো বছরের আর্থিক প্রতিবেদন তৈরি করতে হবে। এমতাবস্থায় সেসব প্রতিষ্ঠানের হাতে থাকা শেয়ারগুলো বিক্রি না করলে অ্যানুয়াল রিপোর্টে (বার্ষিক প্রতিবেদন) হিসাব ঠিকভাবে প্রকাশ করা যাবে না। স্বচ্ছ আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো ডিসেম্বরের শুরু থেকেই শেয়ার বিক্রি শুরু করে। স্বাভাবিকভাবেই এ সময়টায় সেল প্রেসার বেশি থাকে। আর জোগান বেশি থাকলে চাহিদা কমে এটি অর্থনীতির অতি সাধারণ সূত্র। সঙ্গত কারণেই বাজারে শেয়ারের দর কিছুটা নিম্নমুখী হয়। কিন্তু এ নিম্নমুখিতা ধসে পরিণত হয় তখনই যখন সাধারণ বিনিয়োগকারীরাও প্রতিষ্ঠানের দেখাদেখি তাদের হাতে থাকা শেয়ারগুলো বিক্রি করতে শুরু করেন। এখানে দেখা যাচ্ছে, প্রতিষ্ঠানগুলো শেয়ার বিক্রি করছে প্রয়োজনে আর সাধারণ বিনিয়োগকারীরা বিক্রি করছেন অজানা আতঙ্কে অর্থাৎ অপ্রয়োজনে।
নদীর জোয়ার-ভাটার মতোই পুঁজিবাজারের উত্থান-পতন হয়। বিশ্বের সব পুঁজিবাজারেই দর ওঠানামা করে। সেখানকার বিনিয়োগকারীরাও মুনাফা এবং আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়। কিন্তু সেটা পুঁজিবাজারের স্বাভাবিক আচরণ হিসেবে তারা মেনে নেয়। অথচ আমাদের এখানে দর বাড়া কিংবা দরপতন দুটোতেই আতঙ্ক। এখানে বিনিয়োগকারীরা অতি অল্প সময়ে মুনাফা অর্জন করতে চাচ্ছে। ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের আরো বেশি ধৈর্যশীল হতে হবে।

দীর্ঘদিন ধরে পুঁজিবাজার অনেকটাই পরিকল্পিতভাবে চলছে। তারা ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের অসচেতনতাকে কাজে লাগিয়েই বাজারকে ধসে দিকে ঠেলে দিচ্ছে। একটি গোষ্ঠী বাজারে অব্যাহত দরপতনের ধোঁয়া তৈরি করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করছে। তারা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ভেতর ধসের আতঙ্ক ছড়িয়ে নিজেরা কম দরে সে শেয়ার কিনে নিচ্ছে। দুই দিন পরে হয়তো ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা নিরুপায় হয়ে আবার সেই শেয়ারই বেশি দরে কিনবে। অনেকেই চান প্রতি মুহূর্তে ব্যবসা করতে অথচ তাদেরকে বুঝতে হবে একটি দিন বা একটি সপ্তাহও খারাপ যেতেই পারে।

কোনো শেয়ারের দর নিম্নমুখী হওয়া মাত্রই ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা সেই শেয়ার লসে বিক্রি করছে। আবার সে টাকা দিয়ে তৎক্ষণাৎ নতুন করে আরেক কোম্পানির শেয়ার কিনছে। সেখানেও হয়তো দুই দিন পর একই ঘটনা ঘটছে। আসলে স্বল্প মেয়াদে অতিমুনাফার আশাই ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে যাচ্ছে। সে জন্য সবাইকে সচেতনতার সঙ্গে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। পরিস্থিতি ধৈর্যের সঙ্গে মোকাবিলা করলে কোনো প্রকার চক্রান্ত পুঁজিবাজারকে গ্রাস করতে পারবে না।

 

শেয়ারবাজারনিউজ/ম.সা

আপনার মন্তব্য

Top