সেকেন্ডারি মার্কেটে আইসিবি’র বিনিয়োগ কমেছে ৮১০ কোটি টাকা

শেয়ারবাজার রিপোর্ট: সেকেন্ডারি মার্কেটে ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) বিনিয়োগ ৮১০ কোটি ৪৪ লাখ ১৯ হাজার টাকা কমেছে। ২০১৭-২০১৮ হিসাব বছরের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে এমন তথ্য জানানো হয়েছে।

এমনকি কোম্পানিটির ২০১৮-২০১৯ হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ আরো ১২৮ কোটি ২৯ লাখ ৩০ হাজার টাকা কমেছে।

এর প্রভাব পড়েছে স্টক এক্সচেঞ্জের সূচকে। তাই ২০১৬-২০১৭ হিসাব বছর সূচক ভাল অবস্থানে থাকলেও ২০১৭-২০১৮ হিসাব বছরে সূচকে অস্থিরতা ছিল। জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে এই অস্থিরতা এখনও রয়েছে।

আইসিবি’র কর্মকর্তারা জানান, আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে আইসিবি মূলত অন্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে টাকা ধার করে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করে। এছাড়া বিভিন্ন খাতে প্রতিষ্ঠানগুলোকে ঋণ প্রদান করে। এতে বিভিন্ন ব্যাংকে আইসিবি’র ঋণের পরিমাণ অনেক বেড়ে যায়। যা ওই সব ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধনের ১৫ শতাংশের (সিঙ্গেল বরোয়ার এক্সপোজার লিমিট) বেশি হয়ে যায়। ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী কোন একক কোম্পানিকে পরিশোধিত মূলধনের ১৫ শতাংশের বেশি ঋণ দিতে পারবে না ব্যাংকগুলো। তাই বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশে আইসিবি নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে ঋণ ফেরত দিতে বাধ্য হয়। তাই ২০১৭-২০১৮ হিসাব বছরে পুঁজিবাজারে কোম্পানিটির বিনিয়োগ কমেছে। এদিকে সিঙ্গেল বরোয়ার এক্সপোজার লিমিটের কারণে নগদ অর্থের সঙ্কটেও পড়ে প্রতিষ্ঠানটি। এর জন্য পুঁজিবাজারে বন্ড ছেড়ে অর্থ সংগ্রহ করছে কোম্পানিটি।

এমন অবস্থায় পুঁজিবাজারকে সহায়তা দেওয়ার জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) আইসিবি-কে ১৫০০ কোটি টাকা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের শর্তে ২ হাজার কোটি টাকার বন্ডের অনুমোদন দিয়েছে। কারণ সরকার আইসিবি’কে গঠন করেছে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য। এরই ধারাবাহিকতায় আইসিবির বন্ডে এরই মধ্যে অগ্রণী ব্যাংক ৭০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। শিগগির আরও দুই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক জনতা ও সোনালী বিনিয়োগ করবে। এ ব্যাংক দুটি অন্তত হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে বলে আশা আইসিবির। এদিকে আইসিবি’র বন্ডে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জও ৪০ কোটি টাকা বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এছাড়ােআইসিবি’র বন্ডে বিনিয়োগ ব্যাংকের এক্সপোজার গণনার বাইরে রেখে প্রজ্ঞাপন দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

আইসিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছানাউল হক জানিয়েছেন, অগ্রণী ব্যাংকের টাকা পাওয়ার পরই নতুন করে বিনিয়োগ শুরু করা হয়েছে। গত বুধ থেকে বাজারকে ঊর্ধ্বমুখী করতে তাদের বিনিয়োগ বড় ভূমিকা রেখেছে বলে দাবি তার।

২০১৭-২০১৮ হিসাব বছরের নিরীক্ষা প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিতে আইসিবি’র ১০ হাজার ১৭৩ কোটি টাকা বিনিয়োগ রয়েছে। এর আগের বছর একই সময়ে বিনিয়োগ ছিল ১০ হাজার ৯৮২ কোটি ৪৬ লাখ ৭৩ হাজার টাকা। এক বছরের ব্যবধানে বিনিয়োগ কমেছে ৮১০ কোটি ৪৪ লাখ ১৯ হাজার টাকা। আলোচিত সময়ে বিনিয়োগ সবচেয়ে বেশি কমেছে ব্যাংক খাতে। এই খাতে বিনিয়োগ ৫৪৪ কোটি ৪৯ লাখ ৯৩ হাজার টাকা কমে ৭৮৭ কোটি টাকা হয়েছে।

যদিও এই সময় নন-লিস্টেড খাতে আইসিবি’র বিনিয়োগ ৮৮ কোটি টাকা বেড়ে ৫১৪ কোটি ৯৪ লাখ ৭৬ হাজার টাকা। নন-লিস্টেড খাতে সবচেয়ে বেশি ফার্মার্স ব্যাংকে ৮৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ হয়েছে। আগে ফার্মার্স ব্যাংকে আইসিবি’র ৩০ কোটি টাকা বিনিয়োগ ছিল।

৩০ সেপ্টম্বর ২০১৮ পর্যন্ত আইসিবি পুঁজিবাজারে এক হাজার ৮৬ কোটি ৮৭ লাখ ৮২ হাজার টাকার মার্জিন ঋণ বিতরণ করেছে।

এসময় কোম্পানিটি কেপিটাল গেইন করেছে ৭৯৮ কোটি টাকা। আগের বছর ৮১৪ কোটি টাকা কেপিটাল গেইন করেছিল।

আলোচিত হিসাব বছর শেষে আইসিবি’তে মোট খেলাপি ঋণ হয়েছে ৯৮০ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। এর আগের বছর খেলাপি ঋণ ছিল ১ হাজার ৫৭ কোটি টাকা। আর ঋণ অবলোপন (রিটেন অফ) হয়েছে ২৬৩ কোটি টাকা।

৩০ জুন ২০১৮ সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য ৩০ শতাংশ ক্যাশ এবং ৫ শতাংশ স্টক ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে। এই সময় ইপিএস হয়েছিল ৬.২৭ টাকা। ঘোষিত ডিভিডেন্ড বিনিয়োগকারীদের অনুমোদনের জন্য এ কোম্পানির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আগামী ৮ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ১০টায় হোটেল পূর্বানী, ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে।

এদিকে জুলাই ‘১৮ থেকে সেপ্টেম্বর’১৮ পর্যন্ত তিন মাসে (প্রথম প্রান্তিক) কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি সমন্বিত আয় (ইপিএস) হয়েছে ০.৪৩ টাকা। যা এর আগের বছর একই সময়ে ছিল ১.৮৬ টাকা। সমন্বিত ইপিএস কমেছে ৭৭ শতাংশ।

আর এককভাবে তিন মাসে ইপিএস হয়েছে ০.০৪ টাকা। যা এর আগের বছর একই সময়ে ছিল ১.৪০ টাকা। এককভাবে ইপিএস কমেছে ৯৭ শতাংশ।

 

শেয়ারবাজারনিউজ/আ

আপনার মন্তব্য

Top