আতঙ্কের কিছু নেই

আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ঢিমেতালে চলছে পুঁজিবাজার। টানা দরপতনের পাশাপাশি দৈনিক লেনদেন নেমে এসেছে ৫০০ কোটির নিচে। আইসিবিসহ অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সক্রিয়তার অভাবে গতিশীল হচ্ছে না পুঁজিবাজার। বেশিরভাগ পোর্টফোলিও ম্যানেজার ও বড় ব্যক্তি বিনিয়োগকারীরাও বাজারে বিনিয়োগের চেয়ে পর্যবেক্ষণে বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন। যে কারণে বার বার ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও ব্যাহত হচ্ছে পুঁজিবাজার। বড় শেয়ারের কোম্পানির চেয়ে এখন ছোটো মূলধনী কোম্পানিই যেন লাভের একমাত্র ভরসা। যে কারণে লো-পেইড আপ কোম্পানিগুলোর শেয়ার দর ফুলে ফেঁপে উঠলেও তলানিতে পড়ে রয়েছে বড় শেয়ারের কোম্পানি।

অবশ্য বোনাস শেয়ার দিতে দিতে কিছু কোম্পানির শেয়ার এতো বেশি বাড়ানো হয়েছে যে এসব কোম্পানির কাছ থেকে আর কখনোই ক্যাশ ডিভিডেন্ড আশা করা যাবে না। নামকরা কোম্পানির শেয়ার দর কমতে কমতে ফেসভ্যালুর নিচে চলে এসেছে। একসময় পুঁজিবাজারে স্টক ডিভিডেন্ড নেওয়ার জন্য বিনিয়োগকারীরা মুখিয়ে থাকলেও বর্তমানে তার বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে। হুজুগ,গুজব, আগাম তথ্য ছড়িয়ে শেয়ার দর বাড়ানো এখন রেগুলার প্রাকটিসে পরিণত হয়েছে। এক সময়ের বাজার বিশ্লেষক এখন শুধু আইটেম নিয়ে বিশ্লেষণ করেন। সব মিলিয়ে পুঁজিবাজার এখন জগা খিচুড়িতে তৈরি হয়েছে।

নির্বাচনের আগে বিভিন্ন জায়গা থেকে নতুন ফান্ড প্রবেশের সম্ভাবনা থাকলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। তবে বর্তমান বাজার নিয়ে আতঙ্কের কিছু নেই বরং সম্ভাবনা দেখছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, যেহেতু ডিসেম্বর ক্লোজিং চলে আসছে,তাই এখন মার্কেট ঢিমেতালে চলছে। তবে ২০ ডিসেম্বরের পর থেকে মার্কেটে এক ধরণের স্বয়ংক্রিয় পজেটিভ ট্রেন্ড থাকবে। কারণ ব্যাংকগুলোর পোর্টফোলিওতে যেসব কোম্পানির শেয়ার লোকসানে রয়েছে সেগুলো কিনে সমন্বয় করতে হবে। এতে বাজারে নতুন ফান্ড আসবে। এছাড়া চলতি মাসের শেষের দিকে আসন্ন নির্বাচনের আমেজ পড়তে পারে। যার ফলে পুঁজিবাজারে গতিশীলতা ফিরে আসার প্রত্যাশা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

শেয়ারবাজারনিউজ/ম.সা

আপনার মন্তব্য

Top