ইসলামী ব্যাংকিংয়ে অতিরিক্ত অর্থ ১ হাজার ২৬৩ কোটি টাকা কমেছে

শেয়ারবাজার রিপোর্ট: ইসলামী ব্যাংকিংয়ে অতিরিক্ত অর্থ (লিকুইডিটি এক্সসেস) ১ হাজার ২৬৩ কোটি ১৩ লাখ টাকা কমেছে। ২০১৮ এর ৩০ সেপ্টেম্বর শেষে ইসলামী ব্যাংকিংয়ে অতিরিক্ত অর্থের পরিমাণ ৫ হাজার ২০২ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। এর আগের প্রান্তিকে অর্থাৎ জুন শেষে অতিরিক্ত অর্থের পরিমাণ ছিল ৬ হাজার ৪৬৫ কোটি ৯২ লাখ টাকা। অতিরিক্ত অর্থ ১৯.৫৪ শতাংশ কমেছে।

২০১৭ এর সেপ্টেম্বর শেষে ইসলামী ব্যাংকগুলোর কাছে অতিরিক্ত অর্থ ছিল ৬ হাজার ৪৬২ কোটি টাকা। গতবছরের তুলনায় কমেছে ১ হাজার ২৫৯ কোটি ৬২ লাখ টাকা অর্থাৎ ১৯.৪৯ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘ডেভেলপমেন্ট অব ইসলামীক ব্যাংকিং ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এমন তথ্য দেওয়া হয়েছে।

দেশে বর্তমানে ৮টি পুর্ণাঙ্গ ইসলামী ব্যাংক, ৯টি কনভেনশনাল ব্যাংক ১৯টি ব্রাঞ্চ এবং ৭টি ব্যাংক ২৫টি ইসলামী ব্যাংক উইনডোর মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

পূর্ণাঙ্গ ইসলামী ব্যাংকিংয়ে অতিরিক্ত অর্থ ১ হাজার ৪২৪ কোটি টাকা কমেছে। ২০১৮ এর ৩০ সেপ্টেম্বর শেষে পূর্ণাঙ্গ ইসলামী ব্যাংকিংয়ে অতিরিক্ত অর্থের পরিমাণ ৪ হাজার ২৫৩ কোটি টাকা। এর আগের প্রান্তিকে অর্থাৎ জুন শেষে অতিরিক্ত অর্থের পরিমাণ ছিল ৫ হাজার ৬৭৭ কোটি টাকা। অতিরিক্ত অর্থ ২৫.০৯ শতাংশ কমেছে। ২০১৭ এর সেপ্টেম্বর শেষে পূর্ণাঙ্গ ইসলামী ব্যাংকগুলোর কাছে অতিরিক্ত অর্থ ছিল ৫ হাজার ৭১৮ কোটি টাকা। গতবছরের তুলনায় কমেছে ১ হাজার ৪৬৫ কোটি ৬২ লাখ টাকা অর্থাৎ ২৫.৬২ শতাংশ।

প্রতিবেদনে যদিও দেখানো হয়েছে, ৩০ সেপ্টেম্বর শেষে ইসলামী ব্যাংকিংয়ে আমানত সংগ্রহের পরিমাণ ৩ হাজার ৫৬ কোটি ৬৪ লাখ টাকা অর্থাৎ ১.৩৬ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ২ লাখ ২৭ হাজার ৮১৪ কোটি টাকা। ৩০ জুন শেষে আমানতের পরিমাণ ছিল ২ লাখ ২৪ হাজার ৭৫৭ কোটি টাকা। ২০১৭ এর সেপ্টেম্বর শেষে আমানতের পরিমাণ ছিল ২ লাখ ৪ হাজার ৭ কোটি টাকা। গত বছরের তুলনায় আমানত বেড়েছে ২৩ হাজার ৮০৭ কোটি টাকা অর্থাৎ ১১.৬৭ শতাংশ।

আমানতের দিক দিয়ে শীর্ষে রয়েছে ইসালামী ব্যাংক (৩৫.৩১ শতাংশ), ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক (১৩.৫৬ শতাংশ), আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক (১২.২৩ শতাংশ), এক্সিম ব্যাংক (১১.২৭ শতাংশ), সোশ্যাল ইসলামী (৯.৩১ শতাংশ), শাহজালাল ইসলামী (৭.২৩ শতাংশ) এবং আইসিবি ইসলামী ব্যাংক (০.৫০ শতাংশ)।

এদিকে ৩০ সেপ্টেম্বর শেষে ইসলামী ব্যাংকিংয়ে বিনিয়োগের পরিমাণ ৩ হাজার ৫১৫ কোটি ৭২ লাখ টাকা অর্থাৎ ১.৬২ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ২ লাখ ২০ হাজার ৩৪৩ কোটি টাকা। ৩০ জুন শেষে বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ২ লাখ ১৬ হাজার ৮২৭ কোটি টাকা। ২০১৭ এর সেপ্টেম্বর শেষে বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৯৩ হাজার ২৪৪ কোটি টাকা। গত বছরের তুলনায় আমানত বেড়েছে ২৭ হাজার ৯৮ কোটি টাকা অর্থাৎ ১৪.০২ শতাংশ।

বিনিয়েগের দিক দিয়ে শীর্ষে রয়েছে ইসালামী ব্যাংক (৩৪.৮৫ শতাংশ), ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক (১৩.০৮ শতাংশ), এক্সিম ব্যাংক (১২.৬৪ শতাংশ), আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক (১১.১৩ শতাংশ), সোশ্যাল ইসলামী (১০.১১ শতাংশ), শাহজালাল ইসলামী (৭.৯৫ শতাংশ) এবং আইসিবি ইসলামী ব্যাংক (০.৩৯ শতাংশ)।

অতিরিক্ত অর্থ কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, ঋণ বিতরণের তুলনায় আমানত সংগ্রহে প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ায় ইসলামী ব্যাংকগুলোর কাছে অতিরিক্ত অর্থ কমে গেছে।

জানা যায়, দেশে বর্তমানে ব্যাংকগুলোতে নগদ অর্থের তীব্র সঙ্কট রয়েছে। এমন অবস্থায় আমানত টানতে ব্যাংকগুলো সুদ বাড়িয়ে দেয়। আর এ কারণে ঋণে সুদের হার বেড়ে যায়। এতে বিপাকে পড়ে ব্যবসা-বাণিজ্য। তাই সরকার ও ব্যাংকমালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) উদ্যোগে সুদহার নির্ধারণ করে গত জুলাই থেকে আমানতে ৬ শতাংশ ও ঋণে ৯ শতাংশ সুদের ঘোষণা দেয় ব্যাংকগুলো। এ সময় সরকারি প্রতিষ্ঠানের আমানতের সুদহারও ৬ শতাংশ ঠিক করে দেওয়া হয়।

ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, বিএবির সিদ্ধান্ত মেনে যারা আমানতের সুদহার কমিয়ে দেয়, তারা আমানত হারায়। নতুন আমানত আসাও কমে যায় ওই ব্যাংকগুলোতে। পরের মাসেই আবার তারা আগের সুদহারে ফিরে যায়। ফলে বিএবির সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হয়নি, বরং আর্থিক খাতে সংকট বাড়িয়েছে। আর আমানত নিয়ে এমন টানাটানির প্রভাব ইসলামী ব্যাংকগুলোর আমানতের উপর পড়েছে।

 

শেয়ারবাজারনিউজ/আ

 

 

আপনার মন্তব্য

Top