বিএসইসি’কে যে পরামর্শ দিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

শেয়ারবাজার রিপোর্ট:  বাংলাদেশ নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ থেকে মধ্যম আয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। উন্নত দেশে পরিণত হওয়াই বর্তমান সরকারের লক্ষ্য। টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের মাধ্যমে এই অর্জন সম্ভব। এর জন্য প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ। একটি শক্তিশালী পুঁজিবাজার এক্ষেত্রে বড় ভূমিকা পালন করতে পারে। এর জন্য পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (বিএসইসি) বেশ কিছু পরামর্শ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. মো: আখতারুজ্জামানের ‘ক্যাপিটাল মার্কেট ডেভেলপমেন্ট ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনে এমন পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। গবেষণাটি জুলাই, ২০১৮ থেকে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ পর্যন্ত তিন মাসের হিসাবে করা হয়েছে।

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘ মেয়াদি বিনিয়োগের মাধ্যমে  দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে পুঁজিবাজারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। কিন্তু আমাদের দেশের পুঁজিবাজারে এখনও পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে।

এখানে আরো বলা হয়েছে, দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ এখনও ব্যাংক নির্ভর। বহুদিন থেকেই এই ধারা বজায় রয়েছে। কিন্তু ব্যাংকের পক্ষে দীর্ঘ মেয়াদি অর্থায়ন সম্ভব না। বিশেষ করে খেলাপি ঋণ বেড়ে যাওয়ায় ব্যাংক খাতে ঝুঁকি বেড়েছে। এমন অবস্থায় প্রোডাক্টিভ অবকাঠামো ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল উন্নয়নের জন্য দীর্ঘ মেয়াদি অর্থায়নের সক্ষমতা বাড়াতে বিকশিত পুঁজিবাজারের বিকল্প নেই।

দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের জন্য বিকশিত পুঁজিবাজার গড়তে সহায়ক পণ্য লাগবে। যেমন সুকুক বন্ড, ডিবেঞ্চার, ডেরিভেটিভস ইন্সট্রুমেন্টগুলো দীর্ঘ মেয়াদি বিনিয়োগে সহায়ক।

এর জন্য পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি’কে পদক্ষেপ নিতে হবে। পুঁজিবাজারের মাধ্যমে ফান্ড মালিকদের বিনিয়োগে উৎসাহী ও নিশ্চয়তা দেওয়ার জন্য তাদের আইনি সহায়তা দিবে। তাছাড়া করপোরেট সুশাসন নিশ্চিত করলে ফান্ড মালিকেরা পুঁজিবাজারের প্রতি আকৃষ্ট হবে। ভাল কোম্পানি ও উদ্যোক্তাদের শেয়ার, ডিবেঞ্চার কিংবা সুকুক বন্ড ছেড়ে পুঁজি উত্তলনে উৎসাহী করা এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আরো সুযোগ সুবিধা দেওয়ার জন্য বিএসইসি’র বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন বলে মনে করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

এদিকে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৮ শেষে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের বাজার মূলধন হয়েছে ৩ লাখ ৮৭ হাজার ৬৮৪ কোটি টাকা। যা দেশের জিডিপি’র ১৭.৩২ শতাংশ। এই বাজারে মোট ১ লাখ ২২ হাজার ৮৫০ কোটি টাকার শেয়ার ইস্যু করা হয়েছিল।

আলোচিত সময় শেষে ডিএসই-তে ডিভিডেন্ড প্রদানের হার (ডিভিডেন্ড ইয়েল্ড) ৩.৬০ এবং পিই রেশিও ১৫.১৭। এর মধ্যে ব্যাংক খাতের ডিভিডেন্ড ইয়েল্ড ২.৯৯। অথচ ডিসেম্বর ২০১৭ শেষে ব্যাংক খাতে ডিভিডেন্ড ইয়েল্ড ছিল ৪.৪১।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতে ডিভিডেন্ড ইয়েল্ড ২.৭৩। ডিসেম্বর ২০১৭ শেষে ডিভিডেন্ড ইয়েল্ড ছিল ২.৬০।

বীমায় ডিভিডেন্ড ইয়েল্ড ২.৪৬। ডিসেম্বর ২০১৭ শেষে ডিভিডেন্ড ইয়েল্ড ছিল ২.৯৯।

আর এই সময় ডিএসই’র প্রধান সূচক ডিএসই এক্স কমেছে ১১.৮৮ শতাংশ। সেপ্টেম্বর ২০১৮ শেষে ডিএসইএক্স ৫৩৬৮ পয়েন্ট। এ্র আগের বছর একই সময়ে সূচক ছিল ৬০৯২ পয়েন্ট।

আজে লেনদেন শেষে ডিএসইএক্স আরো কমে হয়েছে ৫২৮৪ পয়েন্ট।

 

শেয়ারবাজারনিউজ/আ

আপনার মন্তব্য

Top