ডিভিডেন্ড না দিয়ে গ্যাস বিল মেটাচ্ছে জিবিবি পাওয়ার

শেয়ারবাজার রিপোর্ট: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বিদ্যুৎ ও জ্বালানী খাতের জিবিবি পাওয়ার ২০১৭-২০১৮ হিসাব বছরে শেয়ারহোল্ডারদের ডিভিডেন্ড না দিয়ে বকেয়া গ্যাস বিল মেটাচ্ছে বলে জানা গেছে।

আলোচিত বছরে কোম্পানিটি কর পরিশোধের পর প্রকৃত মুনাফা ৯ কোটি ৯৫ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) ০.৯৪ টাকা করা সত্ত্বেও শেয়ারহোল্ডারদের কোন প্রকার ডিভিডেন্ড না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগের বছর শেয়ার প্রতি ১.১০ টাকা আয় করে শেয়ারহোল্ডারদের ৫ শতাংশ ক্যাশ ও ৫ শতাংশ স্টক ডিভিডেন্ড দিয়েছিল কোম্পানিটি।

ঘোষিত ডিভিডেন্ড ও নিরীক্ষা হিসাব বিনিয়োগকারীদের সম্মতিক্রমে অনুমোদনের জন্য আগামী ২৭ ডিসেম্বর সকাল ১০টায় হোটেল নাজ গার্ডের, বগুড়ায় বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) করবে কোম্পানিটি।

এ প্রসঙ্গে জানা যায়, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরী কমিশন (বিইআরসি) সালিশি ট্রাইব্যুনাল ২০১৮ এর ১০ জানুয়ারি জিবিবি পাওয়ার ও পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানির (পিজিসিএল) মধ্যকার মামলাটি নিষ্পত্তি করে রায় দিয়েছে। ট্রাইব্যুনালের আদেশ অনুসারে গ্যাসের মূল্য বাবদ (হাই হিটিং ভ্যালু অনুযায়ী) পিজিসিএলের দাবীকৃত বকেয়া ১৪ কোটি ৭০ লাখ ৫২ হাজার ৮০ টাকা পরিশোধ করতে হবে জিবিবি পাওয়ারকে। তাছাড়া দেরিতে বিল পরিশোধের কারণে এর বিপরীতে প্রযোজ্য কিছু সুদও পরিশোধ করতে হবে তাদের। বকেয়া বিল ও সুদের টাকা ২০ টি সমান মাসিক কিস্তিতে পরিশোধ করবে জিবিবি পাওয়ারকে বলে রায় দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল।

এমন নির্দেশনার প্রেক্ষিতে বকেয়া গ্যাস বিল পরিশোধে জিবিবি পাওয়ার রিটেইনড আর্নিংস থেকে ৯ কোটি ৯৫ লাখ ১৭ হাজার ১৬০ টাকা বরাদ্দ করে। বাকী ৪ কোটি ৭৫ লাখ ৩৪ হাজার ৯০৯ টাকা আগেই বরাদ্দ ছিল। আর এমন বরাদ্দের কারণে কোম্পানিটির রিটেইনড আর্নিং আগের বছরের তুলনায় ১০ কোটি টাকা কমে ১০ কোটি ৪৬ লাখ ৭৯ হাজার টাকা হয়েছে। আগের বছর রিটেইনড আর্নিং ছিল ২০ কোটি ৫৪ লাখ ৩১ হাজার টাকা। এতে কোম্পানিটির শেয়ারহোল্ডার ইক্যুইটিও কমে গিয়েছে। তাই তাদের শেয়ার প্রতি প্রকৃত সম্পদ (এনএভি) আগের বছরের তুলনায় কমে ১৯.৫৪ টাকা হয়েছে। আর এ ঘাটতি মেটাতে তারা ডিভিডেন্ড না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ব্যাংক এশিয়া, এবি ব্যাংক এবং আইডিএলসি ফাইন্যান্সে কোম্পানিটির ৫৪ কোটি ৭৩ লাখ ৫২ হাজার টাকার ফিক্সড ডিপোজিট রয়েছে।

আলোচিত বছরে কোম্পানিটি স্বল্প মেয়াদে ১৭ কোটি ৯৩ লাখ ৫৫ হাজার টাকা ব্যাংক ঋণ করেছে। এর আগের বছর স্বল্প মেয়াদি ব্যাংক ঋণ ছিল ৪ কোটি ৯২ লাখ ৭৫ হাজার টাকা।

কোম্পানিটির সঙ্গে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) কুইক রেন্টাল বেসিসে ১৫ বছর মেয়াদি ২১.০৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেনার চুক্তি হয়েছে ২০০৬ সালে। ২০০৮ সালের জুন মাসে বাণিজ্যিক উৎপাদনে গিয়েছে কোম্পানিটি। সেই হিসাবে চুক্তির ১০ বছর পেরিয়ে গেছে।

এদিকে প্রথম প্রান্তিকেও কোম্পানিটির ব্যবসা কমেছে। ২০১৮-২০১৯ হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ০.২৬ টাকা। যা আগের বছরে একই সময়ে শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) ছিল ০.৩৫ টাকা।  সে হিসেবে কোম্পানিটির ইপিএস কমেছে ০.০৯ টাকা। মূলত উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় তাদের আয় কমেছে।

 

শেয়ারবাজারনিউজ/আ

আপনার মন্তব্য

Top